Skip to main content

গল্প - কিছু দুঃখ ও কয়েকজন কবি । নাঈম খন্দকার রুম্মান

 কিছু দুঃখ ও কয়েকজন কবি
নাঈম খন্দকার রুম্মান


"বুঝলেন ভাই, কবিতা হলো মনের ভেতরের ভাষা।"
কথাটি বলে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন নাইম হাসান। যেনো তিনি একটা প্রশ্ন করেছেন যার উত্তর দিতে আমি বাধ্য। অথচ তিনি তার মতামত দিলেন। এখানে চাইলেই আমি চুপ থাকতে পারি। কিন্তু ভদ্রলোক আমার মিতা মানুষ। তার ওপর যেভাবে তাকিয়ে আছেন! আর এর থেকেও বড়ো বিষয় তিনি আমার মুরুব্বি। মুরুব্বিদের কথা মানতেই হবে। তা উপেক্ষা করার সাধ্য নেই কারো। তাই বিরক্ত হলেও বললাম, "কথা সত্য। কবিতা মনের ভাষা।"
- তবে রবী বলেছেন ভিন্ন কথা৷
- কী কথা?
- রবী বলেছেন, "ছন্দ হলো কবির জোর করে দেয়া বিরামচিহ্ন।" এর মানে কি হলো বুঝতে পারছেন?
- না।
- এখান থেকে সমীকরণ দাঁড়ায়— কবি যা লিখবে তা-ই কবিতা৷
কথা শেষ করে ভদ্রলোক মোরোব্বা দেয়া পাউরুটি চায়ে ভিজিয়ে খাচ্ছেন৷ আমার জীবনে কাউকে মোরোব্বা দেয়া রুটি ভিজিয়ে খেতে দেখিনি। অবাকই লাগছে। এমন স্মার্ট একটা ছেলে অদ্ভুত ভাবে খাচ্ছে! এদিকে অবশ্য তার খেয়াল নেই। তিনি খচমচ করে পাউরুটি চিবুচ্ছেন। আমি জানি পাউরুটি চিবুলে খচমচ শব্দ হয় না৷ তবে তার খাওয়ার ধরন বাস্তবেই অমন৷ মানুষ শুধু তখনই এভাবে খায় যখন খাওয়া শেষে কিছু সে বলতে চায়। তাই চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে অপেক্ষায় রইলাম নাইম হাসানের বক্তব্য শোনার জন্য৷
- তবে ভাই জটিল একটা প্রশ্ন হলো— কবি কে?
- জানিনা৷ আপনি বলুন।
- আমিও জানিনা। তবে ছোটোবেলায় নাটক থেকে জেনেছি দু:খী মানুষই নাকি কবি।
- সেই হিসেবে আমিও একজন কবি।
- না ভাই। আপনি না, সেই হিসেবে আমি কবি৷
আমি ভেবে পাইনা যে লোক এমন আনন্দের সাথে গপাগপ মোরোব্বা দেয়া পাউরুটি খেতে পারে সে কীভাবে দু:খী হয়? দু:খী মানুষের গলা দিয়ে তো খাবার নামারই কথা নয়৷ এ আবার কেমন দু:খ?
নাইম হাসান আর কথা বাড়ালো না৷ চা পান শেষেই বিদায় নিলেন। রাত তখন ১১ টা বাজে৷ আমি হেঁটে বেড়াচ্ছি মডেল একাডেমির মাঠে৷ ধীর পায়ে। মাঝে মাঝে মৃদু হাওয়া দোল দিয়ে যায়৷ তখন আকাশের দিকে তাকাই৷ একদলা সাদা মেঘ ভেসে যাচ্ছে৷ কোথায় যাচ্ছে সে? কিছু সময় বাদেই সে-ও মিলিয়ে যাবে হাওয়ায়। যেভাবে মিলিয়ে যায় প্রাইমারির ক্লাসে বেণী বেঁধে আসা মেয়েটি।
আমার আচমকা মনে পড়ে নাইম হাসানের বয়ান। বয়ানের সারমর্ম — দু:খী মানুষই কবি৷ ভেবে দেখলাম আমার চারপাশে কবির ছড়াছড়ি। তোনভিরুল,সোলেহুল থেকে শুরু করে রোফিনুর প্রত্যেকেই বিশিষ্ট কবি। তবে তাদের কবিতা প্রকাশ হয় না। কেউ সে কবিতার ভাষা বোঝে না। বোঝে না কবিতার ছন্দ, শব্দ, বাক্য। কেন বোঝে না?
প্রশ্ন করার আগেই হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো একদলা সাদা মেঘ।

Popular posts from this blog

মমতাদি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় । Momotadi by Manik Bandopadhyay

  "কেউ যা দেয় না, তুমি তা দেবে কেন?" বাক্যটির কথা সকলেরই মনে থাকার কথা৷ লাইনটুকু পড়েই খিলখিল করে হেসে উঠতো সবাই। সে হাসি দুষ্টু হাসি। ক্লাসের অন্য কোনো স্মৃতি কারও মনে না থাকলেও মমতাদিকে মনে হয়না কেউ ভুলেছে৷ মমতাদিকে ঘিরেইতো ছিলো বাংলা ক্লাসে হাসাহাসির আয়োজন। অন্তত সেই বাঙলা ক্লাসের স্মৃতিকে আগলে রাখায় মমতাদির একটি ধন্যবাদ প্রাপ্য। এখানে শিক্ষার্থীদের দোষ দিয়েও লাভ নেই। গল্পটার আংশিক ছিলো সে বইয়ে৷ মূলটুকুই দেয়া হয়েছিলো বাদ৷ ফলে মমতাদি ঠিক কেমন তা বুঝে ওঠা হয়নি কারোরই৷ তবে ক্লাসে জানা হয়নি বলে আর জানা হবে না, তা কিন্তু নয়। বেনজিন প্রকাশন কর্তৃক প্রকাশিত "মমতাদি" বইটি পড়লেই জানা যায় কে এই মমতাদি৷ বইটিতে স্থান পেয়েছে দুইটি গল্প৷ একটি "মমতাদি" এবং অপরটি "বৃহত্তর মহত্তর।" মমতাদির দু:খের জীবন যাপনের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রথম গল্পে৷ যেনো গ্রাম বাংলার সংসারের নিত্যদিনের রূপ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় চিত্রায়িত করেছেন রঙ-তুলিতে। এত দূর্দশা অত্যাচারের পরেও স্বামীর প্রতি ভালোবাসার কথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই গল্পে৷ "বৃহত্তর মহত্তর" গল্পে আবার একই মমতা...

কাগা সিরিজ - দ্য ফাইনাল কার্টেইন । কেইগো হিগাশিনো । অনুবাদ সালমান হক । কাগা সিরিজের ১০ম বই । Kaga series - The Final Curtain by Keigo Higashino . Bengali translated by Salman Haque . Tenth book of the series .

  কাগা সিরিজের শেষ বই "দ্য ফাইনাল কার্টেইন।" সিরিজটির দশম বই এটি। একটা প্রপার এন্ডিং যেভাবে দরকার সেভাবেই দিয়েছেন কেইগো হিগাশিনো। একটি গলে যাওয়া লাশের সন্ধান পায় পুলিশ৷ পরবর্তীতে জানা যায় নামকরা অভিনেত্রীর বান্ধবী সে৷ ওদিকে একটা ব্রীজের পাশে মারা যায় এক পাগল। এ খুনগুলো কে করলো? ওদিকে কাগার ধারণা তার পারিবারিক সংযোগ আছে এই খুনের সাথে। কীভাবে? এগুলো নিয়েই সাজানো দ্য ফাইনাল কার্টেইন। কাগার মনে একটা প্রশ্ন সবসময়ই ঘুরতো। সেই প্রশ্নের জবাবও পাওয়া যায় এখানে৷ পাওয়া যায় কাগার পরিবারের আদি অন্ত। তার মায়ের ব্যাপারে জানা যায় তথ্য। এই বইয়ে যতগুলো টুইস্ট দেয়া হয়েছে তা এর আগের কাগা সিরিজের বই (৪টা) এর একটাতেও পাইনি। মাথা হ্যাং হয়ে গিয়েছিলো। প্রচুর চরিত্র৷ প্রচুর টুইস্ট৷ অনুমানের বাইরের বিষয় আরকি। কেইগো হিগাশিনো বেস্ট থ্রিলার লেখকদের মধ্যে অন্যতম। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই৷ শুধুমাত্র গোয়েন্দাগিরি, মারকাট ইত্যাদিতেই ডুবে না থেকে তুলে ধরেন সমাজের বাস্তব চিত্র। তুলে ধরেন নানা দর্শন৷ এই বইটা পড়ে পাঠকের সে বিষয়টি আরও একবার মনে পড়বে৷ প্রোডাকশন-প্রচ্ছদ সুন্দর। তবে সম্পাদনা হয়নি৷ হলেও ভালো হয়নি। অন...

Whatever God Does, He does beautifully

Forty Rule of Love এর 36 নং রুলটা পড়তে গিয়ে বেশ চমৎকার একটা লেখা পড়লাম। এভাবেও যে লেখা যায়; ভাবা যায়; তা আমার জানা ছিলো না৷ শুরুতে এলিফ শাফাক লিখলেন চক্রান্তের কথা। তিনি মানুষের চক্রান্তে ভয় পেতে নিষেধ করলেন৷ কেননা যে চক্রান্ত করে আল্লাহও তার জন্য চক্রান্ত করে৷ এখানে চক্রান্ত মূলত ফাঁদ হিসেবে বসেছে৷ এরপর সেখানে জানিয়েছেন আল্লাহর ফাঁদ আরও ভয়াবহ৷  বেশ সরল রেখা। কোরআন থেকে নেয়া সরল আলাপ। বিশেষত্ব কিছুই নেই৷ কিন্তু খেলা ঘুরে যায় শেষ লাইনে। সেখানে এলিফ লেখেন, " Whatever God does, He does beautifully" এই লাইনটুকু এভাবে বোঝা যাবে না। বিউটিফুলকে অনুবাদ করলে আসবে "সুন্দর, সুনিপুণ"। কিন্তু এতে মূল গাম্ভীর্য ফুটে ওঠে না৷ কারণ প্রতিটা ভাষার নিজস্ব গভীরতা, গাম্ভীর্য আছে৷ ফলে কিছু শব্দ এমন হয় যাকে অনুবাদ করলে সেই গভীরতা বা গাম্ভীর্য বিলীন হয়ে যায়৷ তাই কিছু সময় লেখাটি ঐ মূল শব্দেই পড়তে হয়; রাখতে হয়; অনুভব করতে হয়৷  পুরো আলাপটি বোঝার জন্য মূল লেখাটা এই মোমেন্টে পড়া উচিত৷ মূল লেখাটি হলো - "This world is erected upon the principle of reciprocity. Neither a drop of kindness nor a...