Skip to main content

গল্প - কোনো এক দুঃখের রাতে । নাঈম খন্দকার রুম্মান

 কোনো এক দুঃখের রাতে
নাঈম খন্দকার রুম্মান

নাম না জানা জীবদের গান যখন ভেসে আসে তখন আনুমানিক রাত দেড়টা। এসব গান অবশ্য নতুন কিছু নয়৷ গ্রাম্য গানের এ আসর শুরু হয় সূর্য্য বিদায় নেবার পরপর৷ চলতে থাকে ফজরের আগ অবধি। তারপর শুরু হয় ভোরের পাখির গান৷ এ জীবগুলো বিশ্রামে যায় তখন।
গ্রাম্য নীতিতে চলা বিদ্যুৎ আচমকা হারিয়ে যায় বাতাসের ঝাপটায়৷ আকাশে তখন ফকফকে সাদা চাঁদ৷ তার জোছনার শাড়িতে আবৃত আশপাশের সবকিছু৷ অল্পকিছু কালোমেঘ তখন ঘুরে বেড়ায় আসমান জুড়ে৷ এমন সময় কাঠের জানালার ফাঁক দিয়ে অল্প একটু জোছনা চুঁইয়ে পড়লো মেঝেতে৷ জোছনার চুঁইয়ে পড়া এর আগে কখনো দেখিনি। জোছনায় আলোকিত হতে দেখেছি; আবৃত হতে দেখেছি। তবে চুঁইয়ে পড়তে এই প্রথমই দেখলাম। শনশন হাওয়ায় খেঁজুর গাছের পাতার নাচার শব্দ, পুকুরের পানিতে ভেঙে পড়া ডালের শব্দ আর নাম জানা জীবের গানের সাথে জোছনার নতুন রূপের পরিচয় মন্দ কিছু না৷ মেঝেতে লেপ্টে থাকা জোছনার দিকে তাকাতেই বিষাদের যন্ত্রণা ওঠে মনে, যেনো কেউ তাতে মিশিয়ে রেখেছে বিষ।
আচমকা হাওয়ার দোলে খুলে যায় স্মৃতির পাতা। তখন মাত্র সন্ধ্যের শুরু, চারিপাশ কুয়াশায় ঢাকা। এমন সময় পাশে বসে গান শুনিয়েছিলো এক গায়িকা৷ তার নামখানা অবশ্য মনে রাখতে পারিনি। অথবা নামখানা সে বলেনি৷ এ জোছনার সাথে-কি তার কোনো মিল আছে? নাহলে জোছনা দেখতেই কেনো ভেসে ওঠে তার রূপ? ভেসে আসে গলার সুর আর গানের কথা।
পথ হারানো যে পাখিটি না বলেই নীড়ের পথ ধরেছিলো, সে কি তার নীড়ে পৌঁছাতে পেরেছে? নাকি কোনো শিকারির মিষ্ট কথায় পা দিয়েছে ফাঁদে? জানা হলো না আর। আর কখনো পিয়ন আসেনি আমার দ্বারে৷ হয়তো সে কখনো চিঠিই পাঠায়নি৷ অথবা প্রাপকের নামটিই জানা নেই তার৷ হতে পারে, চিঠির অপেক্ষায় যে বসে আছে, তার প্রয়োজনীয়তাই নেই৷ কত কিছুই তো হতে পারে৷ মানুষের বোঝার সাধ্য কী!

Popular posts from this blog

মমতাদি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় । Momotadi by Manik Bandopadhyay

  "কেউ যা দেয় না, তুমি তা দেবে কেন?" বাক্যটির কথা সকলেরই মনে থাকার কথা৷ লাইনটুকু পড়েই খিলখিল করে হেসে উঠতো সবাই। সে হাসি দুষ্টু হাসি। ক্লাসের অন্য কোনো স্মৃতি কারও মনে না থাকলেও মমতাদিকে মনে হয়না কেউ ভুলেছে৷ মমতাদিকে ঘিরেইতো ছিলো বাংলা ক্লাসে হাসাহাসির আয়োজন। অন্তত সেই বাঙলা ক্লাসের স্মৃতিকে আগলে রাখায় মমতাদির একটি ধন্যবাদ প্রাপ্য। এখানে শিক্ষার্থীদের দোষ দিয়েও লাভ নেই। গল্পটার আংশিক ছিলো সে বইয়ে৷ মূলটুকুই দেয়া হয়েছিলো বাদ৷ ফলে মমতাদি ঠিক কেমন তা বুঝে ওঠা হয়নি কারোরই৷ তবে ক্লাসে জানা হয়নি বলে আর জানা হবে না, তা কিন্তু নয়। বেনজিন প্রকাশন কর্তৃক প্রকাশিত "মমতাদি" বইটি পড়লেই জানা যায় কে এই মমতাদি৷ বইটিতে স্থান পেয়েছে দুইটি গল্প৷ একটি "মমতাদি" এবং অপরটি "বৃহত্তর মহত্তর।" মমতাদির দু:খের জীবন যাপনের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রথম গল্পে৷ যেনো গ্রাম বাংলার সংসারের নিত্যদিনের রূপ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় চিত্রায়িত করেছেন রঙ-তুলিতে। এত দূর্দশা অত্যাচারের পরেও স্বামীর প্রতি ভালোবাসার কথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই গল্পে৷ "বৃহত্তর মহত্তর" গল্পে আবার একই মমতা...

কাগা সিরিজ - দ্য ফাইনাল কার্টেইন । কেইগো হিগাশিনো । অনুবাদ সালমান হক । কাগা সিরিজের ১০ম বই । Kaga series - The Final Curtain by Keigo Higashino . Bengali translated by Salman Haque . Tenth book of the series .

  কাগা সিরিজের শেষ বই "দ্য ফাইনাল কার্টেইন।" সিরিজটির দশম বই এটি। একটা প্রপার এন্ডিং যেভাবে দরকার সেভাবেই দিয়েছেন কেইগো হিগাশিনো। একটি গলে যাওয়া লাশের সন্ধান পায় পুলিশ৷ পরবর্তীতে জানা যায় নামকরা অভিনেত্রীর বান্ধবী সে৷ ওদিকে একটা ব্রীজের পাশে মারা যায় এক পাগল। এ খুনগুলো কে করলো? ওদিকে কাগার ধারণা তার পারিবারিক সংযোগ আছে এই খুনের সাথে। কীভাবে? এগুলো নিয়েই সাজানো দ্য ফাইনাল কার্টেইন। কাগার মনে একটা প্রশ্ন সবসময়ই ঘুরতো। সেই প্রশ্নের জবাবও পাওয়া যায় এখানে৷ পাওয়া যায় কাগার পরিবারের আদি অন্ত। তার মায়ের ব্যাপারে জানা যায় তথ্য। এই বইয়ে যতগুলো টুইস্ট দেয়া হয়েছে তা এর আগের কাগা সিরিজের বই (৪টা) এর একটাতেও পাইনি। মাথা হ্যাং হয়ে গিয়েছিলো। প্রচুর চরিত্র৷ প্রচুর টুইস্ট৷ অনুমানের বাইরের বিষয় আরকি। কেইগো হিগাশিনো বেস্ট থ্রিলার লেখকদের মধ্যে অন্যতম। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই৷ শুধুমাত্র গোয়েন্দাগিরি, মারকাট ইত্যাদিতেই ডুবে না থেকে তুলে ধরেন সমাজের বাস্তব চিত্র। তুলে ধরেন নানা দর্শন৷ এই বইটা পড়ে পাঠকের সে বিষয়টি আরও একবার মনে পড়বে৷ প্রোডাকশন-প্রচ্ছদ সুন্দর। তবে সম্পাদনা হয়নি৷ হলেও ভালো হয়নি। অন...

দ্য রেড ফিঙ্গার - কেইগো হিগাশিনো । The Red Finger by Keigo Higashino

  " লাল আঙ্গুল " এর আগে পড়েছিলাম "টোকিওতে একটি হত্যা" বইটি। দুইটার মধ্যে ব্যবধান আকাশ আর পাতাল। গল্পের স্ট্রাকচার দুইটারই আলাদা। আমার বেশি ভালো লেগেছে "লাল আঙ্গুল" তথা "দ্য রেড ফিঙ্গার।" বইটার মধ্যে তুলে ধরা হয়েছে নানান বিষয়। তার মধ্যে অন্যতম মায়ের অতি আহ্লাদী স্বভাবের কারনে সন্তান নষ্ট হয়। বউয়ের শয়তানির ফাঁদে পড়ে স্বামীও শয়তান হয়ে যায়৷ আবার একই সাথে সন্তানের প্রতি মায়ের যত্ন, ভালোবাসা, স্নেহগুলো কেমন হয় তাও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। . সেই সাথে কিয়োচিরো কাগার পারিবারিক আলাপ করা হয়েছে এই বইয়ে৷ একই সাথে ফুটে উঠেছে মাতসুমিয়ার পরিচয়ও। দূর্দান্ত৷ এই বইটা শুরু হয় হত্যাকারীর পরিচয় দিয়ে দেয়ার মাধ্যমে। এরপর ধীরে ধীরে দেখানো হয় দুইটা পার্স্পেক্টিভ৷ কীভাবে গোয়েন্দাদের বোকা বানানোর চেষ্টা করা হয়৷ আবার গোয়েন্দারাও কীভাবে বোকা না হয়ে উলটো ফাঁদে ফেলেন সেসব বিষয়৷ খুনির পরিচয় দেয়া হলেও পুরো বই জুড়ে সাসপেন্স আর সাসপেন্স। কী হয় নাহয়, গোয়েন্দারা আদৌ সমীকরণ মেলাতে পারবে কিনা ইত্যাদি নানান বিষয়৷ এই বইটা আমার পড়া সেরা বইগুলোর মধ্যে একটি।