Skip to main content

Posts

Showing posts from August, 2025

গল্প - বহুদূর । নাঈম খন্দকার রুম্মান ।

 বহুদূর নাঈম খন্দকার রুম্মান সময়গুলো কীভাবে যেনো হারিয়ে গেলো। মেঘের মতন। এর অস্তিত্ব যে ছিলো, স্মৃতি ব্যতিত তার আর কোনো প্রমাণ নেই। স্মৃতির পাতায় চোখ রাখলে ভেসে ওঠে কতকিছু! এইতো সেই হাঁড় কাঁপানো শীতের ডিসেম্বরে। বিনা সোয়েটারে আমি আর সালেহুল বসলাম রাজু ভাইয়ের চা খেতে৷ আমাদের কথা হতো। কত গুরুত্বপূর্ণ সে কথা! আমাদের আলাপের মূল বয়ান থাকতো কীভাবে দেশের ক্ষমতা নেয়া যায়। হয়ে ওঠা যায় জনতার নেতা। চায়ের প্রতি চুমুকে খুলে যেতো চিন্তার জট। ভিন্নভিন্ন দর্শণ জুড়ে আমরা দেখতাম সুন্দর এক দেশের স্বপ্ন। সে দেশের বিশেষ এক জায়গা হবে কোয়ার্টার৷ জায়গাটা শুধু সালেহুল আর বেদাতির পরামর্শের স্থান হিসেবে নির্ধারিত থাকবে৷ শুধু রাজনৈতিক আলাপ হতো তা নয়। গান গাওয়া হতো। সালেহুল গাইতো - “হাম কিতনে, পাস হে ইতনে। দূর হে চান্দ সিতারে।” এরপর দিনগুলো কীভাবে যেনো হারিয়ে গেলো। হারিয়ের গেলো সালেহুলও। শুনেছি আজকাল রাজশাহীর ফুটপাথে সালেহুলের মতো কাউকে দেখা যায়৷ পাতা উলটালেই দেখা যায় বসে আছি গার্ডেনের লেকের পাশে৷ তানভির তখন নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে। সাদা মেঘ ভেসে যায়৷ হয়তো তানভির ভাবে, এই সাদা মেঘের মতন ভেসে গিয়েছে তার প্রিয়তমা...

কবিতা - ফ্যাসিবাদের জন্য কাঁদে শাহবাগী । নাঈম খন্দকার রুম্মান ।

 ফ্যাসিবাদের জন্য কাঁদে শাহবাগী নাঈম খন্দকার রুম্মান শাহবাগীর ঐ কান্না দেইখা, হাইসা ওঠে খোদ বাকশালি। জুলুম কইরা, সন্ত্রাস বাহিনী বানায়া মুক্তিযোদ্ধা হত্যা কইরাও যে— একটা দেশের রাজা হওয়া যায়, খোদ বাকশালিও তা ভাইবা অবাক হয়। যুদ্ধের নয় মাস পলাইয়া থাইকা, স্বেচ্ছায় কারাবরণে কোরমা পোলাও খাইয়াও যখন জাতির মাথার তাজ হইয়া ওঠে, তখন খিলখিল করে হাইসা উঠে বাকশালি। তখন সে হয় জালেম, ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচার। ফ্যাসিজমের কথা লুকাইয়া, বাকশালির কথা লুকাইয়া, জুলুমের কথা লুকাইয়া, হুদা ছাত্র জমানার রাজনীতি টাইনা যখন নেতা বানানো হয় বাকশালিরে; তখন ভারত থেইকা ভাইসা আসে ফ্যাসিস্টের হাসি।

গল্প - পিনিক । নাঈম খন্দকার রুম্মান

 পিনিক নাঈম খন্দকার রুম্মান  মেহেদি ইসলাম একজন বিবাহিত পুরুষ। কুমিল্লার জামাই৷ একজন বিবাহিত পুরুষ খুবই অভিজ্ঞ হন। কারণ, যিনি একজন নারী সামলাইতে পারেন তিনি গোটা দুনিয়া সামলাইতে পারেন বলেই আমার ধারণা। সুতরাং সেই হিসাবে মেহেদি ইসলাম খুবই অভিজ্ঞ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। মেহেদি ইসলাম এর আম্মা তথা আন্টির ধারণা আমি খুবই বাজে একটি ছেলে৷ আমি তার ছেলেকে ভুল পথে পরিচালিত করছি। অবশ্য তার এমন ধারণার কারণ আছে। একবার মেহেদি ইসলামকে আমি পাওয়ার খেতে দিয়েছিলাম। ভদ্রলোক সেটা না খেয়ে বাসায় নিয়ে যান এবং আন্টির হাতে কট খান। তিনি আন্টিকে বললেন এটা রুম্মান ভাই হাদিয়া দিয়েছেন। এটা কোক। আন্টির কথা হলো কোক হয় সাদা হবে, নাহলে হবে কালো, অথবা হবে কমলা রঙের। মদের রঙ হবে না৷ এরপর ঢাকনা খুলে ঘ্রাণ নিতেই আমার কেল্লা ফতে৷ আন্টির মানা সত্ত্বেও আমি তাদের বাড়ি যেতাম। কারণ গেলেই আন্টি খাওয়া দাওয়া করাতেন। তার মতে বাড়ি এলে শত্রুদেরও খানাপিনা করাতে হয়। তাই আমিও সুযোগ হাতছাড়া করিনি। তিনি আমাকে ছ্যাঁচড়া ভাবেননি এটা নিশ্চিত। শত হলেও আমি তার ছেলের বন্ধু। আন্টির এই সাধু ছেলেটি আমার একজন শিক্ষকও বটে৷ সে আমাকে শিখিয়েছে ক...

গল্প - কিছু দুঃখ ও কয়েকজন কবি । নাঈম খন্দকার রুম্মান

 কিছু দুঃখ ও কয়েকজন কবি নাঈম খন্দকার রুম্মান "বুঝলেন ভাই, কবিতা হলো মনের ভেতরের ভাষা।" কথাটি বলে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন নাইম হাসান। যেনো তিনি একটা প্রশ্ন করেছেন যার উত্তর দিতে আমি বাধ্য। অথচ তিনি তার মতামত দিলেন। এখানে চাইলেই আমি চুপ থাকতে পারি। কিন্তু ভদ্রলোক আমার মিতা মানুষ। তার ওপর যেভাবে তাকিয়ে আছেন! আর এর থেকেও বড়ো বিষয় তিনি আমার মুরুব্বি। মুরুব্বিদের কথা মানতেই হবে। তা উপেক্ষা করার সাধ্য নেই কারো। তাই বিরক্ত হলেও বললাম, "কথা সত্য। কবিতা মনের ভাষা।" - তবে রবী বলেছেন ভিন্ন কথা৷ - কী কথা? - রবী বলেছেন, "ছন্দ হলো কবির জোর করে দেয়া বিরামচিহ্ন।" এর মানে কি হলো বুঝতে পারছেন? - না। - এখান থেকে সমীকরণ দাঁড়ায়— কবি যা লিখবে তা-ই কবিতা৷ কথা শেষ করে ভদ্রলোক মোরোব্বা দেয়া পাউরুটি চায়ে ভিজিয়ে খাচ্ছেন৷ আমার জীবনে কাউকে মোরোব্বা দেয়া রুটি ভিজিয়ে খেতে দেখিনি। অবাকই লাগছে। এমন স্মার্ট একটা ছেলে অদ্ভুত ভাবে খাচ্ছে! এদিকে অবশ্য তার খেয়াল নেই। তিনি খচমচ করে পাউরুটি চিবুচ্ছেন। আমি জানি পাউরুটি চিবুলে খচমচ শব্দ হয় না৷ তবে তার খাওয়ার ধরন বাস্তবেই অমন৷ মানুষ শুধু তখনই এভাবে খ...

কবিতা - পলাতক হাসু । নাঈম খন্দকার রুম্মান ।

 পলাতক হাসু নাঈম খন্দকার রুম্মান প্রিয় হাসু , সেই যে তুমি হারিয়ে গেলে অজানায় এরপর আর তোমার হদিস পাইনি । কত করে খুঁজেছি তোমায়! ধানমণ্ডি ৩২ , সংসদ ভবন , গণভবন! অথচ তোমার দেখা পেলাম না । মাঝে মাঝে দেখি ভেসে আসে তোমার মৃদু কণ্ঠ , কাঁপা গলায় বলছো , ইউসুফের বিচার হবে । আমি মুগ্ধ হয়ে শুনি । হাসু , বলো না কোথায় হারিয়েছো? কবে ফিরবে? তোমার অপেক্ষায় যে আজও তাকিয়ে থাকি ধানমণ্ডির ৩২ এ।

কবিতা - স্মরণ । নাঈম খন্দকার রুম্মান ।

স্মরণ নাঈম খন্দকার রুম্মান যখন ঐ ফুল ভিঁজে যায় শিশিরের ফোঁটায় , কুয়াশায় নেমে যায় দৃষ্টির সীমা। তখনও কি ভুলে থাকো তাকে জোছনা রাতের সঙ্গী ছিলো যে? যখন নদী কলকল সুরে গায় গান, পাখা মেলে দেয় নৌকো । সাদা সারস ভেসে যায় আকাশের বুক চিড়ে। তখনও কী ভুলে থাকো তাকে অচেনা পথের সঙ্গী ছিলো যে ? তুমি কি সত্যিই ভুলে থাকো? নাকি স্মরণের উপযুক্তই মনে করোনি কখনো?

কবিতা - মীর জাফর । নাঈম খন্দকার রুম্মান ।

মীর জাফর নায়েম বেদাতি রক্তের উপর দাঁড়িয়ে করিস রক্তের সাথে গাদ্দারি, বেশ ধরেছিস যোদ্ধার তবে লুকিয়ে রাখিস তরবারি৷ ক্ষমতার ঐ গদিতে বসে ভুলে গিয়েছিস শহীদদের, শত্রু বনেছিস আমজনতার মিত্র হয়েছিস শত্রুদের৷ তোরা করলেই ন্যায় হয় সব মোরা করলেই মব, ভণ্ডামিকে লুকিয়ে রেখে পরেছিস তুই থব্। শাতিমকে শেল্টার দিস বন্ধ রাখিস জবান, ভোটের আগে মুসলিমদের ডাকিস বলে বাজান। শাহবাগী হয় কমরেড তোর মুসলিম তোর শত্রু৷ ভুলেছিস তুই ইতিহাস আজ ছিলি কার তুই পুত্র৷ স্বৈরাচারের চাটুকার যারা আজ তারা তোর বন্ধু। হাসপাতালে কাঁদছে শুয়ে আহত শিশু, পঙ্গু। তুই গাদ্দার, তুই বেঈমান লিখেছিস নাকি বই৷ শত্রু হাসে তোর নীতি দেখে আর খায় চিড়ে-দই। গাদ্দার তুই, লোভী চাটুকার করেছিস তুই বেঈমানি৷ দোহাই খোদার, বন্ধ কর ঐ জুলাই নিয়ে ভণ্ডামি৷ তুই মোনাফেক, তুই কাপুরুষ ভনিতা করিস বারবার। লিখে রেখেছি স্বর্ণাক্ষরে তুই জুলাইয়ের গাদ্দার৷

কবিতা - শিউলিমালার আপু । নাঈম খন্দকার রুম্মান

  শিউলিমালার আপু! নাঈম খন্দকার রুম্মান আপনাকে দেখে দিলখানা মোর হইলো ছাতুছাতু। আপনি যখন কথার ফাঁকে মুচকি করে হাসেন, কয় না কথা বন্ধু আমার জ্ঞান যে হারায় হোসেন। আপনি যখন আলতো করে দুচোখে দেন কাজল। মুগ্ধ হয়ে রগকাটা ভাই জবেহ করেন ছাগল। নেকাব খুলে আপনি যখন এলমি বয়ান দেন। দরাজ কণ্ঠে নরেন বলে পিও আপু বিগ ফ্যান। জানেন নাকি আপা? দিলের মাঝে আপনার ছবি খোদাই করে আঁকা। ওগো শিউলিমালার আপু! আপনাকে দেখে দিলখানা মোর হইলো ছাতুছাতু।

গল্প - কোনো এক দুঃখের রাতে । নাঈম খন্দকার রুম্মান

 কোনো এক দুঃখের রাতে নাঈম খন্দকার রুম্মান নাম না জানা জীবদের গান যখন ভেসে আসে তখন আনুমানিক রাত দেড়টা। এসব গান অবশ্য নতুন কিছু নয়৷ গ্রাম্য গানের এ আসর শুরু হয় সূর্য্য বিদায় নেবার পরপর৷ চলতে থাকে ফজরের আগ অবধি। তারপর শুরু হয় ভোরের পাখির গান৷ এ জীবগুলো বিশ্রামে যায় তখন। গ্রাম্য নীতিতে চলা বিদ্যুৎ আচমকা হারিয়ে যায় বাতাসের ঝাপটায়৷ আকাশে তখন ফকফকে সাদা চাঁদ৷ তার জোছনার শাড়িতে আবৃত আশপাশের সবকিছু৷ অল্পকিছু কালোমেঘ তখন ঘুরে বেড়ায় আসমান জুড়ে৷ এমন সময় কাঠের জানালার ফাঁক দিয়ে অল্প একটু জোছনা চুঁইয়ে পড়লো মেঝেতে৷ জোছনার চুঁইয়ে পড়া এর আগে কখনো দেখিনি। জোছনায় আলোকিত হতে দেখেছি; আবৃত হতে দেখেছি। তবে চুঁইয়ে পড়তে এই প্রথমই দেখলাম। শনশন হাওয়ায় খেঁজুর গাছের পাতার নাচার শব্দ, পুকুরের পানিতে ভেঙে পড়া ডালের শব্দ আর নাম জানা জীবের গানের সাথে জোছনার নতুন রূপের পরিচয় মন্দ কিছু না৷ মেঝেতে লেপ্টে থাকা জোছনার দিকে তাকাতেই বিষাদের যন্ত্রণা ওঠে মনে, যেনো কেউ তাতে মিশিয়ে রেখেছে বিষ। আচমকা হাওয়ার দোলে খুলে যায় স্মৃতির পাতা। তখন মাত্র সন্ধ্যের শুরু, চারিপাশ কুয়াশায় ঢাকা। এমন সময় পাশে বসে গান শুনিয়েছিলো এক গায়িকা৷ ত...

গল্প - অদ্ভুত এক বই! । নাঈম খন্দকার রুম্মান

অদ্ভুত এক বই! নাঈম খন্দকার রুম্মান আমি আর কথাসাহিত্যিক রোফিনুর রহমান খেয়াল করলাম বন্ধু তোনভিরুল ইসলাম ঠিক এভাবেই হাসছেন। আড্ডার মাঝে মাঝেই তিনি হাসছেন। হাসিকে ঠিক মৃদু বা মুচকী হাসিও বলা যায় না। আবার অট্টহাসি-ও নয়৷ কৌতুহল সংবরণ করতে না-পেরে জিজ্ঞাসা করেই ফেললুম, "পেয়ারে ভাই। আপনি কেন অমন করে হাসছেন?" বন্ধু তোনভিরুল কোনো জবাব দিলেন না। তিনি লজ্জায় মাথা নত করে হাসছিলেন। লজ্জায় তার গাল লাল হয়ে গেলো৷ তা দেখে কথাসাহিত্যিক রোফিনুর রহমান বললেন, "টমেটো লাল, মরিচ ঝাল ; ইব্রাহিমের ভালো লাগে তোনভিরুলের গাল।" এমনি সময় অমন নিয়মবহির্ভূত ছন্দ ব্যবহারে তোনভিরুল ক্ষেপে যেতো। কিন্তু আজ ক্ষেপে গেলো না। আমি আর কথাসাহিত্যিক রোফিনুর একে অপরের দিকে তাকিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করলাম। ফের তোনভিরুলকে জিজ্ঞাসা করলাম, "পেয়ারে ভাই। আপনি কি প্রেমে পড়েছেন?" তোনভিরুল মাথা ডানবাম করতে লাগলো। আমি আবারও জানতে চাইলাম, "তাহলে কী হয়েছে বলুন।" তোনভিরুল আবার হাসলো। তোনভিরুল ইসলাম এরপর কণ্ঠ নিচু করে বললেন, "পেয়ারে ভাইগণ। বাংলা সাহিত্য খুবই সুন্দর৷ এতে রয়েছে অত্যাধিক মজা। অদ্ভুত স্বাদ৷ রসে...

কবিতা - কুহু । নাঈম খন্দকার রুম্মান ।

 কুহু নাঈম খন্দকার রুম্মান কুহু, সূর্য ঘরে ফিরে গেলেও আমি ফিরিনি। বলেছিলে আকাশ যখন ঝলসে যাবে লালচে রঙে পাখিগুলো পথ ধরবে নীড়ের, কোমল সুরে তখন গান শোনাবে। সেই থেকে আজ অবধি কতবার যে আকাশ রাঙিয়ে সূর্য ঘরে ফিরলো, বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়লো মেঘরাশি, পাখিগুলো ফিরে গেলো নীড়ে। অথচ তুমি গান শোনালে না৷

কবিতা - তুমি কোথায়? । নাঈম খন্দকার রুম্মান

তুমি কোথায়? নাঈম খন্দকার রুম্মান বলো, তোমার উদভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ানো সেদিনগুলো আজ কোথায়? রাত হলেই চাঁদ খোঁজার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকার অভ্যেসগুলো কোন সুদূরে পালিয়েছে? আজ কোথায় তোমার খুব শখে রাখা বাবড়ি চুল? বলো, কোথায় তোমার যত্নে রাখা পুরোনো নোটপ্যাড - যেখানে লিখে রেখেছো প্রিয়তমার ডাকনাম? কোন অন্ধকারে ডুবে গেলো রাতের নিস্তব্ধতা? জ্বলে ওঠা চোখের পানি শুকিয়ে গেলো কীভাবে? বলো, কোথায় হারালো সিআরবিতে অপেক্ষা করা বিকেল? মডেলের প্যাভিলয়নে আড্ডার আসরগুলো কি আজও বসে? ঘাসের ওপর বসে তিনবন্ধুর গলায় একই সুর কি আজও বাজে? বলো, হাতে কামড় দেয়া সেই বিড়ালটি কোথায় হাওয়া হয়ে গেলো? কোথায় গেলো ফুটবলের বিতর্ক কিংবা প্রেমের গল্পগুলো, যা বলা হতো নির্জন রাস্তা অতিক্রম করার সময়? বলো, চাঁদের জোছনা, ধুলোমাখা সন্ধ্যা, সমুদ্রের ঢেউ, পানিতে ভেঁজা চোখ আর সেই বন্ধুগুলো আজ কই? তারা যে ঐ বসে আছে মডেলের প্যাভিলিয়নে৷ তুমি কই?

কবিতা - বদল । নাঈম খন্দকার রুম্মান

 বদল নাঈম খন্দকার রুম্মান আপনি বদলে গেলেন। ঠিক যেভাবে বদলায় শরৎ এর ঋতু, হারিয়ে যায় কাশফুল; কিছুদিন পূর্বেই যা থাকে প্রেমিকার শখ।

গল্প - চা আর পরোটা । নাঈম খন্দকার রুম্মান

চা আর পরোটা নাঈম খন্দকার রুম্মান - এনাম ভাই। আপনার মরার সময় হয়েছে মনে হয়৷ আমার কথা শুনে তার মুখটা কালো হয়ে গেলো৷ এমনভাবে তাকিয়ে আছেন যেনো কিছুই বুঝতে পারছেন না৷ - আমার মৃত্যু? - জি ভাই৷ আপনার মৃত্যু। মৃত্যু বা মরা যেটাই বলেন সেটাই৷ এনাম ভাই আগের মতোই অপ্রস্তুত হয়েই তাকিয়ে রইলেন আমার দিকে৷ আমি চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছি আর এনাম ভাইয়ের মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করছি৷ লোকটা নিশ্চয়ই ভাবছে সামনের মাসের প্রজেক্ট ক্যান্সেল৷ আর কখনো বই রিভিউ করতে দেবেন বলেও মনে হয় না৷ আমি তখন বই পড়ছিলাম৷ এনাম ভাই আমাকে কল দিয়েই বললেন, "দ্রুত আসো বিশাল ঘটনা হইছে।", "কোথায় আসবো?", " মিরপুর-১০, শাহ আলীর পিছনে, রাব্বানী হোটেল৷ ", " খাবারে ভেঁজাল নাকি?", "ধুর মিয়া দ্রুত আসো।" রাব্বানী হোটেলের মাঝখানের টেবিলে বসে আছেন এনাম ভাই৷ "ছোট, এইদিকে!" বলে ডাকলেন আমাকে৷ আমি গিয়ে তার সামনে বসলাম। উনি পরোটা আর চায়ের অর্ডার দিলেন৷ সিনিয়রদের সাথে থাকার সুবিধা হলো জুনিয়রদের বিল দেয়ার ভয় নেই৷ শরমের কারনে হলেও সিনিয়রকেই বিল দিতে হয়৷ চা চলে এলো। পরোটা দিয়ে ভিজিয়ে খাচ্ছি। - ...

গল্প - জামাত । নাঈম খন্দকার রুম্মান

  জামাত নাঈম খন্দকার রুম্মান আমি আর আবুল কাশাম আন্সারক্যাম্পের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। রাত তখন ৮ টা বেজে ৪৫ মিনিট। আমরা দুজন-লোককে পাশ কাটিয়ে সামনে যাবো তখনই কানে ভেসে এলো একজন বলছে - "জামাত তো শ্যাষ হইয়া গেছে।" বেশ উচ্চস্বরে রাগের সাথে গলায় জোর দিয়ে বলছিলেন তিনি। ধাম করে আবুল কাশাম ওনার সামনে গিয়ে বললো - - ঐ মিয়া কী কলেন? দেশটারে মগের মুল্লুক পাইছেন নিকি? - কী বলছি? - মাত্র কী কলেন ঐ বিটারে? - কইছি জামাত শ্যাষ। - আন্দাগুন্দা এইসব কথা কবেন কেন? কিডা কইসে আপনেরে? - আপনে কোনো খবর রাহেন? জামাত তো শ্যাষই হইয়া গেছে৷ বাকি আছে কিছু? - ঐ মিয়া! আম্লীগের আমলে জামাত বাইচে ছেলো, বিম্পির আমলে জামাত বাইচে ছেলো। গুম অইছে, খুন অইছে তাও বাইচে ছেলো৷ আর এহন আইসে জামাত শেষ অইয়ে যাবে এত সুজা? উলটো পালটা কথা কলি এ্যার কানমান ছিইড়ে ফেলাইয়ে দিবানে। দুজন লোক সমেত আমিও হা করে তাকিয়ে ছিলাম আবুল কাশামের দিকে। তার চোখ লাল টকটকে। রাগে শরির কাঁপছে। দলের প্রতি ডেডিকেটেড এমন লোক কমই দেখেছি। কাশাম নিজেকে কন্ট্রোল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলো। এমন সময় মুরুব্বি লোকটি ধীর গলায় বললেন - - আমি এশার জামাতের কথা ...

গল্প - কোথাও কেউ নেই । নাঈম খন্দকার রুম্মান।

 কোথাও কেউ নেই নাঈম খন্দকার রুম্মান ঝিরঝির করে বৃষ্টি নামতে শুরু করলো৷ আমি তখন কাঠের জানালা দিয়ে বাইরের খেঁজুর গাছের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম কিছু একটা৷ ঠিক মনে নেই৷ বাড়ির পূর্ব পাশের মস্ত বড়ো পুকুরে হাঁসের দল ভেসে বেড়াচ্ছিলো সেসময়৷ হাঁসগুলো বাদামী রঙের। তার মাঝে আবার দুটো সাদা রঙের৷ শনশন করে বাতাস বয়ে যায়। দুলিয়ে যায় খেঁজুর গাছের পাতা। কিছু কাচা খেঁজুর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে৷ তালগাছে থাকা ঘুঘু পাখির কী হাল? কিংবা দূরে বৌ কথা কও বলে গান গাইতো যে পাখিটি সে কেমন আছে এই ঝড়ে? হঠাৎ চিলিক দেয় আকাশে৷ এর কয়েক সেকেন্ড বাদেই বজ্রপাতের শব্দ কাপিয়ে দেয় অন্তর। এমন সময় বেজে ওঠে মোবাইল। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে সোলেহুলের নাম। সে জানে আমি তার কল ধরবো না। তবুও এক অপ্রত্যাশিত আশায় কল দেয়৷ ভাবে হয়তো আমি কল ধরবো৷ ধরে বলবো - "হ্যালো? নাসরিন ম্যামের সালেহুল বলছো? ভাত খেয়েছো? ক্লাসে গিয়েছিলে?" কিন্তু আমি কল ধরি না৷ সোলে তখন মনে মনে গালি দেয়। দুটো ছেলে কলাপাতা মাথায় দিয়ে ধীর পায়ে এগোয়৷ বৃষ্টিতে যেনো না ভেঁজে তাই এমন বুদ্ধি বের করেছে তারা৷ আবার কাদায় যেনো পাছার না খায় সেদিকেও বড্ড সচেতন তারা৷ কিন্তু লাভ হয় না৷ একটু ...

গল্প - কোনো এক বইমেলার রাতে ভীষণ মন খারাপ হলো। নাঈম খন্দকার রুম্মান ।

কোনো এক বইমেলার রাতে ভীষণ মন খারাপ হলো  নাঈম খন্দকার রুম্মান বইমেলার স্টলে বসে ছিলাম৷ তখন কেবল মেলায় পাঠক আসতে শুরু করেছে ৷ ওদিকে সূর্য বিদায় নেবে বলে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে৷ আনমনে তখন ভাবতে থাকি নানান কিছু৷ যে ভাবনায় থাকে দর্শন, কবিতার লাইন, গল্পের গল্প কিংবা কারো বিশেষ কোনো স্মৃতি৷ দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়৷ তখন মেলায় পাঠকের আনাগোনা বেশ ভালো৷ কিছু পাঠক স্টলে এসে বই কিনে চলে যায়। এরপর নামে সন্ধ্যা৷ আর প্রায় সাথে সাথে স্টলে কিছু মেয়ে আসে৷ কালো বোরকা পরিহিতা। মাথায় গোলাপ ফুলের টুপি৷ হাতে মেহেদী দিয়ে আঁকা নানান ফুল৷ অনেকে মিষ্ট ভাষায় কথা বলে। কেউকেউ খুব মায়াবী চোখের উপর চশমা পরেছে৷ তারা জানতে চায় কোন বইটি ভালো৷ প্রতিটা বইয়ের বিষয় আমি বুঝিয়ে দিই৷ তারা মুগ্ধ হয়ে শোনে৷ মানুষ যখন কথার প্রতি মনোযোগী হয় বা মুগ্ধ হয়, তখন তাদের চোখ থাকে স্থির। পলকও পড়ে না৷ কথার তালে তালে অজান্তেই মাথা ঝাঁকে৷ আমার কথার শেষে তারা আবার জানতে চায় নতুন কিছু। আমি আবার কথা বলি৷ তারা সেরা উপন্যাস নিতে চায়। যা তাদের পছন্দ হবে৷ আমি "মেঘের কোলে রোদ" আর "নুসাইবা" ক্রয় করতে বলি। তারা ক্রয় করে৷ কিছু টাকা ডিস...