কোথাও কেউ নেই
নাঈম খন্দকার রুম্মান
ঝিরঝির করে বৃষ্টি নামতে শুরু করলো৷ আমি তখন কাঠের জানালা দিয়ে বাইরের খেঁজুর গাছের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম কিছু একটা৷ ঠিক মনে নেই৷ বাড়ির পূর্ব পাশের মস্ত বড়ো পুকুরে হাঁসের দল ভেসে বেড়াচ্ছিলো সেসময়৷ হাঁসগুলো বাদামী রঙের। তার মাঝে আবার দুটো সাদা রঙের৷ শনশন করে বাতাস বয়ে যায়। দুলিয়ে যায় খেঁজুর গাছের পাতা। কিছু কাচা খেঁজুর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে৷ তালগাছে থাকা ঘুঘু পাখির কী হাল? কিংবা দূরে বৌ কথা কও বলে গান গাইতো যে পাখিটি সে কেমন আছে এই ঝড়ে? হঠাৎ চিলিক দেয় আকাশে৷ এর কয়েক সেকেন্ড বাদেই বজ্রপাতের শব্দ কাপিয়ে দেয় অন্তর। এমন সময় বেজে ওঠে মোবাইল। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে সোলেহুলের নাম। সে জানে আমি তার কল ধরবো না। তবুও এক অপ্রত্যাশিত আশায় কল দেয়৷ ভাবে হয়তো আমি কল ধরবো৷ ধরে বলবো - "হ্যালো? নাসরিন ম্যামের সালেহুল বলছো? ভাত খেয়েছো? ক্লাসে গিয়েছিলে?" কিন্তু আমি কল ধরি না৷ সোলে তখন মনে মনে গালি দেয়। দুটো ছেলে কলাপাতা মাথায় দিয়ে ধীর পায়ে এগোয়৷ বৃষ্টিতে যেনো না ভেঁজে তাই এমন বুদ্ধি বের করেছে তারা৷ আবার কাদায় যেনো পাছার না খায় সেদিকেও বড্ড সচেতন তারা৷ কিন্তু লাভ হয় না৷ একটু পর ধপাস করে পড়ে যায় ওরা৷ খিলখিল করে হাসে। এভাবে একবার পড়ে গিয়েছিলো কথা সাহিত্যিক রোফিন৷ তখন শীত৷ আমরা গেলাম ঘুরতে৷ রোফিন স্যাণ্ডেল পায়ে দৌড় দিলো খুশিতে৷ ঠাস করে পরে গেলো পিচ ঢালা রাস্তায়৷ কিন্তু রোফিন সেদিন হাসেনি। কেন হাসেনি? তা আমি জানিনা৷ বৃষ্টি আরো বাড়ে৷ বাড়ে বিষণ্ণতা৷ তোনভির তখন মেসেজ পাঠায় - "আমাদের সাথেই কেন এমন হলো?"আমি সীন করে রেখে দেই৷ তবে সে গালি দেয় না৷ কারন সে জবাব পেয়ে যায় চুপ থাকার মাঝেই। আমার চোখ জ্বলতে শুরু করে হঠাৎ৷ আমি চোখ বন্ধ করি। বন্ধ করে দেখি সব অন্ধকার৷ এ জীবনে কোথাও কেউ নেই৷
ঝিরঝির করে বৃষ্টি নামতে শুরু করলো৷ আমি তখন কাঠের জানালা দিয়ে বাইরের খেঁজুর গাছের দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম কিছু একটা৷ ঠিক মনে নেই৷ বাড়ির পূর্ব পাশের মস্ত বড়ো পুকুরে হাঁসের দল ভেসে বেড়াচ্ছিলো সেসময়৷ হাঁসগুলো বাদামী রঙের। তার মাঝে আবার দুটো সাদা রঙের৷
শনশন করে বাতাস বয়ে যায়। দুলিয়ে যায় খেঁজুর গাছের পাতা। কিছু কাচা খেঁজুর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে৷ তালগাছে থাকা ঘুঘু পাখির কী হাল? কিংবা দূরে বৌ কথা কও বলে গান গাইতো যে পাখিটি সে কেমন আছে এই ঝড়ে?
হঠাৎ চিলিক দেয় আকাশে৷ এর কয়েক সেকেন্ড বাদেই বজ্রপাতের শব্দ কাপিয়ে দেয় অন্তর। এমন সময় বেজে ওঠে মোবাইল। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে সোলেহুলের নাম। সে জানে আমি তার কল ধরবো না। তবুও এক অপ্রত্যাশিত আশায় কল দেয়৷ ভাবে হয়তো আমি কল ধরবো৷ ধরে বলবো - "হ্যালো? নাসরিন ম্যামের সালেহুল বলছো? ভাত খেয়েছো? ক্লাসে গিয়েছিলে?" কিন্তু আমি কল ধরি না৷ সোলে তখন মনে মনে গালি দেয়।
দুটো ছেলে কলাপাতা মাথায় দিয়ে ধীর পায়ে এগোয়৷ বৃষ্টিতে যেনো না ভেঁজে তাই এমন বুদ্ধি বের করেছে তারা৷ আবার কাদায় যেনো পাছার না খায় সেদিকেও বড্ড সচেতন তারা৷ কিন্তু লাভ হয় না৷ একটু পর ধপাস করে পড়ে যায় ওরা৷ খিলখিল করে হাসে। এভাবে একবার পড়ে গিয়েছিলো কথা সাহিত্যিক রোফিন৷ তখন শীত৷ আমরা গেলাম ঘুরতে৷ রোফিন স্যাণ্ডেল পায়ে দৌড় দিলো খুশিতে৷ ঠাস করে পরে গেলো পিচ ঢালা রাস্তায়৷ কিন্তু রোফিন সেদিন হাসেনি। কেন হাসেনি? তা আমি জানিনা৷
বৃষ্টি আরো বাড়ে৷ বাড়ে বিষণ্ণতা৷ তোনভির তখন মেসেজ পাঠায় - "আমাদের সাথেই কেন এমন হলো?"
আমি সীন করে রেখে দেই৷ তবে সে গালি দেয় না৷ কারন সে জবাব পেয়ে যায় চুপ থাকার মাঝেই। আমার চোখ জ্বলতে শুরু করে হঠাৎ৷ আমি চোখ বন্ধ করি। বন্ধ করে দেখি সব অন্ধকার৷ এ জীবনে কোথাও কেউ নেই৷
Comments
Post a Comment