সাবের চৌধুরী ভাইয়েরা রঙ চা-কে যেভাবে গ্লোরিফাই করেন, আদতে আমার মনে হয় না রঙ চা এতটা মজাদার৷ ভদ্রলোক ভালো লিখতে পারেন, আবেগ মেশাতে পারেন বলেই নিজের পছন্দের রঙ চা-কে অবিশ্বাস্য রকম সুন্দর পানীয় হিসেবে তুলে ধরেছেন৷
আমি রঙ চা বিরোধী নই৷ এর ফজিলতের বিপক্ষেও নই৷ কিন্তু আমার পছন্দ দুধ চা৷ না, আমি রেসিস্ট না৷ সাদা কিছু পছন্দ হলেই মানুষ রেসিস্ট হয়ে যায় না৷
সাবের চৌধুরী ভাইয়েরা বলে থাকেন, রঙ চা-তে চা পাতার স্বাদ পাওয়া যায়৷ দুধ চায়ে যায় না৷ এই কথা সত্য নয়৷ আমি বলছিনা সাবের চৌধুরিই এমন কথা বলেছেন৷ আমি বলছি তাদের অনেকে এমন বলে থাকেন৷
দুধ চা-তে যে চা পাতার স্বাদ পাওয়া যায়, তা যারা নিয়মিত পান করেন তারা জানেন৷ তবে যারা কন্ডেন্স মিল্ক বা মেশিনের দুধ চা খান তারা বুঝতে পারবেন না৷ গুঁড়া দুধ বা খাঁটি গরুর দুধ হতে হবে৷ চিনি হতে হবে সামান্য৷ যারা চিনি খান না, তারা স্বাদটা ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবেন। যেমন আমি করি৷ বেশি একটা চিনি খাই না৷ মাত্র দেড় চামচ।
পরিমাণ ঠিকঠাক হলে চায়ের একটা তিতকুটে স্বাদ থাকবে, সাথে থাকবে চা পাতার ঘ্রাণ আর তার সাথে থাকবে দুধের মিষ্টি রঙ ও স্বাদ৷ আহা... সাবের ভাইয়েরা কী এই স্বাদকে উপেক্ষা করতে পারবেন?
সাবের চৌধুরী ভাইয়েরা বলেন, রঙ চায়ে মশলার ঘ্রাণ আসে৷ কিন্তু ভাইয়েরা এড়িয়ে যান যে, দুধ চায়েও এলাচ, লবঙ্গ, দাড়চিনি দেয়া যায়৷ তখন ঐ মশলার ঘ্রাণও আসে৷ সুতরাং এদিক থেকেও পিছিয়ে নেই দুধ চা।
আমি মনে করি ভাবুকদের চা হলো "দুধ চা"। এতে রিফ্রেশমেন্ট পাওয়া যায়, পাশাপাশি পাওয়া যায় এক প্রকার প্রশান্তি৷ দুধ চা পান শেষে মনে হয়, চোখ টা একটু বন্ধ করি৷ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলি। কী যে আনন্দ!
রঙ চায়ের সাথে আমাদের লড়াই চলে প্রায়ই। মাঝে মাঝেই তর্কাতর্কি হয়৷ দিনশেষে দুটোই তো চা৷ তাই এটা স্বাভাবিক। কিন্তু উভয় পক্ষেরই মন খারাপ হয় সেই অভাগার জন্য, যে আদতে চা পান করে না৷ আহা, একজন মিসকীনের চেয়েও বেশি অভাগা সে।