অদ্ভুত এক বই!
নাঈম খন্দকার রুম্মান
আমি আর কথাসাহিত্যিক রোফিনুর রহমান খেয়াল করলাম বন্ধু তোনভিরুল ইসলাম ঠিক এভাবেই হাসছেন। আড্ডার মাঝে মাঝেই তিনি হাসছেন। হাসিকে ঠিক মৃদু বা মুচকী হাসিও বলা যায় না। আবার অট্টহাসি-ও নয়৷ কৌতুহল সংবরণ করতে না-পেরে জিজ্ঞাসা করেই ফেললুম, "পেয়ারে ভাই। আপনি কেন অমন করে হাসছেন?" বন্ধু তোনভিরুল কোনো জবাব দিলেন না। তিনি লজ্জায় মাথা নত করে হাসছিলেন। লজ্জায় তার গাল লাল হয়ে গেলো৷ তা দেখে কথাসাহিত্যিক রোফিনুর রহমান বললেন, "টমেটো লাল, মরিচ ঝাল ; ইব্রাহিমের ভালো লাগে তোনভিরুলের গাল।"এমনি সময় অমন নিয়মবহির্ভূত ছন্দ ব্যবহারে তোনভিরুল ক্ষেপে যেতো। কিন্তু আজ ক্ষেপে গেলো না। আমি আর কথাসাহিত্যিক রোফিনুর একে অপরের দিকে তাকিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করলাম। ফের তোনভিরুলকে জিজ্ঞাসা করলাম, "পেয়ারে ভাই। আপনি কি প্রেমে পড়েছেন?" তোনভিরুল মাথা ডানবাম করতে লাগলো। আমি আবারও জানতে চাইলাম, "তাহলে কী হয়েছে বলুন।" তোনভিরুল আবার হাসলো। তোনভিরুল ইসলাম এরপর কণ্ঠ নিচু করে বললেন, "পেয়ারে ভাইগণ। বাংলা সাহিত্য খুবই সুন্দর৷ এতে রয়েছে অত্যাধিক মজা। অদ্ভুত স্বাদ৷ রসে টৈটুম্বুর৷ তেমনি একখানা স্বাদযুক্ত কেতাব পড়েছি। এতই স্বাদের কেতাব যে, এখনো সেসব কথা মনে পড়ছে৷ মন খুশি হয়ে উঠছে৷" কথাগুলো মাথার উপর দিয়ে গেলো। রোফিনুর দিকে তাকাতেই দেখি সে আগে থেকেই আমার দিকে ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে আছে। সুতরাং নিশ্চিত কথাগুলো তার মাথায়ও ঢোকেনি। এমন নয় যে, আমরা তোনভিরুলের কথাগুলো শুনিনি। আমরা শুনেছি৷ তবে এটি বিশ্বাসযোগ্য না৷ যে ভদ্রলোক গুগল থেকে হুমায়ূন আহমেদের উক্তি সংগ্রহ করে নিজ প্রোফাইলের ক্যাপশন দেয়, সাহিত্য-তো দূর কি বাত। সেই ভদ্রলোক সাহিত্যের রসযুক্ত কেতাব পড়েছেন আবার তার স্বাদও উপলব্ধি করতে পেরেছেন ব্যাপারটা কোনো ক্রমেই মেনে নিতে পারছিনা আমি আর রোফিনুর। আমি অবাক হয়েই জানতে চাইলাম, "পেয়ারে ভাই। সে কোন কেতাব? নামখানা বলুন।" তোনভিরুল ভ্রূ কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, "সে-কি! বই নিয়ে ভিডিও বানান অথচ কেতাবখানার নাম জানেন না? এতগুলো হিন্ট দিলাম এতেই তো বুঝবার কথা। আসলে সাহিত্য নিয়ে আপনি তেমন জ্ঞান রাখেন না৷ ক্যামেরার সামনে বাম হাত নাড়ালেই কেউ সাহিত্যবোদ্ধা হয়ে যায় না।" আমি ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে রইলাম। কথাসাহিত্যিক বললেন, " প্রিয় বন্ধু আমার; বলো দেখি কেতাবখানার নাম। নামখানা শুনিতে মন করে আনচান।"তোনভিরুল ইসলাম আবার হাসছেন। ওদিকে এমন অপমান সহ্য করার জন্য আমিও দৃঢ় পণ করে বসলাম সাহিত্যের এমন অমূল্য রত্নের নামখানা জেনেই ছাড়বো৷ আমি আবারও বললাম, "পেয়ারে ভাই৷ কেতাবখানার নাম বলে আমাকে উদ্ধার করুন৷" কথাসাহিত্যিক রোফিনুরও বললেন, " ওহে লাজুক হাসির ছেলে — তোমার ঐ লজ্জার বস্ত্র দাও দূরে ফেলে — ভণ্ডামিসব বাদ দিয়ে নামখানা দাও বলে।""আপনিই যেহেতু নামটি জানেন না, সেহেতু বুঝতেই পারছেন কেতাবখানা কতিটা রেয়ার৷ বাংলাসাহিত্যের দূর্দান্ত বইগুলো এমন আন্ডাররেটেড থাকে। খুবই ভাগ্যবান ব্যক্তিবর্গই এমন কেতাবের সন্ধান পান।", বললো তোনভিরুল৷ আমি আরও বিস্ময় নিয়ে বইখানা দেখানোর আকুতি করলাম। তোনভিরুল বললেন, "পেয়ারে ভাই। কেতাবখানা আমার ব্যাগের ভেতরেই আছে। নামখানা বলে আর কি হবে? কেতাবখানা বরং আপনার হাতে দেই। আপনি একটু ছুঁইয়া দেখুন। আপনি আমার বন্ধু। আপনার এমন সুযোগ থেকে দূরে রাখতে চাই না৷" আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, "অমন অমূল্য কেতাব নিয়ে আপনি ভ্রমণ করে বেড়াচ্ছেন?" তোনভিরুল জবাব দিলেন, " কী আর করবো বলুন? সাহিত্যের অমন স্বাদ বারবার আস্বাদন করতে মন চায়৷ মনের পিয়াসা নিবারণ করতেই আড়ালে কেতাবখানা পড়ি। সকলের সামনে পড়ি না৷ আপনারাও পড়িবেন না৷ এমন স্বাদ সকলের জন্য নয়।"তোনভিরুল তার ব্যাগ থেকে কেতাব বের করলেন৷ একখানা কাপড় দিয়ে কেতাবটিকে পেঁচিয়ে রেখেছেন তিনি৷ আমি দূরের লেখা অস্পষ্ট দেখি। চোখে সমস্যা৷ তবুও বন্ধু তোনভিরুল কাপড় সরাতেই বাংলা সাহিত্যের স্বাদযুক্ত কেতাবের নাম স্পষ্ট দেখতে পেলাম৷ নামলিপিতে লেখা ছিলো -"প্রেমাতাল"
আমি আর কথাসাহিত্যিক রোফিনুর রহমান খেয়াল করলাম বন্ধু তোনভিরুল ইসলাম ঠিক এভাবেই হাসছেন। আড্ডার মাঝে মাঝেই তিনি হাসছেন। হাসিকে ঠিক মৃদু বা মুচকী হাসিও বলা যায় না। আবার অট্টহাসি-ও নয়৷ কৌতুহল সংবরণ করতে না-পেরে জিজ্ঞাসা করেই ফেললুম, "পেয়ারে ভাই। আপনি কেন অমন করে হাসছেন?" বন্ধু তোনভিরুল কোনো জবাব দিলেন না। তিনি লজ্জায় মাথা নত করে হাসছিলেন। লজ্জায় তার গাল লাল হয়ে গেলো৷ তা দেখে কথাসাহিত্যিক রোফিনুর রহমান বললেন, "টমেটো লাল, মরিচ ঝাল ; ইব্রাহিমের ভালো লাগে তোনভিরুলের গাল।"
এমনি সময় অমন নিয়মবহির্ভূত ছন্দ ব্যবহারে তোনভিরুল ক্ষেপে যেতো। কিন্তু আজ ক্ষেপে গেলো না। আমি আর কথাসাহিত্যিক রোফিনুর একে অপরের দিকে তাকিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করলাম। ফের তোনভিরুলকে জিজ্ঞাসা করলাম, "পেয়ারে ভাই। আপনি কি প্রেমে পড়েছেন?" তোনভিরুল মাথা ডানবাম করতে লাগলো। আমি আবারও জানতে চাইলাম, "তাহলে কী হয়েছে বলুন।" তোনভিরুল আবার হাসলো।
তোনভিরুল ইসলাম এরপর কণ্ঠ নিচু করে বললেন, "পেয়ারে ভাইগণ। বাংলা সাহিত্য খুবই সুন্দর৷ এতে রয়েছে অত্যাধিক মজা। অদ্ভুত স্বাদ৷ রসে টৈটুম্বুর৷ তেমনি একখানা স্বাদযুক্ত কেতাব পড়েছি। এতই স্বাদের কেতাব যে, এখনো সেসব কথা মনে পড়ছে৷ মন খুশি হয়ে উঠছে৷" কথাগুলো মাথার উপর দিয়ে গেলো। রোফিনুর দিকে তাকাতেই দেখি সে আগে থেকেই আমার দিকে ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে আছে। সুতরাং নিশ্চিত কথাগুলো তার মাথায়ও ঢোকেনি। এমন নয় যে, আমরা তোনভিরুলের কথাগুলো শুনিনি। আমরা শুনেছি৷ তবে এটি বিশ্বাসযোগ্য না৷ যে ভদ্রলোক গুগল থেকে হুমায়ূন আহমেদের উক্তি সংগ্রহ করে নিজ প্রোফাইলের ক্যাপশন দেয়, সাহিত্য-তো দূর কি বাত। সেই ভদ্রলোক সাহিত্যের রসযুক্ত কেতাব পড়েছেন আবার তার স্বাদও উপলব্ধি করতে পেরেছেন ব্যাপারটা কোনো ক্রমেই মেনে নিতে পারছিনা আমি আর রোফিনুর।
আমি অবাক হয়েই জানতে চাইলাম, "পেয়ারে ভাই। সে কোন কেতাব? নামখানা বলুন।" তোনভিরুল ভ্রূ কুঁচকে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, "সে-কি! বই নিয়ে ভিডিও বানান অথচ কেতাবখানার নাম জানেন না? এতগুলো হিন্ট দিলাম এতেই তো বুঝবার কথা। আসলে সাহিত্য নিয়ে আপনি তেমন জ্ঞান রাখেন না৷ ক্যামেরার সামনে বাম হাত নাড়ালেই কেউ সাহিত্যবোদ্ধা হয়ে যায় না।" আমি ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে রইলাম। কথাসাহিত্যিক বললেন, " প্রিয় বন্ধু আমার; বলো দেখি কেতাবখানার নাম। নামখানা শুনিতে মন করে আনচান।"
তোনভিরুল ইসলাম আবার হাসছেন। ওদিকে এমন অপমান সহ্য করার জন্য আমিও দৃঢ় পণ করে বসলাম সাহিত্যের এমন অমূল্য রত্নের নামখানা জেনেই ছাড়বো৷ আমি আবারও বললাম, "পেয়ারে ভাই৷ কেতাবখানার নাম বলে আমাকে উদ্ধার করুন৷" কথাসাহিত্যিক রোফিনুরও বললেন, " ওহে লাজুক হাসির ছেলে — তোমার ঐ লজ্জার বস্ত্র দাও দূরে ফেলে — ভণ্ডামিসব বাদ দিয়ে নামখানা দাও বলে।"
"আপনিই যেহেতু নামটি জানেন না, সেহেতু বুঝতেই পারছেন কেতাবখানা কতিটা রেয়ার৷ বাংলাসাহিত্যের দূর্দান্ত বইগুলো এমন আন্ডাররেটেড থাকে। খুবই ভাগ্যবান ব্যক্তিবর্গই এমন কেতাবের সন্ধান পান।", বললো তোনভিরুল৷ আমি আরও বিস্ময় নিয়ে বইখানা দেখানোর আকুতি করলাম। তোনভিরুল বললেন, "পেয়ারে ভাই। কেতাবখানা আমার ব্যাগের ভেতরেই আছে। নামখানা বলে আর কি হবে? কেতাবখানা বরং আপনার হাতে দেই। আপনি একটু ছুঁইয়া দেখুন। আপনি আমার বন্ধু। আপনার এমন সুযোগ থেকে দূরে রাখতে চাই না৷" আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, "অমন অমূল্য কেতাব নিয়ে আপনি ভ্রমণ করে বেড়াচ্ছেন?" তোনভিরুল জবাব দিলেন, " কী আর করবো বলুন? সাহিত্যের অমন স্বাদ বারবার আস্বাদন করতে মন চায়৷ মনের পিয়াসা নিবারণ করতেই আড়ালে কেতাবখানা পড়ি। সকলের সামনে পড়ি না৷ আপনারাও পড়িবেন না৷ এমন স্বাদ সকলের জন্য নয়।"
তোনভিরুল তার ব্যাগ থেকে কেতাব বের করলেন৷ একখানা কাপড় দিয়ে কেতাবটিকে পেঁচিয়ে রেখেছেন তিনি৷ আমি দূরের লেখা অস্পষ্ট দেখি। চোখে সমস্যা৷ তবুও বন্ধু তোনভিরুল কাপড় সরাতেই বাংলা সাহিত্যের স্বাদযুক্ত কেতাবের নাম স্পষ্ট দেখতে পেলাম৷ নামলিপিতে লেখা ছিলো -
"প্রেমাতাল"