আমার কেন যেন মনে হয় কবিরা দুঃখ পোষেন । তাদের ভীষণ যন্ত্রণা হয় । এই যন্ত্রণা এতটাই তীব্র যে তারা আর্তনাদের ভাষা হিসেবে কবিতাকে ব্যবহার করেন । এর জ্বলন্ত উদাহরণ প্রয়াত কবি হেলাল হাফিজ । হেলেনকে হারিয়ে বেচারা হাফিজ কবিতা লিখতে শুরু করেন । কবিতার মাঝে আর্তনাদ এতই তীব্র ছিলো যে তাতে হেলেন অবধি আক্রান্ত হন ।
কবিরা যখন কবিতা লেখে তখন বোধহয় তাদের স্মৃতির পাতার কোনো এক গল্প তাদের মনে পড়ে । যে গল্প তাদের অন্তরকে আক্রান্ত করে । দাবানল হয়ে ঝলসে দেয় তাদের হৃদয় । এসব মনে হলেই তাদের চোখ ছলছল করে ওঠে । কখনো হয়তো মন চায় ফুপিয়ে কান্না করতে । কিন্তু তা সম্ভব হয় না । তাই দুঃখগুলোকে মিশিয়ে ফেলেন শব্দে ,বাক্যে । এরপর রচনা করেন কবিতা । যে কবিতা ছেয়ে যায় পাঠকের মনে । যে বিষাদ আক্রান্ত করে কবিতা প্রেমীকে ।
আমার মনে হয় কবিরা যে সুখি ভাব ধরেন তা মিথ্যে । তারা হয়তো বোঝানোর চেষ্টা করে যে , দেখো আমি সুখি । বাস্তবে তারা খুব দু;খী । যতটা দুঃখী হয় নীল তিমি ।
"কেউ যা দেয় না, তুমি তা দেবে কেন?" বাক্যটির কথা সকলেরই মনে থাকার কথা৷ লাইনটুকু পড়েই খিলখিল করে হেসে উঠতো সবাই। সে হাসি দুষ্টু হাসি। ক্লাসের অন্য কোনো স্মৃতি কারও মনে না থাকলেও মমতাদিকে মনে হয়না কেউ ভুলেছে৷ মমতাদিকে ঘিরেইতো ছিলো বাংলা ক্লাসে হাসাহাসির আয়োজন। অন্তত সেই বাঙলা ক্লাসের স্মৃতিকে আগলে রাখায় মমতাদির একটি ধন্যবাদ প্রাপ্য। এখানে শিক্ষার্থীদের দোষ দিয়েও লাভ নেই। গল্পটার আংশিক ছিলো সে বইয়ে৷ মূলটুকুই দেয়া হয়েছিলো বাদ৷ ফলে মমতাদি ঠিক কেমন তা বুঝে ওঠা হয়নি কারোরই৷ তবে ক্লাসে জানা হয়নি বলে আর জানা হবে না, তা কিন্তু নয়। বেনজিন প্রকাশন কর্তৃক প্রকাশিত "মমতাদি" বইটি পড়লেই জানা যায় কে এই মমতাদি৷ বইটিতে স্থান পেয়েছে দুইটি গল্প৷ একটি "মমতাদি" এবং অপরটি "বৃহত্তর মহত্তর।" মমতাদির দু:খের জীবন যাপনের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রথম গল্পে৷ যেনো গ্রাম বাংলার সংসারের নিত্যদিনের রূপ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় চিত্রায়িত করেছেন রঙ-তুলিতে। এত দূর্দশা অত্যাচারের পরেও স্বামীর প্রতি ভালোবাসার কথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই গল্পে৷ "বৃহত্তর মহত্তর" গল্পে আবার একই মমতা...
Comments
Post a Comment