Skip to main content

মহিমান্বিত সাত আয়াত - আব্দুল্লাহ আল মামুন । রাইয়ান প্রকাশন । সূরা আল ফাতিহা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ । Mohimannito Sat Ayat by Abdullah Al Mamun . Raiyan Publication . Surah Al Fatiha

 আব্দুল্লাহ আল মামুন সংকলিত "মহিমান্বিত সাত আয়াত" বইটি পড়ে শেষ করেছি।

বইটা গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যবহুল। একদিকে সূরা ফাতিহার পরিচয় দেয়া হয়েছে, অপরদিকে তার অর্থও করা হয়েছে। কেন সূরা ফাতিহা গুরুত্বপূর্ণ তা নিয়েও আলাপ রয়েছে বইটিতে৷ প্রতিটা আলাপেই জুড়ে দেয়া আছে রেফারেন্স।
ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো বইটাতে একটা বিষয় বোনাস হিসেবে আছে৷ সেটি হলো রুকাইয়া। ফাতিহা দিয়ে কীভাবে রুকাইয়া করা যায়, জিন-বদনজর-শয়তান থেকে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা যায়, আধ্যাত্মিক চিকিৎসা সহ টুকিটাকি আরও কথা বলে হয়েছে৷
বেশ কিছু বাস্তব ঘটনা তুলে ধরেছেন, রুকাইয়ার ফলাফল দেখানোর জন্য৷ একদিকে হাদিস দিয়ে প্রমাণ অপরদিকে লেখকের চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে৷
বইটি পড়ার সময় বেশ উপভোগ করেছি এই বিষয়গুলো। তবে তবে তবে......
আমি প্রেফার করি তাফসির বা সীরাত গ্রন্থগুলো যথা সম্ভব সহজ ভাষায় লিখতে। এমনিতেই এই বিষয়গুলো জটিল। তার উপর কঠিন শব্দের আধিক্য আরও বেশি জটিল করে দিতে পারে এ বিষয়গুলোকে৷ এ বইটিতে বেশ কিছু যায়গায় কঠিন শব্দের ব্যবহার রয়েছে৷ যেগুলোর ব্যবহার না থাকলেও কোনো ঝামেলা হতো বলে মনে হয় না। যাই হোক, এটা বিশেষ কোনো প্রব্লেম না।
বইয়ের পাওয়ার অব ফাতিহা অধ্যায়ের শেষার্ধের প্রয়োজন ছিলো বলে মনে হয় না। সিম্পল কোটেশন তবে কোনো রেফারেন্স ছিলো না। অথচ পূর্বেই সংকলক এই ব্যাপারে রেফারেন্স ভিত্তিক আলোচনা করে এসেছেন। এই শেষার্ধটুকু বিরক্ত লেগেছে।
সুন্দর একটা কন্সেপ্ট ছিলো শেষ অধ্যায়৷ ছোটোগল্পের আদলে সূরা ফাতিহার কারামতি ফুটিয়ে তুলেছেন৷ কিন্তু সেখানে ঝামেলা হয়েছে প্রথম গল্পে। গল্পের নায়ক "রাতুল রায়হান" নামটি লেখক ব্যবহার করেছেন ১৫ বার। যার প্রয়োজন ছিলো না। উল্টো খাপ্পছাড়া লেগেছে। কিন্তু পরের গল্পগুলো বেশ সাবলীল।
বইয়ের কিছু বিষয়ে বিরক্ত হয়েছি। প্রথমত হেডলাইনের ফন্ট মোটা আর তার উপরে আবার বোল্ড করা। ফলে কালি লেপ্টে গেছে৷ কিছু শব্দ বোঝা যায় না। যে জায়গায় বোল্ড করার প্রয়োজন নেই সেখানে বোল্ড করা। আর যেখানে প্রয়োজন সেখানে করা হয়নি। সাব-হেডলাইনের ইউজেস প্রপারলি নেই। ভুল আছে এখানে।
সবশেষে মূল কথা হলো - বইটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যনির্ভর। বইটি হাইলি রেকমেন্ডেড।
আল বিদা।

Comments

Popular posts from this blog

মমতাদি - মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় । Momotadi by Manik Bandopadhyay

  "কেউ যা দেয় না, তুমি তা দেবে কেন?" বাক্যটির কথা সকলেরই মনে থাকার কথা৷ লাইনটুকু পড়েই খিলখিল করে হেসে উঠতো সবাই। সে হাসি দুষ্টু হাসি। ক্লাসের অন্য কোনো স্মৃতি কারও মনে না থাকলেও মমতাদিকে মনে হয়না কেউ ভুলেছে৷ মমতাদিকে ঘিরেইতো ছিলো বাংলা ক্লাসে হাসাহাসির আয়োজন। অন্তত সেই বাঙলা ক্লাসের স্মৃতিকে আগলে রাখায় মমতাদির একটি ধন্যবাদ প্রাপ্য। এখানে শিক্ষার্থীদের দোষ দিয়েও লাভ নেই। গল্পটার আংশিক ছিলো সে বইয়ে৷ মূলটুকুই দেয়া হয়েছিলো বাদ৷ ফলে মমতাদি ঠিক কেমন তা বুঝে ওঠা হয়নি কারোরই৷ তবে ক্লাসে জানা হয়নি বলে আর জানা হবে না, তা কিন্তু নয়। বেনজিন প্রকাশন কর্তৃক প্রকাশিত "মমতাদি" বইটি পড়লেই জানা যায় কে এই মমতাদি৷ বইটিতে স্থান পেয়েছে দুইটি গল্প৷ একটি "মমতাদি" এবং অপরটি "বৃহত্তর মহত্তর।" মমতাদির দু:খের জীবন যাপনের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রথম গল্পে৷ যেনো গ্রাম বাংলার সংসারের নিত্যদিনের রূপ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় চিত্রায়িত করেছেন রঙ-তুলিতে। এত দূর্দশা অত্যাচারের পরেও স্বামীর প্রতি ভালোবাসার কথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই গল্পে৷ "বৃহত্তর মহত্তর" গল্পে আবার একই মমতা...

নাজিম উদ দৌলার প্রহেলিকা । Prohelika by Nazim ud doula

  লেখক নাজিম উদ দৌলার সাথে জার্নি শুরু করেছি তার লিখিত "প্রহেলিকা" উপন্যাসিকাটির মাধ্যমে৷ পড়া শেষ৷ একটি থ্রিলার মৌলিক উপন্যাসিকা৷ শহরে বাচ্চাদের লাশ পাওয়া যাচ্ছে। প্রত্যেকের মাথা ইট অথবা পাথর দিয়ে থেতলে দেয়া৷ অবাক করার বিষয় প্রতিটা লাশের পাশেই পাওয়া যাচ্ছে খুনির ব্যবহৃত জিনিসপত্র৷ খুনি কী তবে এতই বোকা? নাকি এর পেছনে আছে অন্য কোনো ঘটনা? থ্রিলার গল্পের মাঝেও লেখক প্রেমের ঘটনা কানেক্ট করেছেন৷ চরিত্রগুলোকে করেছেন সাবলীল। এছাড়া মূল আসামীর আসামী হয়ে ওঠার গল্পও তুলে ধরেছেন লজিকালি। বাঙালি গোয়েন্দা যেভাবে কথা বলে, ঠিক সেভাবেই কথা বলিয়েছেন তিনি। ফ্ল্যাশব্যাকের সাথে গল্পের কানেকশন ভালোই। তবে একটা বিষয় একটু অবাস্তব লেগেছিলো। কাহিনীর টুইস্টগুলো ভালো৷ মজাদার। সাসপেন্সওয়ালা টুইস্ট না হলেও, টুইস্টগুলো মজাদার৷ একেক চরিত্র, একেক বিশেষত্ব, একেক কাহিনী। পুরোটাকে একটা ডটে এনে মিশিয়েছেন নাজিম উদ দৌলা। আর সে ডটটি হলো "ভালোবাসা।" মূল আসামীকে ধরার অনেক আগেই বুঝে যাওয়া যায় আসামীকে। কয়েক লাইনের কথোপকথনে একটু ভালোমতো খেয়াল করলেই বোঝা যায়৷ এছাড়া সেখানে খুনীর একটা দূর্বলতার কথা অনেক বলে দেয়া...

কাগা সিরিজ - দ্য ফাইনাল কার্টেইন । কেইগো হিগাশিনো । অনুবাদ সালমান হক । কাগা সিরিজের ১০ম বই । Kaga series - The Final Curtain by Keigo Higashino . Bengali translated by Salman Haque . Tenth book of the series .

  কাগা সিরিজের শেষ বই "দ্য ফাইনাল কার্টেইন।" সিরিজটির দশম বই এটি। একটা প্রপার এন্ডিং যেভাবে দরকার সেভাবেই দিয়েছেন কেইগো হিগাশিনো। একটি গলে যাওয়া লাশের সন্ধান পায় পুলিশ৷ পরবর্তীতে জানা যায় নামকরা অভিনেত্রীর বান্ধবী সে৷ ওদিকে একটা ব্রীজের পাশে মারা যায় এক পাগল। এ খুনগুলো কে করলো? ওদিকে কাগার ধারণা তার পারিবারিক সংযোগ আছে এই খুনের সাথে। কীভাবে? এগুলো নিয়েই সাজানো দ্য ফাইনাল কার্টেইন। কাগার মনে একটা প্রশ্ন সবসময়ই ঘুরতো। সেই প্রশ্নের জবাবও পাওয়া যায় এখানে৷ পাওয়া যায় কাগার পরিবারের আদি অন্ত। তার মায়ের ব্যাপারে জানা যায় তথ্য। এই বইয়ে যতগুলো টুইস্ট দেয়া হয়েছে তা এর আগের কাগা সিরিজের বই (৪টা) এর একটাতেও পাইনি। মাথা হ্যাং হয়ে গিয়েছিলো। প্রচুর চরিত্র৷ প্রচুর টুইস্ট৷ অনুমানের বাইরের বিষয় আরকি। কেইগো হিগাশিনো বেস্ট থ্রিলার লেখকদের মধ্যে অন্যতম। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই৷ শুধুমাত্র গোয়েন্দাগিরি, মারকাট ইত্যাদিতেই ডুবে না থেকে তুলে ধরেন সমাজের বাস্তব চিত্র। তুলে ধরেন নানা দর্শন৷ এই বইটা পড়ে পাঠকের সে বিষয়টি আরও একবার মনে পড়বে৷ প্রোডাকশন-প্রচ্ছদ সুন্দর। তবে সম্পাদনা হয়নি৷ হলেও ভালো হয়নি। অন...