মিলাদ কিয়াম
নাঈম খন্দকার রুম্মান
মাওলানা সালেহুল কল দিয়ে বললেন, "দ্রুত আসো, আমীমুল মরে গেছে।" এতটুকু বলেই কল কেটে দিলেন চরমোনাই সিলসালার মাওলানা সালেহুল। তার কথা বিশ্বাস না করার কারণ নেই। কল রাখতে রাখতেই কথা সাহিত্যিক কবি রাফিন নক দিয়ে বললেন, "দ্রুত এসো - মাওলানা ডেকেছে৷"
আমার খুব খারাপ লাগলো৷ মাওলানা আমীমুলের সাথে আমার স্মৃতি অনেক। আমার মতন তিনিও বেদাত প্রচার প্রসারে ব্যাপক কাজ করতেন৷ আমাদের বিতর্ক হতো মিলাদ কিয়াম নিয়ে৷ মিলাদ কিয়ামের আলোচনা এলেই রাগে লাল হয়ে বলতেন, "বেদাতি তোমাকে মেনে নিতেই হবে।" না মানলে দুইশ গ্রাম জিলাপি কিনে বলতেন, "এটা খাও আর মেনে নাও"। আমি তখন মেনে নিতাম৷ নিজেও মিলাদে অংশ নিতাম৷
মাওলানা আমীমুলের মৃত্যুতে আমার খুব কষ্ট হলো। জানাযা পড়ার জন্য গেলাম। আমি, সালেহুল, রাফিন এবং সোলায়মান৷ সাথে গেলো যুবদলের সভাপতি আবুল কাশাম৷ জানাযা পড়ার জন্য গেলাম মোহাম্মদপুর বসিলায়৷ পৌছুতেই দেখি দাঁড়িয়ে আছেন মাওলানা আমীমুল!
অদ্ভুত! আমরা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম মাওলানা! বেঁচে আছেন? তিনি বললেন - "ঝিন্দা ওলীকা মউত নেহি হোতা"। আমরা সবাই অবাক হয়ে রইলাম৷ যুবদল নেতা কাশাম বললেন - "বাইচে যহন আইছিস কিছু খাওয়া৷ ষোলবছর কিছু খাইনে৷"
মাওলানা আমাদের ফের খাওয়ালেন গরম গরম জিলাপি৷ আমাকে বললেন - "মিলাদ কিয়াম?" আমি বললাম - "জায়েয জায়েয৷"