Skip to main content

Posts

কবি ও বাস্তবতা

 মানুষ ব্লগে কী লেখে আমি তা জানিনা । জানার কথাও না । ব্লগ খোলার কারন একটা সিভিতে ওয়েবসাইটের লিংক দিতে হবে এজন্য ।  ব্লগকে অনেকটা ডায়েরির মতো লাগে । ওপেন ডায়েরি । যে ডায়েরি বাইরে পরে থাকলেও কেউ খুলে দেখে না । অথচ হুট করে এক কৌতুহলী কেউ ডায়েরিটা হাতে নেয় । নিয়ে পড়ে । কী কী লেখা তা দেখে বোঝার চেষ্টা করে । কখনো দুঃখে ডুবে যায় , আবার কখনো অট্টহাসিতে মেতে ওঠে । এরপর লেখকের সম্পর্কে একটা ধারণা জন্ম নেয় তার মাঝে । কিছুসময় পাঠক রচয়িতাকে ভাবতে থাকে । এরপর ধীরে ধীরে ভুলে যেতে থাকে । একসময় তিনি ভুলে যান ডায়েরির কথা । ডায়েরিটা আবারও পূর্বের মতো পড়ে থাকে । তাকে কেউ আর খুলে না । ধুলোবালি জমে। প্রতিটা মানুষের জীবনে নানা রকম গল্প থাকে । আমারও আছে । সে গল্প আমি চাইলে লিখে রাখতে পারি এখানে । অথবা কিছু দুঃখের কথা লিখতে পারি । লিখতে পারি কতটুকু স্মৃতির বোঝা নিয়ে এখনো জীবিত আমি । কষ্টের কথাগুলোকে লিখে রাখতে পারি এখানে । কিন্তু তাতে লাভ কী? একজন মানুষ আমার দুঃখের কথাগুলো পড়বে এটা কেমন না? দুঃখের কথা শোনার অধিকার শুধুমাত্র প্রিয়তমার । এ বাদে আর কেউ এই কথা পড়ার মানে নিজের কোনো মূল্য না রাখা । আমার কবি...
Recent posts

কবিতা - আমার ঘুম আহে না

জুলাই আইলেই হারায়া যায় আমার চোখের ঘুম। আমি যেনো জুলাইয়ের প্রতি রাইতে মিইশা যাই,  জাবিতে আটকায়া থাকা পোলাপাইনের সাথে৷  কারা যেনো গুলি ছোড়ে, ছোড়ে ইট পাটকেল; কারা যেনো ককটেল ছুইড়া  শব্দের ভূমিকম্প নামায়া দেয় ক্যাম্পাস জুইড়া৷  পেছনে তাকায়া দেখি, তীব্র ভয়ে থরথর কৈরা কাঁপতেছে একটা সাবালিকা মেয়ে৷  হয়তো তার ভীষণ কৈরা মনে পড়তেছে,  তার মায়রে কওয়া মিথ্যা কথা৷  জুলাইয়ের রাইতে,  ধকধক কইরা ওঠে আমার বুক৷  ছোট্ট চামুচ পইড়া যাওয়ার শব্দও  আমার কানে ইসরাফিলের শিঙ্গার শব্দের মতন লাগে৷  এই বুঝি দরজায় লাত্থি মাইরা কেউ বলবে,  শুয়োরের বাচ্চা দরজা খোল! আমি ভয় পাই, আমার গলা শুকায়ে যায়।  পানি খাইতে গিয়া দেখি জায়নামাজে মোনাজাত করে  এক বৃদ্ধা; তার চোখে জল৷  এই বৃদ্ধাকে আমি চিনি।  এতকাল ধইরা তারে আম্মা বইলা ডাকছি।  জুলাইয়ের রাইতে,  ভয়ে আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে মনে পইরা যায় একটা ষোলো বছরের পোলার কথা।  ধুলাবালিতে মাইখা আছে তার সফেদ শার্ট৷  এমনেতে তারে ডাকি টোকাই; তয় সেদিন মনে হইলো সে হইলো দেশ রক্ষার সেপাই! দৌড়ায়া দৌড়ায়া আমি...

তেলের লিটার কত?

তেল এক অদ্ভুত জিনিস৷ রান্নায় ব্যবহার করলে সুস্বাদু হয়, আর বক্তব্যে ব্যবহার করলে সুন্দর হয়৷ তবে এখানে শর্ত আছে৷ তেল হতে হবে পরিমিত৷ অতিরিক্ত হওয়া যাবে না৷ স্বাস্থ্য সচেতন যারা, তারা কেউ অতিরিক্ত তেল পছন্দ করেন না৷ কেননা অতিরিক্ত তেল ক্ষতিকর৷ অতিরিক্ত তেল রান্নায় হোক বা বয়ানে দুই জায়গাতেই ক্ষতিকর৷ বোদ্ধামহল বয়ানে অতিরিক্ত তেল পছন্দ করেন না৷  তবে, যে চুপচুপে তেলে ডুবে যায়, বয়ানের তেল যার ভালো লাগে তার শরির পড়তে পারে ঝুঁকিতে৷ কাজেই তেল যার পছন্দ তারও হওয়া উচিত সচেতন৷ কেউ অতিরিক্ত তেল দিলেই তা গ্রহণ করা ঠিক হবে না ৷  তেলের এই রিসার্চ পেপার লিখতে বসলাম কারণ আমার বন্ধু তাহসিন৷ ওকে বন্ধু বলবো নাকি তেল ব্যবসায়ী বলবো বুঝতে পারছি না৷ ভাষাজ্ঞান না থাকার এই এক ঝামেলা৷ কাকে কি নামে ডাকতে হবে তা নিশ্চিত হওয়া যায় না৷ তাই ভাষাজ্ঞান রাখা জরুরি৷ কিন্তু যদি তেলের ব্যবসায়ী হওয়া যায়, তবে ভাষাজ্ঞান না থাকলেও সমস্যা নেই৷  যেমন- তাহসিনকে নিয়ে বলতে পারি সুমিষ্টভাষী, বাগ্মী। তিনি যখন মাইক ধরেন, মাইক কাঁপে। কাঁপে আসমান ও জমিন৷ তার বক্তব্য শোনার জন্য মুখিয়ে থাকে দুনিয়ার সবাই। উড়তে থাকা ঘুঘুটিও জানালা...

Whatever God Does, He does beautifully

Forty Rule of Love এর 36 নং রুলটা পড়তে গিয়ে বেশ চমৎকার একটা লেখা পড়লাম। এভাবেও যে লেখা যায়; ভাবা যায়; তা আমার জানা ছিলো না৷ শুরুতে এলিফ শাফাক লিখলেন চক্রান্তের কথা। তিনি মানুষের চক্রান্তে ভয় পেতে নিষেধ করলেন৷ কেননা যে চক্রান্ত করে আল্লাহও তার জন্য চক্রান্ত করে৷ এখানে চক্রান্ত মূলত ফাঁদ হিসেবে বসেছে৷ এরপর সেখানে জানিয়েছেন আল্লাহর ফাঁদ আরও ভয়াবহ৷  বেশ সরল রেখা। কোরআন থেকে নেয়া সরল আলাপ। বিশেষত্ব কিছুই নেই৷ কিন্তু খেলা ঘুরে যায় শেষ লাইনে। সেখানে এলিফ লেখেন, " Whatever God does, He does beautifully" এই লাইনটুকু এভাবে বোঝা যাবে না। বিউটিফুলকে অনুবাদ করলে আসবে "সুন্দর, সুনিপুণ"। কিন্তু এতে মূল গাম্ভীর্য ফুটে ওঠে না৷ কারণ প্রতিটা ভাষার নিজস্ব গভীরতা, গাম্ভীর্য আছে৷ ফলে কিছু শব্দ এমন হয় যাকে অনুবাদ করলে সেই গভীরতা বা গাম্ভীর্য বিলীন হয়ে যায়৷ তাই কিছু সময় লেখাটি ঐ মূল শব্দেই পড়তে হয়; রাখতে হয়; অনুভব করতে হয়৷  পুরো আলাপটি বোঝার জন্য মূল লেখাটা এই মোমেন্টে পড়া উচিত৷ মূল লেখাটি হলো - "This world is erected upon the principle of reciprocity. Neither a drop of kindness nor a...

আমার কী হলো?

 আমার কী হলো? আমি তো এমন ছিলাম না । নাহ ছিলাম । ছিলাম না - এমন মিথ্যে কথা বলা উচিত না । আমি বরাবরই ফাঁকিবাজ এবং অলস । সেই ছোটোকাল থেকেই ফাঁকিবাজিতে এক্সপার্ট হয়েছি । খোদা তায়ালা আমাকে এক্সকিউজ দেয়ার অসম্ভব অস্বাভাবিক ক্ষমতা দিয়েছেন । এক্সকিউজের মানে এই নয় যে আমি মিথ্যে এক্সকিউজ দেই বা শাস্তি থেকে বাঁচতে মিথ্যে বলি । প্রতিটা এক্সকিউজই যথাযথ ভ্যালিড এবং সত্য । তাছাড়া আমি সদা সত্য বলি । শেষ লাইনে যা বললাম, এর মতন ভয়াবহ মিথ্যা দুনিয়াতে আরেকটাও নেই । শুধুমাত্র এই একটি লাইনই মিথ্যা । তবে ঝামেলা হলো যিনি এই লেখাটি পড়বেন তার কাছে এখন পুরো লেখাটাই মিথ্যে মনে হবে । সত্য মনে হবে এই প্যারার প্রথম লাইনটি । হাহা । সূচনা করেছিলাম অলসতা নিয়ে । আমি আসলেই অলস । এই ব্লগটা তৈরি করেছিলাম নিজের মনের কথাগুলো কলমের ছোঁয়ায় লিখে রাখবো তাই । তবে তা আর হলো না । এর জন্য অবশ্য একটা এক্সকিউজ রেডি করেছি । তা হলো আমিতো কলমে লিখতে চেয়েছি , কিন্তু আসলে এখানে কী বোর্ড দিয়ে লিখতে হয় তাই লিখি না । এর মানে এই নয় যে আমি নিয়মিত ডায়েরি লিখি । ওসব কিছু না । আমার কবিতা লেখার শখ । কবিতা লিখতে ভীষণ ইচ্ছে করে । কিন্তু সব ইচ্ছা ...

হিজিবিজি - ১

এখন বাজে ১১.৪৬ । আর মাত্র ১৪ মিনিট পরেই নতুন এক দিনের শুরু । ততক্ষণ অবধি বেঁচে থাকবো কিনা তার অবশ্য কোনো গ্যারান্টি নেই । প্রতিটা জীবই বোধহয় এই অনিশ্চয়তা নিয়ে বাঁচে । এটাই বোধহয় জীবিত থাকা সৌন্দর্য । আজ বৃহস্পতিবার । কাল শুক্রবার । একসময় শুক্রবার এলেই খুশি খুশি লাগতো । মুখস্ত বুলি আওড়াতাম সেদিন । রোজ শুক্রবার জানাতাম জুম্মা মোবারাক । সেদিন অবশ্য প্রিয়তমা একটু বেশিই ব্যস্ত থাকতেন । তবে বাদ জুমআ ঠিকই জুম্মার শুভেচ্ছা পেতাম। কখনো কখনো শুক্রবার ছিলো বিশাল পথ পারি দিয়ে তাকে একপলক দেখার জন্য নানান গল্প বানানো । আরও কত কী! শুক্রবারের সন্ধ্যা নাগাদ অল্প কিছু সময়ের জন্য তার দেখা পেতাম । মিতব্যয়ির মতন ঐ সময়টুকু তাকে দেখে কাটাতাম । যত রাগ , অভিমান , ভুল বোঝাবুঝি সব শেষ হয়ে যেতো ।  এখন শুক্রবার এলে সেসব মনে পড়ে । কেননা আজ ইনবক্স যেনো মরুভূমির বিস্তীর্ণ অঞ্চল । এখানে ঈদের আনাগোনা নেই । তাই উইশও নেই । এখন আর জুম্মাবারের শুভেচ্ছা ভেসে আসে না আমার ডাকঘরে । তবে আমার অপেক্ষা যে থেমে নেই । আমি আজও অপেক্ষায় থাকি পিয়নের । ঠিক কতগুলো শুক্রবার এর মাঝে বিদায় নিয়েছে আমি জানিনা । হিসেব রাখিনি । দুঃখ পুষতে গ...

একটি রাত ও আমরা সবাই । নাঈম খন্দকার রুম্মান

  এখন মাঝ রাত৷ বিদ্যুৎ চমকাইতেছে আকাশে৷ কালা রঙের আকাশ এক সেকেন্ডের লাইগা ধবধবে সাদা হয়ে যাইতেছে৷ তার একটু পরেই বিকট আওয়াজে কাঁইপা উঠতেছে গোটা শহর। সাথে দমকা হাওয়া। এই হাওয়া দোল দেয় গাছের পাতায়, নদীর পানিতে৷ মাঝে মাঝে এই হাওয়া দোল দেয় মানুষের মনেও৷ তখন ঐ মানুষ হইয়া যায় দু:খী। নদীর পাড়ে বইসা আছি আমরা কয়েকজন৷ যারা আছে এরা সবাই আমার কাছের মানুষ। যদিও চিন্তা চেতনায় আমার থেকে যোজন যোজন দূরে৷ কেউকেউ ভাবুক, কেউ আবার দার্শনিক, কেউ রাজনীতিক আবার কেউ আমার মতন কিছুই না৷ তোনভিরুল, রোফিনুর, সোলহুল আর আমি এই মূহুর্তে বইসা আছি নদীর পাড়ে৷ বিশাল এক নদী৷ জোরে জোরে বইয়া যাইতেছে হাওয়া৷ তাই নদী হাওয়ার সুরে কলকল কইরা গান গাইতেছে৷ চাইরপাশ বেশ অন্ধকার৷ আইজ আকাশে চাঁদ উঠে নাই৷ উঠলেও মেঘের কারণে বোঝা যাইতেছে না৷ বেশ দূরে লাল নীল একটা বাতি নদীর টানে ভাইসা যাইতেছে। সম্ভবত কোনো ট্রলার৷ আমরা সবাই-ই নীরব৷ একসময় কত আড্ডা হইতো আমাগো৷ নারুতো নিয়া তোনভিরুলের ঘন্টার পর ঘন্টার আলাপ, ক্রিকেট নিয়া সোলেহুলের আলাপ, ফুটবল নিয়া রোফিনুরের আলাপ৷ গার্ডেনের চিপায় বইসা একসময় পুরা দিন ধইরা আড্ডা দিতাম আমরা৷ যদিও গার্ডেন পছন্দ ছিল...

শিয়া মতবাদ ধারণা ও বাস্তবতা । ড, রাগিব সারজানী । রাহনুমা প্রকাশন ।

  খোমেনির রাঙা চেহারা সাদা দাঁড়ি আর কালো পাগড়ি দেখে যেমন কেউকেউ শিয়াদের পক্ষে দাঁড়ান, তেমনি অনেকে গালির বন্যা বইয়ে দিতেও কৃপণতা করেন না৷ শিয়া নিয়ে লিখতে থাকেন পর্বের-পর-পর্ব অথচ তদন্ত করলে দেখা যাবে শিয়া নিয়ে তাদের জানাশোনা শূন্য৷ শিয়াদের উৎপত্তি থেকে শুরু করে হিযবুল্লা, হুথি এবং বর্তমান ইরানকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে রাহনুমা থেকে প্রকাশিত এই বইটিতে৷ আল আমিন ফেরদৌসের অনুবাদ সাবলীল লেগেছে৷ পড়ে আনন্দ পেয়েছি। যারা শিয়া সম্পর্কে একেবারে বেসিক আইডিয়া জানতে চান তাদের জন্য এই বইটি হাইলি রেকমেন্ডেড৷