Skip to main content

আমার কী হলো?

 আমার কী হলো?

আমি তো এমন ছিলাম না । নাহ ছিলাম । ছিলাম না - এমন মিথ্যে কথা বলা উচিত না ।

আমি বরাবরই ফাঁকিবাজ এবং অলস । সেই ছোটোকাল থেকেই ফাঁকিবাজিতে এক্সপার্ট হয়েছি । খোদা তায়ালা আমাকে এক্সকিউজ দেয়ার অসম্ভব অস্বাভাবিক ক্ষমতা দিয়েছেন । এক্সকিউজের মানে এই নয় যে আমি মিথ্যে এক্সকিউজ দেই বা শাস্তি থেকে বাঁচতে মিথ্যে বলি । প্রতিটা এক্সকিউজই যথাযথ ভ্যালিড এবং সত্য । তাছাড়া আমি সদা সত্য বলি ।

শেষ লাইনে যা বললাম, এর মতন ভয়াবহ মিথ্যা দুনিয়াতে আরেকটাও নেই । শুধুমাত্র এই একটি লাইনই মিথ্যা । তবে ঝামেলা হলো যিনি এই লেখাটি পড়বেন তার কাছে এখন পুরো লেখাটাই মিথ্যে মনে হবে । সত্য মনে হবে এই প্যারার প্রথম লাইনটি । হাহা ।

সূচনা করেছিলাম অলসতা নিয়ে । আমি আসলেই অলস । এই ব্লগটা তৈরি করেছিলাম নিজের মনের কথাগুলো কলমের ছোঁয়ায় লিখে রাখবো তাই । তবে তা আর হলো না । এর জন্য অবশ্য একটা এক্সকিউজ রেডি করেছি । তা হলো আমিতো কলমে লিখতে চেয়েছি , কিন্তু আসলে এখানে কী বোর্ড দিয়ে লিখতে হয় তাই লিখি না । এর মানে এই নয় যে আমি নিয়মিত ডায়েরি লিখি । ওসব কিছু না ।

আমার কবিতা লেখার শখ । কবিতা লিখতে ভীষণ ইচ্ছে করে । কিন্তু সব ইচ্ছা সবসময় সঠিক না । তেমন আমার এই ইচ্ছাও সঠিক না । কেননা কবি হবার যোগ্যতা আমার নেই । তা আমি জানি । তবুও লিখি । লিখতে ভালো লাগে । মাঝে মাঝে প্রিয়জনদের পড়তে দেই । তারা মিথ্যে বলে । সুন্দর হয়েছে এটাই তাদের বক্তব্য । তবে আমি জানি ওসব মিথ্যে । 

এই ব্লগে আমি হুদাই লেখি । ফলে বিরামচিহ্ন বা যতিচিহ্ন বা বানান এসবে আমার নজর নাই । সিরিয়াস লেখাতেই দেই না তারপর তো এখানে! 

লিখছিই যখন তখন জীবনানন্দ নিয়ে দুলাইন লিখে বিদেয় নি -

জীবনানন্দ পড়ার একটা মজা হইলো কবিতা পইড়া বুঝবো এক জিনিস ভদ্রলোক বোঝাবে আরেক জিনিস।
শুধু টেক্সট রিডিং পড়লে আপনার সামনে সহজ সরল একটা অর্থ বেরিয়ে আসবে৷ আপনি সরল মনে সেটা বিশ্বাস করে নেবেন৷ কিন্তু যদি একটু ভাবেন যে, প্রতিটা প্যারার মিনিং বের করে দেখি, তখন দেখবেন আপনার প্রথম ভাবনা ভুল।
এরপর যদি চিন্তা করেন যে একটু লাইনের মিনিং বাইর করি তাহলে দেখবেন আপনার দ্বিতীয় ভাবনাও ভুল৷
কিন্তু আপনার তৃপ্তি হলো না, ভাবলেন প্রতিটা শব্দের অর্থ ধরে মিনিং বাইর করবেন তাহলে আপনার তৃতীয় ভাবনাও ভুল হিসেবেই দেখতে পাবেন৷
কারণ, জীবনানন্দের কবিতা আসলে কবিতার জগতেরই আলাদা এক জগত৷
ভদ্রলোক প্রথম প্রলেপটা দেন চোখের সামনের সহজ সরল বিষয়গুলো দিয়ে৷ যেইটা আমরা রিডিং পড়লে দেখতে পাবো৷ কিন্তু এর মধ্যেই ঢুকায়ে দেন মেটাফোর৷ তার ভেতর বাস্তব লজিকও দিয়ে দেন মাঝে মাঝে৷ এরপর নিয়ে আসেন দর্শন। কখনো কখনো নিজেই ইচ্ছা করে প্যারাডক্স তৈরি করে ফেলেন৷
কখনো আবার "তোমারে মনে নাই" বাক্য দিয়েই "তোমারে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে" বোঝান৷
ভদ্রলোকের কবিতা বেশ মজার৷
* এইখানে আপনি দ্বারা মূলত নিজেকেই বুঝিয়েছি৷ পুরো লেখাটাই নিজ কেন্দ্রিক৷ সুতরাং যাদের সাথে কথাগুলো মিলবেনা তাদের রেইজ বেইট করার প্রয়োজন নেই৷ আর এইটা কোনো রিভিউও না৷ জাস্ট পাগলের প্রলাপ আরকি।



 

Comments

Popular posts from this blog

মমতাদি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় । Momotadi by Manik Bandopadhyay

  "কেউ যা দেয় না, তুমি তা দেবে কেন?" বাক্যটির কথা সকলেরই মনে থাকার কথা৷ লাইনটুকু পড়েই খিলখিল করে হেসে উঠতো সবাই। সে হাসি দুষ্টু হাসি। ক্লাসের অন্য কোনো স্মৃতি কারও মনে না থাকলেও মমতাদিকে মনে হয়না কেউ ভুলেছে৷ মমতাদিকে ঘিরেইতো ছিলো বাংলা ক্লাসে হাসাহাসির আয়োজন। অন্তত সেই বাঙলা ক্লাসের স্মৃতিকে আগলে রাখায় মমতাদির একটি ধন্যবাদ প্রাপ্য। এখানে শিক্ষার্থীদের দোষ দিয়েও লাভ নেই। গল্পটার আংশিক ছিলো সে বইয়ে৷ মূলটুকুই দেয়া হয়েছিলো বাদ৷ ফলে মমতাদি ঠিক কেমন তা বুঝে ওঠা হয়নি কারোরই৷ তবে ক্লাসে জানা হয়নি বলে আর জানা হবে না, তা কিন্তু নয়। বেনজিন প্রকাশন কর্তৃক প্রকাশিত "মমতাদি" বইটি পড়লেই জানা যায় কে এই মমতাদি৷ বইটিতে স্থান পেয়েছে দুইটি গল্প৷ একটি "মমতাদি" এবং অপরটি "বৃহত্তর মহত্তর।" মমতাদির দু:খের জীবন যাপনের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রথম গল্পে৷ যেনো গ্রাম বাংলার সংসারের নিত্যদিনের রূপ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় চিত্রায়িত করেছেন রঙ-তুলিতে। এত দূর্দশা অত্যাচারের পরেও স্বামীর প্রতি ভালোবাসার কথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই গল্পে৷ "বৃহত্তর মহত্তর" গল্পে আবার একই মমতা...

কাগা সিরিজ - দ্য ফাইনাল কার্টেইন । কেইগো হিগাশিনো । অনুবাদ সালমান হক । কাগা সিরিজের ১০ম বই । Kaga series - The Final Curtain by Keigo Higashino . Bengali translated by Salman Haque . Tenth book of the series .

  কাগা সিরিজের শেষ বই "দ্য ফাইনাল কার্টেইন।" সিরিজটির দশম বই এটি। একটা প্রপার এন্ডিং যেভাবে দরকার সেভাবেই দিয়েছেন কেইগো হিগাশিনো। একটি গলে যাওয়া লাশের সন্ধান পায় পুলিশ৷ পরবর্তীতে জানা যায় নামকরা অভিনেত্রীর বান্ধবী সে৷ ওদিকে একটা ব্রীজের পাশে মারা যায় এক পাগল। এ খুনগুলো কে করলো? ওদিকে কাগার ধারণা তার পারিবারিক সংযোগ আছে এই খুনের সাথে। কীভাবে? এগুলো নিয়েই সাজানো দ্য ফাইনাল কার্টেইন। কাগার মনে একটা প্রশ্ন সবসময়ই ঘুরতো। সেই প্রশ্নের জবাবও পাওয়া যায় এখানে৷ পাওয়া যায় কাগার পরিবারের আদি অন্ত। তার মায়ের ব্যাপারে জানা যায় তথ্য। এই বইয়ে যতগুলো টুইস্ট দেয়া হয়েছে তা এর আগের কাগা সিরিজের বই (৪টা) এর একটাতেও পাইনি। মাথা হ্যাং হয়ে গিয়েছিলো। প্রচুর চরিত্র৷ প্রচুর টুইস্ট৷ অনুমানের বাইরের বিষয় আরকি। কেইগো হিগাশিনো বেস্ট থ্রিলার লেখকদের মধ্যে অন্যতম। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই৷ শুধুমাত্র গোয়েন্দাগিরি, মারকাট ইত্যাদিতেই ডুবে না থেকে তুলে ধরেন সমাজের বাস্তব চিত্র। তুলে ধরেন নানা দর্শন৷ এই বইটা পড়ে পাঠকের সে বিষয়টি আরও একবার মনে পড়বে৷ প্রোডাকশন-প্রচ্ছদ সুন্দর। তবে সম্পাদনা হয়নি৷ হলেও ভালো হয়নি। অন...

নাজিম উদ দৌলার প্রহেলিকা । Prohelika by Nazim ud doula

  লেখক নাজিম উদ দৌলার সাথে জার্নি শুরু করেছি তার লিখিত "প্রহেলিকা" উপন্যাসিকাটির মাধ্যমে৷ পড়া শেষ৷ একটি থ্রিলার মৌলিক উপন্যাসিকা৷ শহরে বাচ্চাদের লাশ পাওয়া যাচ্ছে। প্রত্যেকের মাথা ইট অথবা পাথর দিয়ে থেতলে দেয়া৷ অবাক করার বিষয় প্রতিটা লাশের পাশেই পাওয়া যাচ্ছে খুনির ব্যবহৃত জিনিসপত্র৷ খুনি কী তবে এতই বোকা? নাকি এর পেছনে আছে অন্য কোনো ঘটনা? থ্রিলার গল্পের মাঝেও লেখক প্রেমের ঘটনা কানেক্ট করেছেন৷ চরিত্রগুলোকে করেছেন সাবলীল। এছাড়া মূল আসামীর আসামী হয়ে ওঠার গল্পও তুলে ধরেছেন লজিকালি। বাঙালি গোয়েন্দা যেভাবে কথা বলে, ঠিক সেভাবেই কথা বলিয়েছেন তিনি। ফ্ল্যাশব্যাকের সাথে গল্পের কানেকশন ভালোই। তবে একটা বিষয় একটু অবাস্তব লেগেছিলো। কাহিনীর টুইস্টগুলো ভালো৷ মজাদার। সাসপেন্সওয়ালা টুইস্ট না হলেও, টুইস্টগুলো মজাদার৷ একেক চরিত্র, একেক বিশেষত্ব, একেক কাহিনী। পুরোটাকে একটা ডটে এনে মিশিয়েছেন নাজিম উদ দৌলা। আর সে ডটটি হলো "ভালোবাসা।" মূল আসামীকে ধরার অনেক আগেই বুঝে যাওয়া যায় আসামীকে। কয়েক লাইনের কথোপকথনে একটু ভালোমতো খেয়াল করলেই বোঝা যায়৷ এছাড়া সেখানে খুনীর একটা দূর্বলতার কথা অনেক বলে দেয়া...