Skip to main content

Posts

Showing posts from July, 2026

আবারও কমরুদ্দিন

তুরাগের পাড়ে এসেছি৷ সন্ধ্যা নামার পরপর৷ সন্ধ্যা নামলেও আকাশে তখনো ভেসে বেড়াচ্ছিলো বিকেলের সাদা মেঘ। তারা যেনো দিনের কাজ চুকিয়ে ঘরে ফিরছে। মৃদু বাতাসে দুলছে ওয়াকওয়ে ঘেষে দাঁড়ানো গাছটা৷ আমি সে ওয়াকওয়ে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি পশ্চিমের পানে৷  ওয়াকওয়ের রেলিংয়ে বসে আছে স্থানীয় গ্যাং৷ কেউ সিগারেট ফুঁকছে৷ কেউ মোবাইলে গেম খেলছে৷ আর কেউ কেউ বর্ণনা দিচ্ছে একটু আগে হেঁটে যাওয়া একটা মালের। যদি কাছে পেতো, তবে কী করতো এটাই হলো তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু৷ উপস্থাপক বেশ রসিয়েই আলোচনা করছে, আর তার মজা নিচ্ছে ষোলো বছরের ছেলেপেলেরা। তাদের চোখ লাল, বড়ো বড়ো।  আমি এগিয়ে চলছি সামনের দিকে। একটু নিরিবিলি পরিবেশ চাই৷ যেখানে কোনো কোলাহল নেই৷ যেখানে কোনো শব্দ নেই৷ সেখানে দাঁড়িয়ে, গালে হাত দিয়ে বিষণ্ণ বুক নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকবো। আচমকা আকাশে ভেসে উঠবে পুরোনো স্মৃতি। প্রেমিকার হাসির কথা মনে পড়বে, মনে পড়বে একই বেঞ্চে বসে আড্ডা দেয়া বন্ধুর কথা। আরও কত কী মনে পড়বে! আকাশে আজ চাঁদ উঠেছে। পূর্ণিমার চাঁদ৷ লজ্জাবতী বৌ যেমন নিজের চেহারা আঁচলে ঢাকে, তেমন চাঁদও তার চেহারা ঢেকে ফেলছে মেঘের আঁচলে৷ যেনো সদ্য বিয়ে করা স্বামী...

দুধ চা

সাবের চৌধুরী ভাইয়েরা রঙ চা-কে যেভাবে গ্লোরিফাই করেন, আদতে আমার মনে হয় না রঙ চা এতটা মজাদার৷ ভদ্রলোক ভালো লিখতে পারেন, আবেগ মেশাতে পারেন বলেই নিজের পছন্দের রঙ চা-কে অবিশ্বাস্য রকম সুন্দর পানীয় হিসেবে তুলে ধরেছেন৷  আমি রঙ চা বিরোধী নই৷ এর ফজিলতের বিপক্ষেও নই৷ কিন্তু আমার পছন্দ দুধ চা৷ না, আমি রেসিস্ট না৷ সাদা কিছু পছন্দ হলেই মানুষ রেসিস্ট হয়ে যায় না৷  সাবের চৌধুরী ভাইয়েরা বলে থাকেন, রঙ চা-তে চা পাতার স্বাদ পাওয়া যায়৷ দুধ চায়ে যায় না৷ এই কথা সত্য নয়৷ আমি বলছিনা সাবের চৌধুরিই এমন কথা বলেছেন৷ আমি বলছি তাদের অনেকে এমন বলে থাকেন৷  দুধ চা-তে যে চা পাতার স্বাদ পাওয়া যায়, তা যারা নিয়মিত পান করেন তারা জানেন৷ তবে যারা কন্ডেন্স মিল্ক বা মেশিনের দুধ চা খান তারা বুঝতে পারবেন না৷ গুঁড়া দুধ বা খাঁটি গরুর দুধ হতে হবে৷ চিনি হতে হবে সামান্য৷ যারা চিনি খান না, তারা স্বাদটা ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবেন। যেমন আমি করি৷ বেশি একটা চিনি খাই না৷ মাত্র দেড় চামচ।  পরিমাণ ঠিকঠাক হলে চায়ের একটা তিতকুটে স্বাদ থাকবে, সাথে থাকবে চা পাতার ঘ্রাণ আর তার সাথে থাকবে দুধের মিষ্টি রঙ ও স্বাদ৷ আহা... সাবের ভাইয়...

ফুল

চলতে চলতে যখন সন্ধ্যা নামলো; লালিমায় ছেঁয়ে গেলো পশ্চিমের প্রাচীর। মৃদু বাতাসে দুলতে দেখি একটি ফুল; কৃষ্ণচূড়া।  উঠতে,বসতে,চলতে,ফিরতে চিন্তার সর্বাঙ্গে ছেঁয়ে গেছে, সে ফুলের মায়া।  তাই, সন্ধ্যা নামলেই ছুঁটে যেতাম তার ধারে,  সে দুলতো, স্নিগ্ধতা ছড়াতো যেনো গাইতো কোনো গান। সেবারের সন্ধ্যায় যেনো আমার মৃত্যু ঘটলো; ফুলটা যে নিয়ে গেছে ভিন্ন কেউ।

কবিতা - আমার ঘুম আহে না

জুলাই আইলেই হারায়া যায় আমার চোখের ঘুম। আমি যেনো জুলাইয়ের প্রতি রাইতে মিইশা যাই,  জাবিতে আটকায়া থাকা পোলাপাইনের সাথে৷  কারা যেনো গুলি ছোড়ে, ছোড়ে ইট পাটকেল; কারা যেনো ককটেল ছুইড়া  শব্দের ভূমিকম্প নামায়া দেয় ক্যাম্পাস জুইড়া৷  পেছনে তাকায়া দেখি, তীব্র ভয়ে থরথর কৈরা কাঁপতেছে একটা সাবালিকা মেয়ে৷  হয়তো তার ভীষণ কৈরা মনে পড়তেছে,  তার মায়রে কওয়া মিথ্যা কথা৷  জুলাইয়ের রাইতে,  ধকধক কইরা ওঠে আমার বুক৷  ছোট্ট চামুচ পইড়া যাওয়ার শব্দও  আমার কানে ইসরাফিলের শিঙ্গার শব্দের মতন লাগে৷  এই বুঝি দরজায় লাত্থি মাইরা কেউ বলবে,  শুয়োরের বাচ্চা দরজা খোল! আমি ভয় পাই, আমার গলা শুকায়ে যায়।  পানি খাইতে গিয়া দেখি জায়নামাজে মোনাজাত করে  এক বৃদ্ধা; তার চোখে জল৷  এই বৃদ্ধাকে আমি চিনি।  এতকাল ধইরা তারে আম্মা বইলা ডাকছি।  জুলাইয়ের রাইতে,  ভয়ে আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে মনে পইরা যায় একটা ষোলো বছরের পোলার কথা।  ধুলাবালিতে মাইখা আছে তার সফেদ শার্ট৷  এমনেতে তারে ডাকি টোকাই; তয় সেদিন মনে হইলো সে হইলো দেশ রক্ষার সেপাই! দৌড়ায়া দৌড়ায়া আমি...