Skip to main content

কবিতা - আমার ঘুম আহে না

জুলাই আইলেই হারায়া যায় আমার চোখের ঘুম।
আমি যেনো জুলাইয়ের প্রতি রাইতে মিইশা যাই, 
জাবিতে আটকায়া থাকা পোলাপাইনের সাথে৷ 
কারা যেনো গুলি ছোড়ে, ছোড়ে ইট পাটকেল;
কারা যেনো ককটেল ছুইড়া
 শব্দের ভূমিকম্প নামায়া দেয় ক্যাম্পাস জুইড়া৷ 
পেছনে তাকায়া দেখি, তীব্র ভয়ে থরথর কৈরা কাঁপতেছে
একটা সাবালিকা মেয়ে৷ 
হয়তো তার ভীষণ কৈরা মনে পড়তেছে, 
তার মায়রে কওয়া মিথ্যা কথা৷ 


জুলাইয়ের রাইতে, 
ধকধক কইরা ওঠে আমার বুক৷ 
ছোট্ট চামুচ পইড়া যাওয়ার শব্দও 
আমার কানে ইসরাফিলের শিঙ্গার শব্দের মতন লাগে৷ 
এই বুঝি দরজায় লাত্থি মাইরা কেউ বলবে, 
শুয়োরের বাচ্চা দরজা খোল!
আমি ভয় পাই, আমার গলা শুকায়ে যায়। 
পানি খাইতে গিয়া দেখি জায়নামাজে মোনাজাত করে 
এক বৃদ্ধা; তার চোখে জল৷ 
এই বৃদ্ধাকে আমি চিনি। 
এতকাল ধইরা তারে আম্মা বইলা ডাকছি। 

জুলাইয়ের রাইতে, 
ভয়ে আতঙ্কে কাঁপতে কাঁপতে মনে পইরা যায়
একটা ষোলো বছরের পোলার কথা। 
ধুলাবালিতে মাইখা আছে তার সফেদ শার্ট৷ 
এমনেতে তারে ডাকি টোকাই; তয় সেদিন মনে হইলো
সে হইলো দেশ রক্ষার সেপাই!
দৌড়ায়া দৌড়ায়া আমি তখন ক্লান্ত;
হাঁপাইতে হাঁপাইতে ফিইরা আসতেছি পোলাপানের কাছে, 
তখন একটা শব্দ হয়; ধক কইরা ওঠে আমার বুক৷ 
একটা গুলির শব্দ! আমার আশেপাশে তো কেউ নাই! গুলিটা কি তাইলে আমার গায়েই লাগলো?


কলেমা জপতে জপতে যখন পেছনে ফিইরা চাই;
দেখি একটা ষোলো বছরের টোকাই লুটায়া পড়তেছে মাটিতে, 
তার শরির থেইকা রক্ত বাইর হইয়া ভিইজা যাইতেছে মিরপুর দশের পথ৷ 
পোলাটা না থাকলে গুলিটা বাইর হইতো, আমার বুক ফাইরা৷ 

জুলাইয়ের রাইত আইলে, 
আমার আর ঘুম আহে না। 
আমার ভয় লাগে; যন্ত্রণা হয়৷ 
চোখ ছলছল কইরা ওঠে নাম না জানা এক টোকাইয়ের লাইগা৷ 

জুলাইয়ের রাইত আইলে
আমার আর ঘুম আহে না।
রাইত হইলেই আমার কানে ভাইসা আসে,
শহীদেগো গান৷ 

- নাঈম খন্দকার রুম্মান

Popular posts from this blog

মমতাদি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় । Momotadi by Manik Bandopadhyay

  "কেউ যা দেয় না, তুমি তা দেবে কেন?" বাক্যটির কথা সকলেরই মনে থাকার কথা৷ লাইনটুকু পড়েই খিলখিল করে হেসে উঠতো সবাই। সে হাসি দুষ্টু হাসি। ক্লাসের অন্য কোনো স্মৃতি কারও মনে না থাকলেও মমতাদিকে মনে হয়না কেউ ভুলেছে৷ মমতাদিকে ঘিরেইতো ছিলো বাংলা ক্লাসে হাসাহাসির আয়োজন। অন্তত সেই বাঙলা ক্লাসের স্মৃতিকে আগলে রাখায় মমতাদির একটি ধন্যবাদ প্রাপ্য। এখানে শিক্ষার্থীদের দোষ দিয়েও লাভ নেই। গল্পটার আংশিক ছিলো সে বইয়ে৷ মূলটুকুই দেয়া হয়েছিলো বাদ৷ ফলে মমতাদি ঠিক কেমন তা বুঝে ওঠা হয়নি কারোরই৷ তবে ক্লাসে জানা হয়নি বলে আর জানা হবে না, তা কিন্তু নয়। বেনজিন প্রকাশন কর্তৃক প্রকাশিত "মমতাদি" বইটি পড়লেই জানা যায় কে এই মমতাদি৷ বইটিতে স্থান পেয়েছে দুইটি গল্প৷ একটি "মমতাদি" এবং অপরটি "বৃহত্তর মহত্তর।" মমতাদির দু:খের জীবন যাপনের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রথম গল্পে৷ যেনো গ্রাম বাংলার সংসারের নিত্যদিনের রূপ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় চিত্রায়িত করেছেন রঙ-তুলিতে। এত দূর্দশা অত্যাচারের পরেও স্বামীর প্রতি ভালোবাসার কথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই গল্পে৷ "বৃহত্তর মহত্তর" গল্পে আবার একই মমতা...

কাগা সিরিজ - দ্য ফাইনাল কার্টেইন । কেইগো হিগাশিনো । অনুবাদ সালমান হক । কাগা সিরিজের ১০ম বই । Kaga series - The Final Curtain by Keigo Higashino . Bengali translated by Salman Haque . Tenth book of the series .

  কাগা সিরিজের শেষ বই "দ্য ফাইনাল কার্টেইন।" সিরিজটির দশম বই এটি। একটা প্রপার এন্ডিং যেভাবে দরকার সেভাবেই দিয়েছেন কেইগো হিগাশিনো। একটি গলে যাওয়া লাশের সন্ধান পায় পুলিশ৷ পরবর্তীতে জানা যায় নামকরা অভিনেত্রীর বান্ধবী সে৷ ওদিকে একটা ব্রীজের পাশে মারা যায় এক পাগল। এ খুনগুলো কে করলো? ওদিকে কাগার ধারণা তার পারিবারিক সংযোগ আছে এই খুনের সাথে। কীভাবে? এগুলো নিয়েই সাজানো দ্য ফাইনাল কার্টেইন। কাগার মনে একটা প্রশ্ন সবসময়ই ঘুরতো। সেই প্রশ্নের জবাবও পাওয়া যায় এখানে৷ পাওয়া যায় কাগার পরিবারের আদি অন্ত। তার মায়ের ব্যাপারে জানা যায় তথ্য। এই বইয়ে যতগুলো টুইস্ট দেয়া হয়েছে তা এর আগের কাগা সিরিজের বই (৪টা) এর একটাতেও পাইনি। মাথা হ্যাং হয়ে গিয়েছিলো। প্রচুর চরিত্র৷ প্রচুর টুইস্ট৷ অনুমানের বাইরের বিষয় আরকি। কেইগো হিগাশিনো বেস্ট থ্রিলার লেখকদের মধ্যে অন্যতম। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই৷ শুধুমাত্র গোয়েন্দাগিরি, মারকাট ইত্যাদিতেই ডুবে না থেকে তুলে ধরেন সমাজের বাস্তব চিত্র। তুলে ধরেন নানা দর্শন৷ এই বইটা পড়ে পাঠকের সে বিষয়টি আরও একবার মনে পড়বে৷ প্রোডাকশন-প্রচ্ছদ সুন্দর। তবে সম্পাদনা হয়নি৷ হলেও ভালো হয়নি। অন...

Whatever God Does, He does beautifully

Forty Rule of Love এর 36 নং রুলটা পড়তে গিয়ে বেশ চমৎকার একটা লেখা পড়লাম। এভাবেও যে লেখা যায়; ভাবা যায়; তা আমার জানা ছিলো না৷ শুরুতে এলিফ শাফাক লিখলেন চক্রান্তের কথা। তিনি মানুষের চক্রান্তে ভয় পেতে নিষেধ করলেন৷ কেননা যে চক্রান্ত করে আল্লাহও তার জন্য চক্রান্ত করে৷ এখানে চক্রান্ত মূলত ফাঁদ হিসেবে বসেছে৷ এরপর সেখানে জানিয়েছেন আল্লাহর ফাঁদ আরও ভয়াবহ৷  বেশ সরল রেখা। কোরআন থেকে নেয়া সরল আলাপ। বিশেষত্ব কিছুই নেই৷ কিন্তু খেলা ঘুরে যায় শেষ লাইনে। সেখানে এলিফ লেখেন, " Whatever God does, He does beautifully" এই লাইনটুকু এভাবে বোঝা যাবে না। বিউটিফুলকে অনুবাদ করলে আসবে "সুন্দর, সুনিপুণ"। কিন্তু এতে মূল গাম্ভীর্য ফুটে ওঠে না৷ কারণ প্রতিটা ভাষার নিজস্ব গভীরতা, গাম্ভীর্য আছে৷ ফলে কিছু শব্দ এমন হয় যাকে অনুবাদ করলে সেই গভীরতা বা গাম্ভীর্য বিলীন হয়ে যায়৷ তাই কিছু সময় লেখাটি ঐ মূল শব্দেই পড়তে হয়; রাখতে হয়; অনুভব করতে হয়৷  পুরো আলাপটি বোঝার জন্য মূল লেখাটা এই মোমেন্টে পড়া উচিত৷ মূল লেখাটি হলো - "This world is erected upon the principle of reciprocity. Neither a drop of kindness nor a...