তেল এক অদ্ভুত জিনিস৷ রান্নায় ব্যবহার করলে সুস্বাদু হয়, আর বক্তব্যে ব্যবহার করলে সুন্দর হয়৷ তবে এখানে শর্ত আছে৷ তেল হতে হবে পরিমিত৷ অতিরিক্ত হওয়া যাবে না৷ স্বাস্থ্য সচেতন যারা, তারা কেউ অতিরিক্ত তেল পছন্দ করেন না৷ কেননা অতিরিক্ত তেল ক্ষতিকর৷ অতিরিক্ত তেল রান্নায় হোক বা বয়ানে দুই জায়গাতেই ক্ষতিকর৷ বোদ্ধামহল বয়ানে অতিরিক্ত তেল পছন্দ করেন না৷
তবে, যে চুপচুপে তেলে ডুবে যায়, বয়ানের তেল যার ভালো লাগে তার শরির পড়তে পারে ঝুঁকিতে৷ কাজেই তেল যার পছন্দ তারও হওয়া উচিত সচেতন৷ কেউ অতিরিক্ত তেল দিলেই তা গ্রহণ করা ঠিক হবে৷
তেলের এই রিসার্চ পেপার লিখতে বসলাম কারণ আমার বন্ধু তাহসিন৷ ওকে বন্ধু বলবো নাকি তেল ব্যবসায়ী বলবো বুঝতে পারছি না৷ ভাষাজ্ঞান না থাকার এই এক ঝামেলা৷ কাকে কি নামে ডাকতে হবে তা নিশ্চিত হওয়া যায় না৷ তাই ভাষাজ্ঞান রাখা জরুরি৷ কিন্তু যদি তেলের ব্যবসায়ী হওয়া যায়, তবে ভাষাজ্ঞান না থাকলেও সমস্যা নেই৷
যেমন- তাহসিনকে নিয়ে বলতে পারি সুমিষ্টভাষী, বাগ্মী। তিনি যখন মাইক ধরেন, মাইক কাঁপে। কাঁপে আসমান ও জমিন৷ তার বক্তব্য শোনার জন্য মুখিয়ে থাকে দুনিয়ার সবাই। উড়তে থাকা ঘুঘুটিও জানালার পাশে এসে বসে শুধুমাত্র তার বক্তব্য শুনবে বলে৷
এই লেখায় বানান ভুল আছে, বাক্য গঠনে ভুল আছে তবুও লেখাটি তাহসিনের সামনে গেলে সে খুশি হবে৷ কারণ ভাষাজ্ঞান না থাকলেও এখানে তেল আছে৷ আর তেল সকল ভুল ত্রুটিকে ঢেকে দেয়৷
আমি জানিনা তাহসিনের সমস্যা কোথায়৷ এত সুন্দর করে কথা বলে, এত চমৎকার অঙ্গভঙ্গি, এত ব্রিলিয়ান্ট; তবুও মাইক সামনে এলেই যেনো খোলস ছেড়ে বের হয়ে আসে তেল ব্যবসায়ী পরিচয়৷ পাখির মত গড়গড় করে তেল মারতে থাকে৷ কি সাবলীল! কি স্মুথ!! বলি এত সুন্দর করেও মিথ্যে বলা যায়? ওরে তোর কি বুক কাঁপে না?