Skip to main content

সিরাজউদ্দৌলা জীবন বিশ্লেষণ ,চরিত্র বিচার - আমীরুল ইসলাম ফুআদ । বাতায়ন পাবলিকেশন । Nabab Shiraj Ud Doula by Amirul Islam Fuuad . Batayan Publication .

 চলুন আলাপ শুরু করি।

"সিরাজউদ্দৌলা" বইটি পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে আমীরুল ইসলাম ফুআদ ভাই নিজের উপর প্রচুর টর্চার করেছেন। টর্চার বলছি একারণে যে ওনাকে প্রচুর পড়তে হয়েছে৷ এরপর সেগুলো যাচাই করতে হয়েছে। তারপর আবার বিশ্লেষণ করতে হয়েছে। সবশেষে কোন মত যৌক্তিক তা পুনরায় চিন্তা করে স্থান দিতে হয়েছে এই বইয়ে৷
বইয়ে কোনো বায়াসনেস নাই৷ সিরাজ এর ত্রুটি নিয়ে যেমন সবিস্তরে আলাপ করেছেন তেমনি তার উপরে আরোপিত অপবাদের জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছেন৷ না, নিজের মনগড়া মত দেননি তিনি। মত দিয়েছেন ঐতিহাসিকদের৷ একটা মতও মনগড়া করে দেননি তিনি। পুরোটাই রেফারেন্স ভিত্তিক। প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার এই বইয়ে প্রায় ৩০০ এর অধিক রেফারেন্স এ্যাড করেছেন তিনি।
এই বইটা হাইলি সাজেস্টেড৷ আগেই বলে রাখি, এইটা কোনো উপন্যাস না৷ ইতিহাসেরও বই না। ব্যক্তি সিরাজের জীবন ও চরিত্র বিশ্লেষণ এটা। তাই ক্রয়ের আগে অবশ্যই ব্যাপারটুকু ভেবে নেবেন৷ নাহলে ফ্রাস্ট্রেশনে ভুগবেন।
বইটির সমালোচনার জায়গা আছে৷ সেগুলো আলাপ করছিনা। আমার কাছে মনে হয়েছে ঐ আলাপ করলে বইয়ের ব্যাপারে পাঠকের নেতিবাচক ধারণা জন্মাবে৷ অথচ ঐ সমালোচনা বইয়ের ৩%! এতটুকুর কারণে একটা ভালো বইয়ের নাম খারাপ করার ইচ্ছে নেই৷
তাই বলে সমালোচনা এড়িয়ে যাবো? না। ভিডিওতে আলাপ করবো বিস্তারিত৷ কবে? নিশ্চিত নই৷
বাতায়নের অপর বই "বুদ্ধিবৃত্তির নববি বিন্যাস।" পড়া শেষ অনেক আগেই৷ এটা নিয়েও আলাপ দেবো বেঁচে থাকলে।
শেষে অভিযোগ একটাই, সম্পাদনা আরেকটু জোরদার হওয়া চাই। বাতায়নের প্রতি আমাদের এক্সপেক্টেশন একটু বেশিই।

Comments

Popular posts from this blog

মমতাদি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় । Momotadi by Manik Bandopadhyay

  "কেউ যা দেয় না, তুমি তা দেবে কেন?" বাক্যটির কথা সকলেরই মনে থাকার কথা৷ লাইনটুকু পড়েই খিলখিল করে হেসে উঠতো সবাই। সে হাসি দুষ্টু হাসি। ক্লাসের অন্য কোনো স্মৃতি কারও মনে না থাকলেও মমতাদিকে মনে হয়না কেউ ভুলেছে৷ মমতাদিকে ঘিরেইতো ছিলো বাংলা ক্লাসে হাসাহাসির আয়োজন। অন্তত সেই বাঙলা ক্লাসের স্মৃতিকে আগলে রাখায় মমতাদির একটি ধন্যবাদ প্রাপ্য। এখানে শিক্ষার্থীদের দোষ দিয়েও লাভ নেই। গল্পটার আংশিক ছিলো সে বইয়ে৷ মূলটুকুই দেয়া হয়েছিলো বাদ৷ ফলে মমতাদি ঠিক কেমন তা বুঝে ওঠা হয়নি কারোরই৷ তবে ক্লাসে জানা হয়নি বলে আর জানা হবে না, তা কিন্তু নয়। বেনজিন প্রকাশন কর্তৃক প্রকাশিত "মমতাদি" বইটি পড়লেই জানা যায় কে এই মমতাদি৷ বইটিতে স্থান পেয়েছে দুইটি গল্প৷ একটি "মমতাদি" এবং অপরটি "বৃহত্তর মহত্তর।" মমতাদির দু:খের জীবন যাপনের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রথম গল্পে৷ যেনো গ্রাম বাংলার সংসারের নিত্যদিনের রূপ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় চিত্রায়িত করেছেন রঙ-তুলিতে। এত দূর্দশা অত্যাচারের পরেও স্বামীর প্রতি ভালোবাসার কথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই গল্পে৷ "বৃহত্তর মহত্তর" গল্পে আবার একই মমতা...

কাগা সিরিজ - দ্য ফাইনাল কার্টেইন । কেইগো হিগাশিনো । অনুবাদ সালমান হক । কাগা সিরিজের ১০ম বই । Kaga series - The Final Curtain by Keigo Higashino . Bengali translated by Salman Haque . Tenth book of the series .

  কাগা সিরিজের শেষ বই "দ্য ফাইনাল কার্টেইন।" সিরিজটির দশম বই এটি। একটা প্রপার এন্ডিং যেভাবে দরকার সেভাবেই দিয়েছেন কেইগো হিগাশিনো। একটি গলে যাওয়া লাশের সন্ধান পায় পুলিশ৷ পরবর্তীতে জানা যায় নামকরা অভিনেত্রীর বান্ধবী সে৷ ওদিকে একটা ব্রীজের পাশে মারা যায় এক পাগল। এ খুনগুলো কে করলো? ওদিকে কাগার ধারণা তার পারিবারিক সংযোগ আছে এই খুনের সাথে। কীভাবে? এগুলো নিয়েই সাজানো দ্য ফাইনাল কার্টেইন। কাগার মনে একটা প্রশ্ন সবসময়ই ঘুরতো। সেই প্রশ্নের জবাবও পাওয়া যায় এখানে৷ পাওয়া যায় কাগার পরিবারের আদি অন্ত। তার মায়ের ব্যাপারে জানা যায় তথ্য। এই বইয়ে যতগুলো টুইস্ট দেয়া হয়েছে তা এর আগের কাগা সিরিজের বই (৪টা) এর একটাতেও পাইনি। মাথা হ্যাং হয়ে গিয়েছিলো। প্রচুর চরিত্র৷ প্রচুর টুইস্ট৷ অনুমানের বাইরের বিষয় আরকি। কেইগো হিগাশিনো বেস্ট থ্রিলার লেখকদের মধ্যে অন্যতম। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই৷ শুধুমাত্র গোয়েন্দাগিরি, মারকাট ইত্যাদিতেই ডুবে না থেকে তুলে ধরেন সমাজের বাস্তব চিত্র। তুলে ধরেন নানা দর্শন৷ এই বইটা পড়ে পাঠকের সে বিষয়টি আরও একবার মনে পড়বে৷ প্রোডাকশন-প্রচ্ছদ সুন্দর। তবে সম্পাদনা হয়নি৷ হলেও ভালো হয়নি। অন...

নাজিম উদ দৌলার প্রহেলিকা । Prohelika by Nazim ud doula

  লেখক নাজিম উদ দৌলার সাথে জার্নি শুরু করেছি তার লিখিত "প্রহেলিকা" উপন্যাসিকাটির মাধ্যমে৷ পড়া শেষ৷ একটি থ্রিলার মৌলিক উপন্যাসিকা৷ শহরে বাচ্চাদের লাশ পাওয়া যাচ্ছে। প্রত্যেকের মাথা ইট অথবা পাথর দিয়ে থেতলে দেয়া৷ অবাক করার বিষয় প্রতিটা লাশের পাশেই পাওয়া যাচ্ছে খুনির ব্যবহৃত জিনিসপত্র৷ খুনি কী তবে এতই বোকা? নাকি এর পেছনে আছে অন্য কোনো ঘটনা? থ্রিলার গল্পের মাঝেও লেখক প্রেমের ঘটনা কানেক্ট করেছেন৷ চরিত্রগুলোকে করেছেন সাবলীল। এছাড়া মূল আসামীর আসামী হয়ে ওঠার গল্পও তুলে ধরেছেন লজিকালি। বাঙালি গোয়েন্দা যেভাবে কথা বলে, ঠিক সেভাবেই কথা বলিয়েছেন তিনি। ফ্ল্যাশব্যাকের সাথে গল্পের কানেকশন ভালোই। তবে একটা বিষয় একটু অবাস্তব লেগেছিলো। কাহিনীর টুইস্টগুলো ভালো৷ মজাদার। সাসপেন্সওয়ালা টুইস্ট না হলেও, টুইস্টগুলো মজাদার৷ একেক চরিত্র, একেক বিশেষত্ব, একেক কাহিনী। পুরোটাকে একটা ডটে এনে মিশিয়েছেন নাজিম উদ দৌলা। আর সে ডটটি হলো "ভালোবাসা।" মূল আসামীকে ধরার অনেক আগেই বুঝে যাওয়া যায় আসামীকে। কয়েক লাইনের কথোপকথনে একটু ভালোমতো খেয়াল করলেই বোঝা যায়৷ এছাড়া সেখানে খুনীর একটা দূর্বলতার কথা অনেক বলে দেয়া...