Skip to main content

Posts

Showing posts with the label Novel

কাগা সিরিজ - ম্যালিস - কেইগো হিগাশিনো । Malice from Kaga series by Keigo Higashino

  অবশেষে ম্যালিস পড়া শেষ করলাম। কী নেই এখানে? গোয়েন্দা থ্রিলার জনরার মাঝেই যে সমাজের বাস্তব চিত্র, মেটাফোরিক ওয়েতে সত্য জানানো, সমস্যার সমাধানের পথ দেখানো যায় তা কেইগো হিগাশিনো বারবার প্রমাণ করেছেন। যেখানে আমরা ভাবি থ্রিলার শুধু ফোকাসড থাকবে থ্রিলের উপরে অন্য কোনো বিষয়ে নয়, সেখানে হিগাশিনো চলেছেন ভিন্ন পথে৷ একদিকে চরিত্র তৈরিতে মুনশিয়ানা, সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরা, আর তার উপর দিয়েছেন টুইস্টের উপর টুইস্ট৷ যেনো পাঠককে বোঝাতে চেয়েছেন বাস্তবতার চেয়ে বড়ো কোনো টুইস্ট দুনিয়ায় নেই৷ ম্যালিসের মধ্যে তিনি আলাপ করেছেন সাহিত্য নিয়ে৷ জি সাহিত্য নিয়ে৷ এরপর প্রেম কেমন হয় তা তুলে ধরেছেন। ভালোবাসার জন্য বিসর্জনের কথা তুলে ধরেছেন অবলীলায়৷ যেকোনো ঘটনার জন্য অতীত কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা তুলে ধরেছেন৷ একজন লেখক চাইলেই জাতিকে সঠিক অথবা ভুল পথে পরিচালিত করতে পারেন তাও প্রমাণ করে দেখিয়েছেন এই ভদ্রলোক। অর্নব কবিরের অনুবাদের সাথে এটাই প্রথম পরিচয়৷ আনন্দ পেয়েছি। মুগ্ধ হয়েছি। এমন সরল অনুবাদ করেছেন যে মনে হচ্ছিলো বাংলার কোনো মৌলিক বই। তবে শেষ দিকে বানান ভুল এবং প্রিন্টিং মিস্টেক একটু বেশি। শিরোনাম এদিকে নজর দেয় ...

নতুন চারটি বই ।

  বই নিয়ে আলাপ করার সঠিক সময় এখনও এসেছে কিনা জানিনা৷ ব্যক্তিগতভাবে এখনো কিছুটা বিষণ্ণ৷ তবে যেহেতু বই চলে এসেছে তাই প্রাপ্তি পোস্ট দিয়ে রাখা ভালো। ইচ্ছে ছিলো গত কয়েকমাসের নতুন কালেকশনগুলো নিয়ে একটা ভিডিও বানাবো। আপাতত তা হচ্ছে কিনা জানিনা। "আশিয়ানী" পড়বো তাই আগে ভাগে ফ্যান্টাসি জনরার সাথে পরিচিত হতে বিবলিওফাইল প্রকাশনীর "বিবলিও ফ্যান্টাসি" নিয়েছি৷ সেই সাথে শিরোনাম প্রকাশনীর "ম্যালিস" এবং "জাস্ট ওয়ান মোর লাই" বই দুটি নতুন এসেছে৷ সেগুলো নিয়েছি। আর জ্ঞানের পরিধি একটু বাড়াতে রাহনুমা প্রকাশনীর "শিয়া মতবাদ ধারণা ও বাস্তবতা" নিয়েছি। বইটা সিলেক্ট করার কারণ রাগিব সারজানি৷ তাকে সত্যান্বেষী ইতিহাসবিদ বলেই মনে হয়৷ সমস্ত বই এসেছে বইবাহন - Boibahon থেকে।

কাগা সিরিজ - দ্য ফাইনাল কার্টেইন । কেইগো হিগাশিনো । অনুবাদ সালমান হক । কাগা সিরিজের ১০ম বই । Kaga series - The Final Curtain by Keigo Higashino . Bengali translated by Salman Haque . Tenth book of the series .

  কাগা সিরিজের শেষ বই "দ্য ফাইনাল কার্টেইন।" সিরিজটির দশম বই এটি। একটা প্রপার এন্ডিং যেভাবে দরকার সেভাবেই দিয়েছেন কেইগো হিগাশিনো। একটি গলে যাওয়া লাশের সন্ধান পায় পুলিশ৷ পরবর্তীতে জানা যায় নামকরা অভিনেত্রীর বান্ধবী সে৷ ওদিকে একটা ব্রীজের পাশে মারা যায় এক পাগল। এ খুনগুলো কে করলো? ওদিকে কাগার ধারণা তার পারিবারিক সংযোগ আছে এই খুনের সাথে। কীভাবে? এগুলো নিয়েই সাজানো দ্য ফাইনাল কার্টেইন। কাগার মনে একটা প্রশ্ন সবসময়ই ঘুরতো। সেই প্রশ্নের জবাবও পাওয়া যায় এখানে৷ পাওয়া যায় কাগার পরিবারের আদি অন্ত। তার মায়ের ব্যাপারে জানা যায় তথ্য। এই বইয়ে যতগুলো টুইস্ট দেয়া হয়েছে তা এর আগের কাগা সিরিজের বই (৪টা) এর একটাতেও পাইনি। মাথা হ্যাং হয়ে গিয়েছিলো। প্রচুর চরিত্র৷ প্রচুর টুইস্ট৷ অনুমানের বাইরের বিষয় আরকি। কেইগো হিগাশিনো বেস্ট থ্রিলার লেখকদের মধ্যে অন্যতম। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই৷ শুধুমাত্র গোয়েন্দাগিরি, মারকাট ইত্যাদিতেই ডুবে না থেকে তুলে ধরেন সমাজের বাস্তব চিত্র। তুলে ধরেন নানা দর্শন৷ এই বইটা পড়ে পাঠকের সে বিষয়টি আরও একবার মনে পড়বে৷ প্রোডাকশন-প্রচ্ছদ সুন্দর। তবে সম্পাদনা হয়নি৷ হলেও ভালো হয়নি। অন...

সূর্যের দিনে হুমায়ূন আহমেদের বড়ো ভুল!

  সূর্যের দিন উপন্যাসটিতে হুমায়ূন আহমেদ একখানা বড়ো ভুল করেছেন৷ঐতিহাসিক এক বক্তব্যকে বিকৃত করে ফেলেছেন৷ সম্ভবত ব্যাপারটাকে তেমন গুরুত্ব দেননি৷ অথবা খেয়াল করেননি৷ এই ভুল আহামরি ভুল হতো না, যদি উপন্যাসটি কিশোর উপন্যাস না-হতো৷ মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা এই উপন্যাসটি সেরা একটা উপন্যাস হয়তো৷ আর ঠিক এ-কারণেই এই ভুলটিকে সিরিয়াসলি নিতে হচ্ছে৷ বিশেষ করে ন্যারেটিভের তাগিদে৷ কেননা এর সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার একটা সূক্ষ্ম প্যাঁচ আছে৷ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ দিয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। ঐ ভাষণের এক অংশ তুলে ধরতে গিয়ে হুমায়ূন আহমেদ লিখেছেন - " আমি যদি তোমাদের মাঝে........... বাংলাকে মুক্ত করে ছাড়ব ইংশাআল্লাহ।" (পৃষ্ঠার ছবি পোস্টে সংযুক্ত) উল্লেখ্য তিনি এখানে যে "বাংলা" মুক্ত করার কথা তুলেছেন, আমার জানামতে ঐ ভাষণে এমন কথা ছিলো না৷ বরং ছিলো "....এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইংশাআল্লাহ৷" দুইটা কথার মাঝে তফাৎ বৃহৎ। কেননা প্রথম বয়ান দ্বারা সরাসরি যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা ফুটে উঠে৷ নতুন দেশ তৈরির কথা ফুটে উঠে৷ অথচ আমার জানামতে তখনও নেগোসিয়েশন চলছ...

বোতল ভূত - হুমায়ূন আহমেদ । কিশোর উপন্যাস । Botol Bhut by Humayun Ahmed . Novel

  হুমায়ূন আহমেদ লিখিত কিশোর উপন্যাস "বোতল ভূত।" কাকলী প্রকাশন কর্তৃক প্রকাশিত কিশোর সমগ্রের প্রথম উপন্যাস এই বোতল ভূত। ( সপ্তম মুদ্রণ, জানুয়ারি ২০০৬) আমার মাথায়ও একটি ভূত চাপলো। ভয়ানক ভূত। ভূতের ইচ্ছা এই বয়সে এসে কিশোর পড়তে হবে৷ বেশ দ্বিধাতেই ছিলাম যে, এখন কিশোর উপন্যাস পড়ে পরিপূর্ণ মজা পাওয়া যাবে কিনা৷ লেখক হুমায়ূন আহমেদ বলেই সাহস করলাম৷ ভদ্রলোকের লেখা সহজ সাবলীল হওয়ায় যেকোনো ধাঁচের লেখাই পড়ে তৃপ্ত হওয়া যায়। বোতল ভূত সেরা একটি কিশোর উপন্যাস৷ বোতলের মাঝে ভূত থাকে। বাচ্চা ভূত৷ বড়োরা কেউ বিশ্বাস করলেন না এর মাঝে ভূত আছে৷ কিন্তু বাচ্চা ভূত এমন সব কাণ্ড ঘটালো যাতে বিজ্ঞানের ছাত্রী অরু আপারও মাথা খারাপ হয়ে গেলো৷ তবুও তিনি মানলেন না বোতলে ভূত আছে৷ কারণ সায়েন্সে পড়লে সব অবিশ্বাস করতে হয়৷ মুনির, হুমায়ূন, বড় চাচা, নকল রবিঠাকুর, অঙ্ক স্যার, বগা ভাই এরাই মূলত মূল চরিত্র৷ আরেকটা শয়তান ছেলে আছে৷ শিক্ষক কাউকে মারলে সে খুব খুশি হয়৷ তার নাম ভুলে গেছি। একটা পার্ফেক্ট কিশোর উপন্যাসে যেসব উপকরণ থাকা জরুরি তার সবই এখানে আছে৷ বাচ্চাদের বক্তব্যগুলো খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন গল্পকথক। যেমন - দুন...

শেষের কবিতা - রবীন্দ্রণাথ ঠাকুর । Shesher Kobita by Rabindranath Tagore

  বইখানা পড়া শেষ করতেই দু:খ অনুভব করতে লাগলাম৷ রবীন্দ্রনাথ চেয়েছেনই দু:খ দিতে, তাইতো সাজিয়েছেন এমন গল্প যা ছুঁয়ে যাবে পাঠকের হৃদয়৷ গল্পটা প্রেমের৷ জীবনে কোনো মেয়ের প্রেমে না পড়া অমিতও একসময় প্রেমে পড়ে যায় লাবণ্যের৷ কারোই বিশ্বাস হয় না অমিতের মতো একটা ছেলে আবার প্রেমেও পড়তে পারে৷ অমিত অতিরিক্ত কথা বলে৷ নিজেকে যুক্তি তর্কে জেতাবার চেষ্টা করে। সফলও হয়৷ অনেকেই অমিতের অমন রঙঢঙের কথাবার্তায় গলে যায়৷ অমিত লাবণ্যকে পেতে কথার আসর বসায়৷ তাতে কাজ হয় অবশ্য৷ ওদিকে লাবণ্য আবেগের পাশাপাশি রেখেছে বিবেককেও৷ রবী ঠাকুর তার মাঝে নারীর প্রতিনিধিত্ব করা গুণাবলি ফুটিয়ে তুলেছেন৷ শত প্রেমের মাঝেও নারীরা ভবিষ্যত নিয়ে ভাবে, বাস্তবতা চিন্তা করে। অমিত লাবণ্যের প্রেম যখন তুঙ্গে তখনই লাবণ্যের কাছে একটা চিঠি আসে। এরপরই উল্টেপাল্টে যায় সব। ভাবনায় যা থাকে, গল্পে তার ছাপ নেই৷ এরপর বলে কয়ে গল্পের ইতি ঘটে৷ কিন্তু কি ছিলো সেই চিঠিতে? কে পাঠালো সে চিঠি? রবী ঠাকুর প্রেম নিয়েই লিখেছেন বইটি। প্রতিটি কথার সাথে সাথে উদাহরণ জুড়ে দেয়া। শিখিয়েছেন কবিতার নানান দিক৷ শিখিয়েছেন যুক্তি৷ সেইসাথে নিজেই করেছেন নিজের কবিতার সমালোচনা। যা...

কারমিল্লা - জোসেফ শেরিড্যান লে ফানু । বাংলা অনুবাদ লুৎফুল কায়সার। Carmilla by J. Sheridan Le Fanu

কারমিল্লা হলো একটি স্লো বার্ন হরর উপন্যাসিকা। লিখেছেন জোসেফ শেরিড্যান লে ফানু৷ ভ্যাম্পায়ার হররে জনপ্রিয় উপন্যাস "ড্রাকুলা" বইটির অনুপ্রেরণা হিসেবে ছিলো এই "কারমিল্লা।" এই উপন্যাসটিকে নারী ভ্যাম্পায়ারের পথিকৃৎ-ও বলে থাকেন অনেকে৷ বইটির বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেছে বেনজিন প্রকাশন। অনুবাদ করেছেন লুৎফুল কায়সার৷ লুৎফুল কায়সারের নাম-ডাক শুনলেও তার অনুবাদের সাথে আমার পরিচয় ছিলো না। এই অনুবাদটির মাধ্যমে লুৎফুল কায়সারের অনুবাদের সাথেও পরিচয় হয়। এক কথায় অসাধারণ অনুবাদ৷ যেখানে বর্তমানের কিছু অনুবাদ পড়ে খালি-খালি মনে হচ্ছিলো, বিরক্ত হচ্ছিলাম সেখানে এই ভদ্রলোকের অনুবাদ একেবারে সাবলীল। অনুবাদ তো সেরা-ই সেইসাথে পাঠককে আটকে রাখার জন্য যত উপকরণ দরকার তার সবটুকুই ঢেলেছেন লুৎফুল কায়সার৷ একটু সময়ের জন্যও বিরক্ত হইনি। লরা নামের একটা মেয়ের গল্প। তার কোনোকিছুর কমতি না থাকলেও একটি দু:খ তার মাঝে ছিলো। তার সমবয়সী কোনো বন্ধু নেই। তার উপর বলতে গেলে এক জনমানবহীন এলাকায় তার বসবাস। কিন্তু এই দু:খ বেশিদিন রইলো না। এক পূর্ণিমার রাতে তার প্রাসাদে আসে একটি মেয়ে। মেয়েটি অসুস্থ থাকায় তাদের বাড়িতে আশ্রয় দেয়...

দ্য গার্ল হু লেপ্ট থ্রু টাইম - ইয়াশুতাকা শুতশুই । The Girl Who Leapt Through Time by Yasutaka Tsutsui [ Toki Wo Kakeru Shoujo ]

ইয়াশুতাকা শুতশুই এর জনপ্রিয় একটি উপন্যাস "The Girl Who Leapt Through Time". এই নামে একটি Anime-ও আছে৷ এই বইটির বাংলা অনুবাদ বের করেছে প্রিমিয়াম পাবলিকেশন৷ অনুবাদক এ.এস.এম রাহাত। অনুবাদক শুরুতেই একটা বড়ো ভুল করে ফেলেছেন। আগে সেটুকু আলাপ করি, এরপর বইয়ের আলাপে ফিরছি। পৃষ্ঠা নং ০৫, অনুবাদকের কথায় অনুবাদ বলেছেন বইটির ক্যাটাগরি থ্রিলার৷ থ্রিলার তার পছন্দের জনরা৷ তবে মজার ব্যাপার হলো বইটার জনরা থ্রিলার না৷ বরং সাইফাই৷ সাইফাই থ্রিলার বললেও কিছুটা মানা যেতো৷ শুধু থ্রিলার দ্বারা যা বোঝায়, আদতে এই বই তেমন নয়৷ এই বইকে রোম্যান্টিক বললেও মানা যায়৷ তবে থ্রিলার কোনো ক্রমেই মানা যায় না৷ গল্পটা কাজুকোর৷ একটা মেয়ে৷ একদিন স্কুলের লাইব্রেরিতে একটা ছায়া দেখতে পায়৷ কালো ছায়াটির পিছু নিয়ে সামনে এগোয়। হঠাৎ ল্যাভেন্ডারের ঘ্রাণ পায়। এরপর থেকেই অদ্ভুত সব কাণ্ড ঘটে। আচমকা অনুধাবন করতে পারে সে একদিন পেছনে ফিরে গিয়েছে। যা কিছু ঘটবে তা সে আগে থেকেই জানে৷ অর্থাৎ সে বর্তমান থেকে একদিন পেছনে টাইম ট্রাভেলের মতো করেছে৷ সে ভাবলো এটা মনে হয় তার মাঝে থাকা কোনো বিশেষ শক্তি। তবে আদতে কি তাই? উহু! তাহলে? কালো ছায়াটি...

হত্যাকারী কে? পাচকড়ি দে । Who is the murderer? by Pachkori dey

  কে বলেছে আগের গোয়েন্দা উপন্যাস গুলোতে থ্রিল থাকে না? পাঠককে মাতিয়ে রাখতে পারে না? বাংলা ভাষায় গোয়েন্দা উপন্যাস জনরার শুরুর আমলে যারা লিখতেন তাদের মধ্যে "পাঁচকড়ি দে" অন্যতম। তারই এক অসাধারণ সৃষ্টি "হত্যাকারী কে?" উপন্যাসিকাটি৷ এটাকে উপন্যাস বলবো নাকি উপন্যাসিকা বলবো? হবে কিছু একটা৷ সে আলাপে যাবো না। গল্পটা যোগেশের। সে ভালোবাসতো লীলাকে। অথচ লীলার বিয়ে হলো অন্য ছেলের সাথে। তার নাম শশিভূষণ। সে মদ খেয়ে মাতাল হয়ে লীলাকে ভয়াবহ অত্যাচার করে। যোগেশের সহ্য হয় না৷ খারাপ লাগে৷ যোগেশ শশিকে বোঝায় বউকে মারতে নেই। শশি বোঝে৷ কিন্তু মাতাল হয়ে আবার মারে৷ একসকালে লীলার ভাই খবর পাঠায় লীলাকে খুন করেছে শশি৷ পুলিশ গ্রেফতার করেছে৷ শশি আকুতি করে যোগেশের সাথে দেখা করার জন্য। দেখা হলে কান্নাকাটি করে জানায় সে লীলাকে খুন করেনি। যোগেশেরও কেন যেনো তাই মনে হয়। সে নামকরা ডিটেক্টিভ অক্ষয় বাবুকে ভাড়া করেন। অক্ষয় বাবু চিন্তিত হয়ে ভাবেন - "শশি যদি হত্যা না করে থাকে, তাহলে হত্যাকারী কে?" মূল টুইস্ট নিয়মিত থ্রিলার পাঠকরা কিছুক্ষেত্রে ধরতে পারলেও বিভ্রান্ত হয়ে যাবেন। শেষদিকে এমনভাবে টুইস্ট দেয়া...

মিসমিদের কবচ - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় । Mismider Koboch by Bivutivushon

  বাংলা সাহিত্যে গোয়েন্দা থ্রিলার জনরা কিন্তু নতুন নয়৷ বরং অনেক আগে থেকেই এই জনরার চর্চা করেছেন সাহিত্যিকগণ৷ পাঁচকড়ি দে, রবীন্দ্রণাথ, প্রিয়ণাথসহ আরও অনেকেই অবদান রেখে গিয়েছেন এ জনরায়৷ গোয়েন্দা জনরায় নিজের চিহ্ন রাখতে ভোলেননি বিভুতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। লিখেছেন মিসমিদের কবচ। মাস্টারপিস বা সেরা না-বলা গেলেও, ভালো চেষ্টা বলা যায়৷ অন্তত সময়কাল হিসেব করলে এই বইকে দূর্দান্ত বলতে হবে। রেগুলার যারা থ্রিলার পড়েন তারা আগেই বুঝে ফেলবেন সবকিছু। তবে আশাহত হওয়ার কিছু নেই৷ কারণ লেখক বিভুতি বাবু নিজের লেখার জাদু মূগ্ধ করবেই। খ্যাতিমান গোয়েন্দা মি.সোমের ছাত্র সুশীল। তার মামার বাড়িতে বেড়াতে গেলে পরিচয় হয় কৃপণ গাঙ্গুলীমশাই এর সাথে। কিছুদিন পর সুশীল জানতে পারে গাঙ্গুলীমশাইকে খুন করা হয়ে। তদন্তের দায় পড়ে সুশীলের উপর। সুশীল তদন্ত শুরু করে৷ কিন্তু হত্যার অনেকদিন পার হয়ে যাওয়ায় তেমন কোনো আলামত পাওয়া যায় না৷ তবুও রাতে খুঁজতে খুঁজতে একটা কবচ পাওয়া যায়৷ খুনের সাথে কী এই কবচের কোনো সংযোগ আছে? এরপর একরাতে সুশীলকে হত্যার চেষ্টা করে কেউ একজন৷ এরকারনই-বা কী? সুশীল থাকাকালীনই এসেছে নতুন গোয়েন্দা। কিন্তু কেন? গল্প ...

স্বামী - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় । Husband [Shawami] by Sharatchandra Chattyapadhyay

শরৎচন্দ্রের লেখার মাঝে অনেক শিক্ষা থাকে৷ তবে ঐ শিক্ষা দেয়ার ধরন এত মজাদার, স্বাদযুক্ত যে পাঠক নিজের অজান্তেই পুরোটা গিলে ফেলে৷ এই ধরুন স্বামী বইটির কথা৷ সৌদামিনী চরিত্রটাকে এমনভাবে তৈরি করেছেন যেনো মনে হয় আমিই সৌদামিনী৷ সৌদামিনীই এই গল্পের গল্প কথক৷ শরৎচন্দ্র জাদুমাখা লেখার মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন বাবা মায়ের পর একজন নারীর আপন হলো তার স্বামী৷ অন্য কেউ না৷ এই একটা বিষয় বোঝানোর জন্য কতরকম উদাহরণ যে ভদ্রলোক টেনেছেন তা বলার বাইরে৷ সৌদামিনীর প্রেম ছিলো, তারপর বিয়ে হলো অন্য কারো সাথে, আগে যেহেতু প্রেম ছিলো তাই স্বামীর প্রতি বিতৃষ্ণা আসে৷ এরপর ধীরে ধীরে যখন স্বামীর প্রতি ভালোবাসা জন্মায় তখন আমার প্রেমিক এসে কাঁদে৷ এরপর সৌদামিনীর কী ঘটে তা জানতে হলে বইটা পড়তে হবে৷ অবশ্য বইয়ে লেখার স্বাদ এতই ভালো যে, পুরো স্পয়লার দিয়ে দিলেও আপনার পড়তে মন চাইবেই। এই গল্পের আড়ালে শরৎ সাহেব নাস্তিকদের নাস্তানাবুদ করেছেন৷ না, কোনো জবাব তিনি দেননি। তবে ট্রল করেছেন মন মতো৷ একজন গ্রাম্য মানুষের চরিত্রে কী যৌক্তিক আলোচনা খাটে? খাটে না বিধায়ই গ্রাম্য ব্যক্তির মতোই নাস্তিককে নিয়ে কটাক্ষ করেছেন শরৎ সাহেব। মূলত সৌদামি...

হারুকি মুরাকামির অদ্ভুত লাইব্রেরি । Strange Library by Haruki Murakami

হারুকি মুরাকামির লেখা মানেই মেটাফোরে ভরা কলসি। একটা সুন্দর গল্প বলে যাবে। গল্প শেষে আবার চিন্তায় ফেলে দেবে গল্পের আসল উদ্দেশ্য কী তা নিয়ে। এত চমৎকার মেটাফোরের সাথে গল্প লিখে যাওয়া বোধহয় মুরাকামির দ্বারাই সম্ভব। একটা ছেলে লাইব্রেরিতে বই পড়তে লাইব্রেরিতে গিয়ে আটকে যায় এক গোপন কক্ষে। যেটা মূলত জেল। সেখানে তাকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। তাকে সময় দেয়া হয় একমাস। সে জানতে পারে একমাস পরেই তাকে মেরে ফেলা হবে। এরপর তার পরিচয় হয় মেষমানবের সাথে। আরেকটি বোবা মেয়ে। ছেলেটি কী পারবে এখান থেকে বের হয়ে যেতে? গল্পটা যেহেতু মেটাফোরের তাই ঘটনা যে যার মতো ভেবে নিতে পারবে। যাই হোক। এই বইটা প্রিমিয়াম পাবলিকেশনের। অনুবাদ কোয়ালিটি মিডিয়াম। বইয়ের অনেক পৃষ্ঠা জুড়ে ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। যা বিরক্তিকর লেগেছে। অনুবাদ আরেকটু ইম্প্রুভ করা যেতো বলে মনে হয়।

নাজিম উদ দৌলার প্রহেলিকা । Prohelika by Nazim ud doula

  লেখক নাজিম উদ দৌলার সাথে জার্নি শুরু করেছি তার লিখিত "প্রহেলিকা" উপন্যাসিকাটির মাধ্যমে৷ পড়া শেষ৷ একটি থ্রিলার মৌলিক উপন্যাসিকা৷ শহরে বাচ্চাদের লাশ পাওয়া যাচ্ছে। প্রত্যেকের মাথা ইট অথবা পাথর দিয়ে থেতলে দেয়া৷ অবাক করার বিষয় প্রতিটা লাশের পাশেই পাওয়া যাচ্ছে খুনির ব্যবহৃত জিনিসপত্র৷ খুনি কী তবে এতই বোকা? নাকি এর পেছনে আছে অন্য কোনো ঘটনা? থ্রিলার গল্পের মাঝেও লেখক প্রেমের ঘটনা কানেক্ট করেছেন৷ চরিত্রগুলোকে করেছেন সাবলীল। এছাড়া মূল আসামীর আসামী হয়ে ওঠার গল্পও তুলে ধরেছেন লজিকালি। বাঙালি গোয়েন্দা যেভাবে কথা বলে, ঠিক সেভাবেই কথা বলিয়েছেন তিনি। ফ্ল্যাশব্যাকের সাথে গল্পের কানেকশন ভালোই। তবে একটা বিষয় একটু অবাস্তব লেগেছিলো। কাহিনীর টুইস্টগুলো ভালো৷ মজাদার। সাসপেন্সওয়ালা টুইস্ট না হলেও, টুইস্টগুলো মজাদার৷ একেক চরিত্র, একেক বিশেষত্ব, একেক কাহিনী। পুরোটাকে একটা ডটে এনে মিশিয়েছেন নাজিম উদ দৌলা। আর সে ডটটি হলো "ভালোবাসা।" মূল আসামীকে ধরার অনেক আগেই বুঝে যাওয়া যায় আসামীকে। কয়েক লাইনের কথোপকথনে একটু ভালোমতো খেয়াল করলেই বোঝা যায়৷ এছাড়া সেখানে খুনীর একটা দূর্বলতার কথা অনেক বলে দেয়া...

দ্য রেড ফিঙ্গার - কেইগো হিগাশিনো । The Red Finger by Keigo Higashino

  " লাল আঙ্গুল " এর আগে পড়েছিলাম "টোকিওতে একটি হত্যা" বইটি। দুইটার মধ্যে ব্যবধান আকাশ আর পাতাল। গল্পের স্ট্রাকচার দুইটারই আলাদা। আমার বেশি ভালো লেগেছে "লাল আঙ্গুল" তথা "দ্য রেড ফিঙ্গার।" বইটার মধ্যে তুলে ধরা হয়েছে নানান বিষয়। তার মধ্যে অন্যতম মায়ের অতি আহ্লাদী স্বভাবের কারনে সন্তান নষ্ট হয়। বউয়ের শয়তানির ফাঁদে পড়ে স্বামীও শয়তান হয়ে যায়৷ আবার একই সাথে সন্তানের প্রতি মায়ের যত্ন, ভালোবাসা, স্নেহগুলো কেমন হয় তাও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। . সেই সাথে কিয়োচিরো কাগার পারিবারিক আলাপ করা হয়েছে এই বইয়ে৷ একই সাথে ফুটে উঠেছে মাতসুমিয়ার পরিচয়ও। দূর্দান্ত৷ এই বইটা শুরু হয় হত্যাকারীর পরিচয় দিয়ে দেয়ার মাধ্যমে। এরপর ধীরে ধীরে দেখানো হয় দুইটা পার্স্পেক্টিভ৷ কীভাবে গোয়েন্দাদের বোকা বানানোর চেষ্টা করা হয়৷ আবার গোয়েন্দারাও কীভাবে বোকা না হয়ে উলটো ফাঁদে ফেলেন সেসব বিষয়৷ খুনির পরিচয় দেয়া হলেও পুরো বই জুড়ে সাসপেন্স আর সাসপেন্স। কী হয় নাহয়, গোয়েন্দারা আদৌ সমীকরণ মেলাতে পারবে কিনা ইত্যাদি নানান বিষয়৷ এই বইটা আমার পড়া সেরা বইগুলোর মধ্যে একটি।

মিসির আলি আপনি কোথায়? Misir Ali where are you?

মিসির আলি হুমায়ূন আহমেদের এক দূর্দান্ত চরিত্র । ভদ্রলোকের কাজ সকল বিষয়ের লজিকাল ব্যাখ্যা দাঁড় করানো । তিনি এতে বেশ সফল । যারা মিসির আলিকে চেনে তারা জানে সকল অতিপ্রাকৃতিক , ভূতুড়ে সহ অস্বাভাবিক ঘটনার লজিকাল ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন তিনি । তবে মিসির আলিও কিছু ঘটনার ব্যাখ্যা হয়তো দিতে পারেন না ।  আজ পড়ে শেষ করেছি হুমায়ূন আহমেদ লিখিত মিসির আলি আপনি কোথায়  ? বইটি এখানকার ঘটনা হলো আয়নার জগত নিয়ে । মিসির আলি দেখলেন এই ঘটনার ব্যাখ্যা তিনি করতে পারছেন না । তার করা পরিক্ষার ফলাফল এলো তার বিপক্ষে । এরপর মিসির আলি ঢাকায় ফেরেন ।  কিছুদিন পর মিসির আলি জানতে পারেন, যারা ঐ আয়না ঘটনার সাথে সম্পর্কিত ছিলো তারা গায়েব । মিসির আলি আয়না কিনে ঘরে আনলেন । তার ধারণা কোনো একদিন ঐ দুজনকে দেখা যাবে আয়নায় । কেননা তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন যে , ঐ দুজনকে একত্রে থাকতে হবে প্রয়োজনে আয়নার জগতে গিয়ে থাকতে হবে । তবুও থাকতেই হবে । আমি একটু চিন্তিত । আমার ধারণা মিসির আলি কোনো কেইসই অসমাপ্ত রাখেন না । এই কেইসটিও রাখেন নি । হয়তো তিনি এই সমীকরণেরও সমাধান রেখেছেন যা আমি বুঝতে পারছি না । হুমায়ূন আহমেদ অনেক বিষয় এত সহজেই ল...

পুফি । হুমায়ূন আহমেদ

বইটা কেনার আগে নাম তেমন শুনিনি। সত্য বলতে খুঁজিও-নি। হুমায়ূন আহমেদের কিছু যেমন আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা পেয়েছে, তেমনি কিছু বই আবার আন্ডাররেটেড৷ অবশ্য হুমায়ূন আহমেদ যতগুলো বই লিখেছেন সবগুলো পড়ে মতামত জানানো হয়তো সকলের জন্য সম্ভব না৷ তাই কিছু বই থেকে যায় আড়ালে। "পুফি" বইটি ঠিক তেমন একটি বই। প্রচ্ছদ আর নাম দেখে ভেবেছিলাম শিশুতোষ কোনো উপন্যাস৷ বইয়ের ভেতরে নিজের নাম লিখে রেখেছে মুনতাকা। বাচ্চাসুলভ হাতের লেখা। তাই আমি শতভাগ নিশ্চিত হয়ে গেলাম বইটা শিশুতোষই। এরপর বই পড়া শুরু। শুরুতেই হুমায়ূন আহমেদের সতর্ক বার্তায় চোখ গেলো। সেখানে যা লেখা তার সারাংশ হলো, "বইটি বাচ্চাদের থেকে একশ' হাত দূরে রাখুন। এটা বাচ্চাদের বই না৷ বইয়ের কভার দেখেই বাচ্চাদের বই ভেবেছেন৷ আপনি আসলে মগা৷ কারন আপনি হুমায়ূনের দেয়া নামকে আক্ষরিক অর্থেই বিশ্বাস করেন।" গল্পটা একটা বিড়ালকে নিয়ে। তার নাম "পুফি"৷ এই পুফিকে উপহার হিসেবে পায় অনিকা৷ তার খুব পছন্দ এই বিড়াল। বিড়ালটাও বেশ সভ্য। অনিকার বাবার নাম জোয়ার্দার। জোয়ার্দারের বিড়াল অপছন্দ৷ শুধু বিড়াল না, যেকোনো পশু-পাখি তার অপছন্দ৷ কারন তিনি যখন ছোট তখন এক...

a death in tokyo । এ ডেথ ইন টোকিও

কিয়োচিরো কাগার সাথে একটা কেইস সলভিং জার্নিতে ছিলাম। মাতসুমিয়াও ছিলো সাথে৷ টোকিওতে একজনের খুন হয়েছে৷ কে করলো সেই খুন। কেনো করলো তা বের করতেই টোটো করা টোকিওর অলিগলিতে৷ কেইগো হিগাশিনোর বর্ণনাগুলো খুবই চমৎকার৷ কোনো চরিত্রকে ওভারহাইপও করেন নাই, আবার নিচেও নামিয়ে দেন নাই৷ এখন অবধি যতটুকু গোয়েন্দা রিলেটেড লেখা পড়া হয়েছে সেখানে মূল ডিটেকটিভরা থাকেন মাল্টিট্যালেন্টেড কেউ। তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে যাবতীয় সবকিছু একাই করেন৷ কিন্তু কেইগোর গল্পে ডিটেকটিভ থাকেন অনেকজন। তার মধ্যে কাগা একজন। বাকিদের থেকে তার আলাদা অভিজ্ঞতা এবং চিন্তাধারা কিছুটা শার্প। তার থেকেও মূল বিষয় কাগা তদন্তের শেষ প্রান্ত অবধি যেতে চান। এছাড়া কাগা মূল চরিত্র হওয়া সত্ত্বেও তার এন্ট্রি হয় খুবই ঠান্ডা ভাবে। নি:শব্দে বলা চলে। এরপরই ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় গল্প। মাতসুমিয়াও হেল্প করে অনেক। যখনই মনে করা হয় ইনিই বুঝি খুনি, তখনই দুইটা বিষয় ঘটে৷ হয় নতুন কোনো ক্লু বের হয়, নাহলে কোনো একটা ক্লু মিসিং৷ এরপর গল্প ও সন্দেহ অন্য দিকে যায়৷ আবার সেইম রিপিটেশন৷ কিন্তু শেষ অবধি গল্প এমন জায়গায় গিয়ে শেষ হয়, সেটা আমার মতো নবীন থ্রিলার পড়ুয়া কেউ ধরতে পারব...

উপহার

আমার জন্মদিনের আর মাত্র চারদিন বাকি তখন৷ "শিরোনাম প্রকাশনী" র একটা অফার শুরু হলো৷ কাগা সিরিজ ৫০% ডিসকাউন্টে৷ নেয়ার শখ হলো৷ তবে অর্থ ছাড়া শখ পূরণ হয় না। পকেট ফাঁকা ছিলো তখন। বন্ধুর পকেটের টাকা খসিয়ে দু'কাপ চা পান করার অওকাত ছিলো শুধু৷ এর বেশি কিছু না৷ মজার ছলে অফারের স্টোরি দিয়ে লিখেছিলাম, "কেউ চাইলে উপহার দিতে পারেন। সামনে আমার জন্মদিন।" স্বভাবতই হাহা'য় ভরে যায় স্টোরি। আমিও মজা নিতে থাকি৷ এরপর রিলস দেখে রাতে ঘুমাতে যাই৷ সে রাতে স্বপ্ন দেখেছিলাম কিনা মনে নেই৷ দু'দিন পর মোবাইলের নোটিফিকেশন বেজে উঠলো৷ আমি জানি ও-মেসেজে কোনো সিম কম্পানির অফারের কথা। তাই মেসেজ দেখিনি৷ একটুপর রিং বেজে উঠলো৷ দুলাভাই কল করেছেন৷ উনি সাধারণত কল করেন না৷ তাই জরুরি ভেবে কল রিসিভ করলাম৷ তিনি বললেন, - টাকা পাঠাইছি৷ গেইছে? - কিসির টাকা? - তোর জন্মদিনির জন্যি পাটাইছি। কি এট্টা বই কিনবি কলি৷ তাই। - আমিতো ঐতা মজা কইরে কইয়্যিছি৷ - তাতে কী? তুই বইটই পড়িস তাই তোরে দিলাম। আমি বাদে আমার আশপাশের কেউ বই পড়ে না৷ বই কিনলে উলটো খেতে হতো ঝাড়ি৷ সেখানে দুলাভাই হুট করে টাকা পাঠাবেন বই কেনার জন্যে ভাবত...