মন খারাপি
নাঈম খন্দকার রুম্মান
রাত গভীর হয়। আমার মন খারাপিও বাড়ে। আকাশে চাঁদ উঠেছে কিনা ভাবতে-ভাবতে চোখ বন্ধ করি। ধীরে-ধীরে কেটে যায় অন্ধকার৷ ভেসে ওঠে মডেল একাডেমির মাঠে বসে থাকা তিনটি বেকার যুবকের গান গাওয়ার চিত্র৷ বিষণ্ণতা তাদের কোষরসে। ভুলভাল লিরিক্স আর বেসুরো সুরে গান গেয়ে পরম তৃপ্তি পায় তারা৷ যেমন তৃপ্তি পায় অভুক্ত শিশু নষ্ট খাবার পেয়ে।
পরিক্ষার পর শেষবারের মতো একত্রিত হতে সবাই বসলাম মডেলের প্যাভিলিয়নে। ঝুমঝুম করে বৃষ্টির শুরু হলো। আড্ডা হলো। গান হলো। কে জানতো— এরপর আর আমাদের দেখা হবে না? আমাদের আর একসাথে দেখা হলো না। মন খুলে কথা হলো না৷ মুখ ভরে গালাগাল করা হলো না৷ আমাদের আর এক হওয়াই হলো না।
চোখ খুলতেই দেখি আমি চার দেয়ালের মাঝে বন্দি। অন্ধকার গিলে ফেলেছে আমাকে। হাহাকার বেড়ে যায় খানিকটা। আবার ইচ্ছে হয় বেসুরো গলায় তিনজনে গান গাই। মডেলের পথে হেঁটে হেঁটে কোটি টাকার বিজনেস প্ল্যানে শামিল হই। কিংবা কোয়ার্টারে রাজনৈতিক আলাপে মশগুল থাকি। গার্ডেনের এ-মাথা হতে ও-মাথা ঘুরতে থাকি আর ফিলোসফির আলোচনা করি। সেসব দিন আজ হারিয়ে গিয়েছে। দিনগুলো আজ অতীত৷ অতীতকে তো ফেলে আসা হয়েছেই পেছনে। ও নিয়ে ভাবলে আর চলবে?
Comments
Post a Comment