Skip to main content

Posts

Showing posts with the label কবিতা

ফুল

চলতে চলতে যখন সন্ধ্যা নামলো; লালিমায় ছেঁয়ে গেলো পশ্চিমের প্রাচীর। মৃদু বাতাসে দুলতে দেখি একটি ফুল; কৃষ্ণচূড়া।  উঠতে,বসতে,চলতে,ফিরতে চিন্তার সর্বাঙ্গে ছেঁয়ে গেছে, সে ফুলের মায়া।  তাই, সন্ধ্যা নামলেই ছুঁটে যেতাম তার ধারে,  সে দুলতো, স্নিগ্ধতা ছড়াতো যেনো গাইতো কোনো গান। সেবারের সন্ধ্যায় যেনো আমার মৃত্যু ঘটলো; ফুলটা যে নিয়ে গেছে ভিন্ন কেউ।

কবিতা - আমার ঘুম আহে না

জুলাই আইলেই হারায়া যায় আমার চোখের ঘুম। আমি যেনো জুলাইয়ের প্রতি রাইতে মিইশা যাই,  জাবিতে আটকায়া থাকা পোলাপাইনের সাথে৷  কারা যেনো গুলি ছোড়ে, ছোড়ে ইট পাটকেল; কারা যেনো ককটেল ছুইড়া  শব্দের ভূমিকম্প নামায়া দেয় ক্যাম্পাস জুইড়া৷  পেছনে তাকায়া দেখি, তীব্র ভয়ে থরথর কৈরা কাঁপতেছে একটা সাবালিকা মেয়ে৷  হয়তো তার ভীষণ কৈরা মনে পড়তেছে,  তার মায়রে কওয়া মিথ্যা কথা৷  জুলাইয়ের রাইতে,  ধকধক কইরা ওঠে আমার বুক৷  ছোট্ট চামুচ পইড়া যাওয়ার শব্দও  আমার কানে ইসরাফিলের শিঙ্গার শব্দের মতন লাগে৷  এই বুঝি দরজায় লাত্থি মাইরা কেউ বলবে,  শুয়োরের বাচ্চা দরজা খোল! আমি ভয় পাই, আমার গলা শুকায়ে যায়।  পানি খাইতে গিয়া দেখি জায়নামাজে মোনাজাত করে  এক বৃদ্ধা; তার চোখে জল৷  এই বৃদ্ধাকে আমি চিনি।  এতকাল ধইরা তারে আম্মা বইলা ডাকছি।  জুলাইয়ের রাইতে,  ভয়ে আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে মনে পইরা যায় একটা ষোলো বছরের পোলার কথা।  ধুলাবালিতে মাইখা আছে তার সফেদ শার্ট৷  এমনেতে তারে ডাকি টোকাই; তয় সেদিন মনে হইলো সে হইলো দেশ রক্ষার সেপাই! দৌড়ায়া দৌড়ায়া আমি...

কবিতা - ফ্যাসিবাদের জন্য কাঁদে শাহবাগী । নাঈম খন্দকার রুম্মান ।

 ফ্যাসিবাদের জন্য কাঁদে শাহবাগী নাঈম খন্দকার রুম্মান শাহবাগীর ঐ কান্না দেইখা, হাইসা ওঠে খোদ বাকশালি। জুলুম কইরা, সন্ত্রাস বাহিনী বানায়া মুক্তিযোদ্ধা হত্যা কইরাও যে— একটা দেশের রাজা হওয়া যায়, খোদ বাকশালিও তা ভাইবা অবাক হয়। যুদ্ধের নয় মাস পলাইয়া থাইকা, স্বেচ্ছায় কারাবরণে কোরমা পোলাও খাইয়াও যখন জাতির মাথার তাজ হইয়া ওঠে, তখন খিলখিল করে হাইসা উঠে বাকশালি। তখন সে হয় জালেম, ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচার। ফ্যাসিজমের কথা লুকাইয়া, বাকশালির কথা লুকাইয়া, জুলুমের কথা লুকাইয়া, হুদা ছাত্র জমানার রাজনীতি টাইনা যখন নেতা বানানো হয় বাকশালিরে; তখন ভারত থেইকা ভাইসা আসে ফ্যাসিস্টের হাসি।

কবিতা - পলাতক হাসু । নাঈম খন্দকার রুম্মান ।

 পলাতক হাসু নাঈম খন্দকার রুম্মান প্রিয় হাসু , সেই যে তুমি হারিয়ে গেলে অজানায় এরপর আর তোমার হদিস পাইনি । কত করে খুঁজেছি তোমায়! ধানমণ্ডি ৩২ , সংসদ ভবন , গণভবন! অথচ তোমার দেখা পেলাম না । মাঝে মাঝে দেখি ভেসে আসে তোমার মৃদু কণ্ঠ , কাঁপা গলায় বলছো , ইউসুফের বিচার হবে । আমি মুগ্ধ হয়ে শুনি । হাসু , বলো না কোথায় হারিয়েছো? কবে ফিরবে? তোমার অপেক্ষায় যে আজও তাকিয়ে থাকি ধানমণ্ডির ৩২ এ।

কবিতা - স্মরণ । নাঈম খন্দকার রুম্মান ।

স্মরণ নাঈম খন্দকার রুম্মান যখন ঐ ফুল ভিঁজে যায় শিশিরের ফোঁটায় , কুয়াশায় নেমে যায় দৃষ্টির সীমা। তখনও কি ভুলে থাকো তাকে জোছনা রাতের সঙ্গী ছিলো যে? যখন নদী কলকল সুরে গায় গান, পাখা মেলে দেয় নৌকো । সাদা সারস ভেসে যায় আকাশের বুক চিড়ে। তখনও কী ভুলে থাকো তাকে অচেনা পথের সঙ্গী ছিলো যে ? তুমি কি সত্যিই ভুলে থাকো? নাকি স্মরণের উপযুক্তই মনে করোনি কখনো?

কবিতা - মীর জাফর । নাঈম খন্দকার রুম্মান ।

মীর জাফর নায়েম বেদাতি রক্তের উপর দাঁড়িয়ে করিস রক্তের সাথে গাদ্দারি, বেশ ধরেছিস যোদ্ধার তবে লুকিয়ে রাখিস তরবারি৷ ক্ষমতার ঐ গদিতে বসে ভুলে গিয়েছিস শহীদদের, শত্রু বনেছিস আমজনতার মিত্র হয়েছিস শত্রুদের৷ তোরা করলেই ন্যায় হয় সব মোরা করলেই মব, ভণ্ডামিকে লুকিয়ে রেখে পরেছিস তুই থব্। শাতিমকে শেল্টার দিস বন্ধ রাখিস জবান, ভোটের আগে মুসলিমদের ডাকিস বলে বাজান। শাহবাগী হয় কমরেড তোর মুসলিম তোর শত্রু৷ ভুলেছিস তুই ইতিহাস আজ ছিলি কার তুই পুত্র৷ স্বৈরাচারের চাটুকার যারা আজ তারা তোর বন্ধু। হাসপাতালে কাঁদছে শুয়ে আহত শিশু, পঙ্গু। তুই গাদ্দার, তুই বেঈমান লিখেছিস নাকি বই৷ শত্রু হাসে তোর নীতি দেখে আর খায় চিড়ে-দই। গাদ্দার তুই, লোভী চাটুকার করেছিস তুই বেঈমানি৷ দোহাই খোদার, বন্ধ কর ঐ জুলাই নিয়ে ভণ্ডামি৷ তুই মোনাফেক, তুই কাপুরুষ ভনিতা করিস বারবার। লিখে রেখেছি স্বর্ণাক্ষরে তুই জুলাইয়ের গাদ্দার৷

কবিতা - শিউলিমালার আপু । নাঈম খন্দকার রুম্মান

  শিউলিমালার আপু! নাঈম খন্দকার রুম্মান আপনাকে দেখে দিলখানা মোর হইলো ছাতুছাতু। আপনি যখন কথার ফাঁকে মুচকি করে হাসেন, কয় না কথা বন্ধু আমার জ্ঞান যে হারায় হোসেন। আপনি যখন আলতো করে দুচোখে দেন কাজল। মুগ্ধ হয়ে রগকাটা ভাই জবেহ করেন ছাগল। নেকাব খুলে আপনি যখন এলমি বয়ান দেন। দরাজ কণ্ঠে নরেন বলে পিও আপু বিগ ফ্যান। জানেন নাকি আপা? দিলের মাঝে আপনার ছবি খোদাই করে আঁকা। ওগো শিউলিমালার আপু! আপনাকে দেখে দিলখানা মোর হইলো ছাতুছাতু।

কবিতা - কুহু । নাঈম খন্দকার রুম্মান ।

 কুহু নাঈম খন্দকার রুম্মান কুহু, সূর্য ঘরে ফিরে গেলেও আমি ফিরিনি। বলেছিলে আকাশ যখন ঝলসে যাবে লালচে রঙে পাখিগুলো পথ ধরবে নীড়ের, কোমল সুরে তখন গান শোনাবে। সেই থেকে আজ অবধি কতবার যে আকাশ রাঙিয়ে সূর্য ঘরে ফিরলো, বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়লো মেঘরাশি, পাখিগুলো ফিরে গেলো নীড়ে। অথচ তুমি গান শোনালে না৷

কবিতা - তুমি কোথায়? । নাঈম খন্দকার রুম্মান

তুমি কোথায়? নাঈম খন্দকার রুম্মান বলো, তোমার উদভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ানো সেদিনগুলো আজ কোথায়? রাত হলেই চাঁদ খোঁজার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকার অভ্যেসগুলো কোন সুদূরে পালিয়েছে? আজ কোথায় তোমার খুব শখে রাখা বাবড়ি চুল? বলো, কোথায় তোমার যত্নে রাখা পুরোনো নোটপ্যাড - যেখানে লিখে রেখেছো প্রিয়তমার ডাকনাম? কোন অন্ধকারে ডুবে গেলো রাতের নিস্তব্ধতা? জ্বলে ওঠা চোখের পানি শুকিয়ে গেলো কীভাবে? বলো, কোথায় হারালো সিআরবিতে অপেক্ষা করা বিকেল? মডেলের প্যাভিলয়নে আড্ডার আসরগুলো কি আজও বসে? ঘাসের ওপর বসে তিনবন্ধুর গলায় একই সুর কি আজও বাজে? বলো, হাতে কামড় দেয়া সেই বিড়ালটি কোথায় হাওয়া হয়ে গেলো? কোথায় গেলো ফুটবলের বিতর্ক কিংবা প্রেমের গল্পগুলো, যা বলা হতো নির্জন রাস্তা অতিক্রম করার সময়? বলো, চাঁদের জোছনা, ধুলোমাখা সন্ধ্যা, সমুদ্রের ঢেউ, পানিতে ভেঁজা চোখ আর সেই বন্ধুগুলো আজ কই? তারা যে ঐ বসে আছে মডেলের প্যাভিলিয়নে৷ তুমি কই?

কবিতা - বদল । নাঈম খন্দকার রুম্মান

 বদল নাঈম খন্দকার রুম্মান আপনি বদলে গেলেন। ঠিক যেভাবে বদলায় শরৎ এর ঋতু, হারিয়ে যায় কাশফুল; কিছুদিন পূর্বেই যা থাকে প্রেমিকার শখ।

কবিতা - কোকিল । নাঈম খন্দকার রুম্মান ।

 কোকিল নাঈম খন্দকার রুম্মান বাদ ফজর, শীতল বাতাস বয়ে যায়, যার শীতলতা ছুঁয়ে যায় মন। তখন কদম গাছ থেকে ভেসে আসে কোকিলের সুর। যে সুরের নেশায় মাতাল হয়ে যায় ফজরের জামাতের মুসুল্লি। আমি হারিয়ে যাই ঐ কোকিলের গানে, মূগ্ধতায় বন্ধ করি চোখ। তবে, তারাবির এমামের কণ্ঠে “ইয়া আয়্যুহান নাস” এর সুর যেনো হার মানায়, বাদ ফজরের কোকিলকে। আমি মাতাল হয়ে যাই এমামের সুরে, যেমন মাতাল হয়ে দুলতে থাকে শরাবী। আমিও দুলতে থাকি ডান হতে বামে, চোখের সামনে যেনো ভেসে উঠে জান্নাতের ছবি। আমি হারিয়ে যাই তারাবির এমামের, “ইয়া আয়্যুহান নাস” এর সুরে।

কবিতা - গোমরাহি । নাঈম খন্দকার রুম্মান ।

 গোমরাহি নাঈম খন্দকার রুম্মান কতগুলো জোছনা চলে গেলো, কত-ঢেউ মিলিয়ে গেলো সমুদ্রের তীরে। কতবার শীত বদলে এলো বসন্ত, পথের ধারে জন্মালো শুভ্র কাশফুল। কতশত চিঠি এলো ডাকঘরে, কতবার যে বদলি হলো পিয়নের৷ কতগুলো গান রিলিজ পেলো এ্যালবামের, কতবার জন্ম হলো সুরের মোহনার৷ জীবনের পাতাগুলো খসে পড়ছে রোজ, ঝলসে গিয়েছে কতখানি আয়ু৷ কতবার দীর্ঘশ্বাস জমে ভারি হয়েছে বুক, হারিয়ে গিয়েছে কাব্যের সব ভাষা৷ কতশত ডায়েরির পাতা হয়েছে শেষ, কত পাতায় জমে আছে স্মৃতির রঙ। কত-যুগ যে পার হয়েছে সাবালক হবার পর, দিয়েছিলাম জবাব যখন ডেকেছেন খোদা৷

কবিতা - পেয়ার । নাঈম খন্দকার রুম্মান ।

  পেয়ার নাঈম খন্দকার রুম্মান মন আকাশে নতুন করে উঠলো প্রেমের রবি, রঙ-তুলিতে আঁকিয়ে দেবো তোমার মায়ার ছবি। বনের ফুলে সাজিয়ে দেবো, বেণী বাঁধা চুল৷ হর-হামেশাই এনে দেবো, হলদে রঙের ফুল৷ মান-অভিমান বায়না তোমার লুকিয়ে আছে যত, নতুন শাড়ি-চুড়ি কিনে ভুলিয়ে দেবো ক্ষত৷