জুলাই আইলেই হারায়া যায় আমার চোখের ঘুম।
আমি যেনো জুলাইয়ের প্রতি রাইতে মিইশা যাই,
জাবিতে আটকায়া থাকা পোলাপাইনের সাথে৷
কারা যেনো গুলি ছোড়ে, ছোড়ে ইট পাটকেল;
কারা যেনো ককটেল ছুইড়া
শব্দের ভূমিকম্প নামায়া দেয় ক্যাম্পাস জুইড়া৷
পেছনে তাকায়া দেখি, তীব্র ভয়ে থরথর কৈরা কাঁপতেছে
একটা সাবালিকা মেয়ে৷
হয়তো তার ভীষণ কৈরা মনে পড়তেছে,
তার মায়রে কওয়া মিথ্যা কথা৷
জুলাইয়ের রাইতে,
ধকধক কইরা ওঠে আমার বুক৷
ছোট্ট চামুচ পইড়া যাওয়ার শব্দও
আমার কানে ইসরাফিলের শিঙ্গার শব্দের মতন লাগে৷
এই বুঝি দরজায় লাত্থি মাইরা কেউ বলবে,
শুয়োরের বাচ্চা দরজা খোল!
আমি ভয় পাই, আমার গলা শুকায়ে যায়।
পানি খাইতে গিয়া দেখি জায়নামাজে মোনাজাত করে
এক বৃদ্ধা; তার চোখে জল৷
এই বৃদ্ধাকে আমি চিনি।
এতকাল ধইরা তারে আম্মা বইলা ডাকছি।
জুলাইয়ের রাইতে,
ভয়ে আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে মনে পইরা যায়
একটা ষোলো বছরের পোলার কথা।
ধুলাবালিতে মাইখা আছে তার সফেদ শার্ট৷
এমনেতে তারে ডাকি টোকাই; তয় সেদিন মনে হইলো
সে হইলো দেশ রক্ষার সেপাই!
দৌড়ায়া দৌড়ায়া আমি তখন ক্লান্ত;
হাঁপাইতে হাঁপাইতে ফিইরা আসতেছি পোলাপানের কাছে,
তখন একটা শব্দ হয়; ধক কইরা ওঠে আমার বুক৷
একটা গুলির শব্দ! আমার আশেপাশে তো কেউ নাই! গুলিটা কি তাইলে আমার গায়েই লাগলো?
কলেমা জপতে জপতে যখন পেছনে ফিইরা চাই;
দেখি একটা ষোলো বছরের টোকাই লুটায়া পড়তেছে মাটিতে,
তার শরির থেইকা রক্ত বাইর হইয়া ভিইজা যাইতেছে মিরপুর দশের পথ৷
পোলাটা না থাকলে গুলিটা বাইর হইতো, আমার বুক ফাইরা৷
জুলাইয়ের রাইত আইলে,
আমার আর ঘুম আহে না।
আমার ভয় লাগে; যন্ত্রণা হয়৷
চোখ ছলছল কইরা ওঠে নাম না জানা এক টোকাইয়ের লাইগা৷
জুলাইয়ের রাইত আইলে
আমার আর ঘুম আহে না।
রাইত হইলেই আমার কানে ভাইসা আসে,
শহীদেগো গান৷
- নাঈম খন্দকার রুম্মান