Skip to main content

গল্প - পিনিক । নাঈম খন্দকার রুম্মান

 পিনিক
নাঈম খন্দকার রুম্মান 




মেহেদি ইসলাম একজন বিবাহিত পুরুষ। কুমিল্লার জামাই৷ একজন বিবাহিত পুরুষ খুবই অভিজ্ঞ হন। কারণ, যিনি একজন নারী সামলাইতে পারেন তিনি গোটা দুনিয়া সামলাইতে পারেন বলেই আমার ধারণা। সুতরাং সেই হিসাবে মেহেদি ইসলাম খুবই অভিজ্ঞ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
মেহেদি ইসলাম এর আম্মা তথা আন্টির ধারণা আমি খুবই বাজে একটি ছেলে৷ আমি তার ছেলেকে ভুল পথে পরিচালিত করছি। অবশ্য তার এমন ধারণার কারণ আছে। একবার মেহেদি ইসলামকে আমি পাওয়ার খেতে দিয়েছিলাম। ভদ্রলোক সেটা না খেয়ে বাসায় নিয়ে যান এবং আন্টির হাতে কট খান। তিনি আন্টিকে বললেন এটা রুম্মান ভাই হাদিয়া দিয়েছেন। এটা কোক। আন্টির কথা হলো কোক হয় সাদা হবে, নাহলে হবে কালো, অথবা হবে কমলা রঙের। মদের রঙ হবে না৷ এরপর ঢাকনা খুলে ঘ্রাণ নিতেই আমার কেল্লা ফতে৷
আন্টির মানা সত্ত্বেও আমি তাদের বাড়ি যেতাম। কারণ গেলেই আন্টি খাওয়া দাওয়া করাতেন। তার মতে বাড়ি এলে শত্রুদেরও খানাপিনা করাতে হয়। তাই আমিও সুযোগ হাতছাড়া করিনি। তিনি আমাকে ছ্যাঁচড়া ভাবেননি এটা নিশ্চিত। শত হলেও আমি তার ছেলের বন্ধু।
আন্টির এই সাধু ছেলেটি আমার একজন শিক্ষকও বটে৷ সে আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে মিথ্যে বলতে হয়। এমং-আস গেম নামিয়ে খেলতে বলেছিলো৷ সেখানে পুরোটাই মিথ্যের ছড়াছড়ি। আমি নিজে দেখলাম মেহেদি ভাই একটা ছেলেকে নক করলো, অথচ আমার সামনেই সে অবলীলায় বলছিলো— আরে আমি না আমি না, নক করছে রুম্মান ভাই৷ আমি বেকুবের মতো তার দিকে তাকায়ে রইলাম। তিনি মুচকী হাসি দিলেন।
একদিন খুব ভোরে মেহেদি ভাই কল দিলেন।
— রুম্মান ব্র৷ কই আপনে?
— বাসায় ভাই৷
— কি করেন?
— ক্লাসে যাবো। রেডি হইতেছি।
— রেডি হয়া বাসায় আসেন আমার।
— ক্যা?
— পিনিক উঠছে৷ পিনিক খাবো৷ কুইকাসেন৷
— বাসায় কেউ নাই?
— না কেউ নাই। আইসা পড়েন৷ শোনেন আসার টাইমে লেবু আইনেন।
— ওকে।
আমি জীবনেও পিনিক করি নাই৷ তবে ইন্টারনেটের বদৌলতে জেনেছি পিনিকের ক্ষেত্রে লেবু খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই একহালি লেবু কিনে ক্লাস বাংক দিয়ে সোজা মেহেদি ইসলাম ভাইয়ের বাসায় গেলাম। দরজা খুলেই বললেন— লেবু আনছেন? আসেন। ভিত্রে আসেন।
আমি ভেতরে গেলাম। ভাই কাসুন্দি আনলেন। কাসুন্দি কেন আনলেন আমি জানিনা। ভাবলাম হয়তো পিনিকের সাথে একটু সর্ষের স্বাদ নেয়ার জন্য কাসুন্দি ব্যবহার করবেন। আমাকে বললেন তার রুমে গিয়ে বসতে৷ তিনি নাকি পিনিক বানিয়ে আনবেন৷ আমি তার রুমে গিয়ে বসলাম। এসবে সিক্রেট রেসিপি থাকে। যা অন্য কাউকে জানানো যায় না৷ যাইহোক, তার রুমের ফ্যানে বাতাস নাই৷ ঠান্ডা হয় না৷ একারণেই বোধহয় ভাবির মাথা সবসময় গরম থাকে৷
একটু পর সানগ্লাস চোখে ভাই ভিতরে আসলেন৷ এটা ওনার সিগনেচার স্টাইল। হাতে একটা সাদা কাঁচের প্লেট৷ তিনি এনে আমার সামনে রাখলেন৷ আমি তাকিয়ে দেখলাম ভ্যাবলার মতন। তাতে লেবু ফালি ফালি করে কাটা৷ উপরে মরিচের গুড়া ছিটানো৷ তার সাথে সরিষার তেল আর কাসুন্দি মিক্স৷ বিট লবণ ছড়িয়ে দেয়া। ভাই নিজের কৃতিত্ব বাড়ানোর জন্য একটু মধুও দিয়েছেন৷ প্লেটে নজর বুলালাম। এরপর আমি জিজ্ঞাসা করলাম,
— ভাই জিনিস কই?
— কি জিনিস?
— কল দিলেন পিনিক করবেন৷ পিনিক কই?
— এইটাইতো পিনিক৷ লেবুর পিনিক৷ নাম শুনেন নাই?
আমি আবারও ভ্যাবলার মতো তাকায়া থাকলাম আর মনে মনে বললাম, “শালার শেতাঙ্গ।”

Popular posts from this blog

মমতাদি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় । Momotadi by Manik Bandopadhyay

  "কেউ যা দেয় না, তুমি তা দেবে কেন?" বাক্যটির কথা সকলেরই মনে থাকার কথা৷ লাইনটুকু পড়েই খিলখিল করে হেসে উঠতো সবাই। সে হাসি দুষ্টু হাসি। ক্লাসের অন্য কোনো স্মৃতি কারও মনে না থাকলেও মমতাদিকে মনে হয়না কেউ ভুলেছে৷ মমতাদিকে ঘিরেইতো ছিলো বাংলা ক্লাসে হাসাহাসির আয়োজন। অন্তত সেই বাঙলা ক্লাসের স্মৃতিকে আগলে রাখায় মমতাদির একটি ধন্যবাদ প্রাপ্য। এখানে শিক্ষার্থীদের দোষ দিয়েও লাভ নেই। গল্পটার আংশিক ছিলো সে বইয়ে৷ মূলটুকুই দেয়া হয়েছিলো বাদ৷ ফলে মমতাদি ঠিক কেমন তা বুঝে ওঠা হয়নি কারোরই৷ তবে ক্লাসে জানা হয়নি বলে আর জানা হবে না, তা কিন্তু নয়। বেনজিন প্রকাশন কর্তৃক প্রকাশিত "মমতাদি" বইটি পড়লেই জানা যায় কে এই মমতাদি৷ বইটিতে স্থান পেয়েছে দুইটি গল্প৷ একটি "মমতাদি" এবং অপরটি "বৃহত্তর মহত্তর।" মমতাদির দু:খের জীবন যাপনের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রথম গল্পে৷ যেনো গ্রাম বাংলার সংসারের নিত্যদিনের রূপ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় চিত্রায়িত করেছেন রঙ-তুলিতে। এত দূর্দশা অত্যাচারের পরেও স্বামীর প্রতি ভালোবাসার কথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই গল্পে৷ "বৃহত্তর মহত্তর" গল্পে আবার একই মমতা...

কাগা সিরিজ - দ্য ফাইনাল কার্টেইন । কেইগো হিগাশিনো । অনুবাদ সালমান হক । কাগা সিরিজের ১০ম বই । Kaga series - The Final Curtain by Keigo Higashino . Bengali translated by Salman Haque . Tenth book of the series .

  কাগা সিরিজের শেষ বই "দ্য ফাইনাল কার্টেইন।" সিরিজটির দশম বই এটি। একটা প্রপার এন্ডিং যেভাবে দরকার সেভাবেই দিয়েছেন কেইগো হিগাশিনো। একটি গলে যাওয়া লাশের সন্ধান পায় পুলিশ৷ পরবর্তীতে জানা যায় নামকরা অভিনেত্রীর বান্ধবী সে৷ ওদিকে একটা ব্রীজের পাশে মারা যায় এক পাগল। এ খুনগুলো কে করলো? ওদিকে কাগার ধারণা তার পারিবারিক সংযোগ আছে এই খুনের সাথে। কীভাবে? এগুলো নিয়েই সাজানো দ্য ফাইনাল কার্টেইন। কাগার মনে একটা প্রশ্ন সবসময়ই ঘুরতো। সেই প্রশ্নের জবাবও পাওয়া যায় এখানে৷ পাওয়া যায় কাগার পরিবারের আদি অন্ত। তার মায়ের ব্যাপারে জানা যায় তথ্য। এই বইয়ে যতগুলো টুইস্ট দেয়া হয়েছে তা এর আগের কাগা সিরিজের বই (৪টা) এর একটাতেও পাইনি। মাথা হ্যাং হয়ে গিয়েছিলো। প্রচুর চরিত্র৷ প্রচুর টুইস্ট৷ অনুমানের বাইরের বিষয় আরকি। কেইগো হিগাশিনো বেস্ট থ্রিলার লেখকদের মধ্যে অন্যতম। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই৷ শুধুমাত্র গোয়েন্দাগিরি, মারকাট ইত্যাদিতেই ডুবে না থেকে তুলে ধরেন সমাজের বাস্তব চিত্র। তুলে ধরেন নানা দর্শন৷ এই বইটা পড়ে পাঠকের সে বিষয়টি আরও একবার মনে পড়বে৷ প্রোডাকশন-প্রচ্ছদ সুন্দর। তবে সম্পাদনা হয়নি৷ হলেও ভালো হয়নি। অন...

Whatever God Does, He does beautifully

Forty Rule of Love এর 36 নং রুলটা পড়তে গিয়ে বেশ চমৎকার একটা লেখা পড়লাম। এভাবেও যে লেখা যায়; ভাবা যায়; তা আমার জানা ছিলো না৷ শুরুতে এলিফ শাফাক লিখলেন চক্রান্তের কথা। তিনি মানুষের চক্রান্তে ভয় পেতে নিষেধ করলেন৷ কেননা যে চক্রান্ত করে আল্লাহও তার জন্য চক্রান্ত করে৷ এখানে চক্রান্ত মূলত ফাঁদ হিসেবে বসেছে৷ এরপর সেখানে জানিয়েছেন আল্লাহর ফাঁদ আরও ভয়াবহ৷  বেশ সরল রেখা। কোরআন থেকে নেয়া সরল আলাপ। বিশেষত্ব কিছুই নেই৷ কিন্তু খেলা ঘুরে যায় শেষ লাইনে। সেখানে এলিফ লেখেন, " Whatever God does, He does beautifully" এই লাইনটুকু এভাবে বোঝা যাবে না। বিউটিফুলকে অনুবাদ করলে আসবে "সুন্দর, সুনিপুণ"। কিন্তু এতে মূল গাম্ভীর্য ফুটে ওঠে না৷ কারণ প্রতিটা ভাষার নিজস্ব গভীরতা, গাম্ভীর্য আছে৷ ফলে কিছু শব্দ এমন হয় যাকে অনুবাদ করলে সেই গভীরতা বা গাম্ভীর্য বিলীন হয়ে যায়৷ তাই কিছু সময় লেখাটি ঐ মূল শব্দেই পড়তে হয়; রাখতে হয়; অনুভব করতে হয়৷  পুরো আলাপটি বোঝার জন্য মূল লেখাটা এই মোমেন্টে পড়া উচিত৷ মূল লেখাটি হলো - "This world is erected upon the principle of reciprocity. Neither a drop of kindness nor a...